চার মাস ধরে খালি নতুন ভবন

গাজীপুরে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত জেলা রেজিস্ট্রার ও সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়টির নির্মাণকাজ শেষ হলেও চার মাস ধরে উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। এদিকে বছরের পর বছর ধরে ভাড়া করা দুটি ভবনে জেলা রেজিস্ট্রার ও দুটি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কার্যক্রম চালানো হলেও শুধু উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা নতুন ভবনটিতে স্থানান্তর হয়নি এ দুটি গুরুত্বপূর্ণ অফিস। ভাড়া করা ভবনে নষ্ট হচ্ছে দলিল, বালাম ও ইনডেক্সসহ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র।

জানা গেছে, বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় জেলা রেজিস্ট্রি ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিস নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের (দ্বিতীয় পর্যায়) অধীন ২০১৭ সালে শুরু করা হয় নতুন ভবন নির্মাণকাজ। যা গত বছর অক্টোবর মাসে শেষ হয়। ভবনটি নির্মাণ করতে সরকারে ব্যয় হয় প্রায় ৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। গাজীপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী স্বপন চাকমা গত বছর ২৬ অক্টোবর জেলা রেজিস্ট্রার বরারব চিঠি লিখে ভবনটি বুঝে নেওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু চার মাসেও ভবনটি বুঝে না নেওয়ায় নতুন ভবনে কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না।

এদিকে ভাড়া করা ভবন দুটিতে জেলার সাধারণ মানুষের জমির গুরুত্বপূর্ণ দলিল, বালাম ও ইনডেক্স রেকর্ড দিন দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে জেলা রেজিস্ট্রি ও সদর যুগ্ম সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে রক্ষিত রেকর্ডপত্র, দলিল ও বালাম বইগুলো দিন দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ওই ভাড়া করা ভবনের স্যাঁতসেঁতে পরিবেশের কারণে দলিল ও বিভিন্ন রেকর্ডপত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

অফিসের রেকর্ড কিপার, দলিল লেখক ও নকলনবিশরা জানান, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশের কারণে রেকর্ডপত্র এবং বালাম বইয়ের পাতা একটি আরেকটির সঙ্গে লেগে গেছে। বালাম বই খুলতে গেলে পাতা ছিঁড়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ নকল চাইলে তা দিতে হিমশিম খেতে হয়। বালামের লেখা এবং ইনডেক্সের লেখা লেপ্টে গিয়ে অস্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে কিছুদিনের মধ্যে সব রেকর্ডপত্র নষ্ট হয়ে যাবে।

গাজীপুর সদর দলিল লেখক ও ভেন্ডার কল্যাণ সমিতির সভাপতি মজিবুর রহমান জানান, গাজীপুর জেলা রেজিস্ট্রার ও দুটি সাব-রেজিস্ট্রি অফিস শুরু থেকেই ভাড়া বাসায় কার্যক্রম চলে আসছে। ওই ভবন দুটিতে প্রায় ৪০ হাজার বালাম বই, ইনডেক্সসহ নানা রেকর্ডপত্র রয়েছে। উপযুক্ত পরিবেশে এগুলো সংরক্ষণ করা না হলে এ রেকর্ডগুলো নষ্ট হয়ে যাবে।

এ ব্যাপারে গাজীপুর জেলা রেজিস্ট্রার অহিদুল ইসলাম বলেন, ‘জেলা রেজিস্ট্র্রি ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের জন্য নতুন ভবনটিতে স্থানান্তর এবং ভবনটি উদ্বোধনের জন্য বাংলাদেশ নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক (আইজিআর) বরাবর চিঠি দেওয়া হয়েছে। আইজিআরের অনুমতি পেলে যেকোনো সময় নবনির্মিত ভবনে কার্যক্রম শুরু করতে পারব।’ অন্যদিকে রেজিস্ট্রি অফিসের নতুন ভবন সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকলে অনেক নকলনবিশ ও দলিল লেখক নতুন ভবনে যেতে আগ্রহী নয়। নকলনবিশ ও দলিল লেখকদের বসার জন্য পর্যাপ্ত স্থান না থাকা, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের নিরাপত্তার অভাব, যাতায়াতের অনুবিধানসহ নানা সমস্যার অভিযোগ তুলে জেলা শহর থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে তৈরি নতুন ভবনে যেতে আপত্তি জানিয়েছেন অনেক নকলনবিশ ও দলিল লেখকরা।

সাধারণ দলিল লেখক ও নকলনবিশরা জানান, নেই দলিল লেখক ও নকলনবিশদের বসার স্থান। তার ওপর প্রত্যন্ত গ্রাম এলাকায় হওয়ায় রয়েছে টাকা-পয়সা বহনে নিরাপত্তার ঝুঁকি। তারা বলেন, ৩৫০ নকলনবিশের মধ্যে ওই ভবনে বসার স্থান রয়েছে মাত্র ২০ জনের। ৪০০ দলিল লেখকের একজনের বসার ব্যবস্থাও নেই। ভাড়া নিয়ে কাজ চালানোর মতো আশপাশে কোনো ভবনও নেই। তাছাড়া এলাকাটি সন্ত্রাসী-ছিনতাইকারী ও মাদকসেবীদের আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত। ব্যাংক না থাকায় টাকা লেনদেনেও রয়েছে মারাত্মক ঝুঁকি। তাই নিরাপত্তা, যাতায়াত ও স্থান সংকুলানের অভাবে এই মুহূর্তে নতুন ভবনে যেতে অনাগ্রহী অনেকে।