শিক্ষার্থী নির্যাতনের প্রতিবাদে রাবি শিক্ষকের অনশন

দেশের শিক্ষাঙ্গনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতিবাদ জানিয়ে একাই অনশনে বসেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা চত্বরের পশ্চিম পাশে তিনি অনশনে বসেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থিত শহীদ শামসুজ্জোহা চত্বরের পশ্চিম পাশে ইটের দেয়ালের সঙ্গে হেলান দিয়ে রয়েছেন অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান। ‘শিক্ষাঙ্গনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতিবাদে অনশন’ লেখা সংবলিত একটি হ্যান্ডবোর্ড দেয়ালে লাগানো আছে। তার সঙ্গে সংহতি জানিয়ে বেলা ১১টার সময় যুক্ত হন রাকসু আন্দোলন মঞ্চের সমন্বয়ক আব্দুল মজিদ অন্তর।  অনশন বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, সারা দেশে শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রলীগের চরম নৈরাজ্য ও নিপীড়নের প্রতিবাদে এবং দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করার দাবিতে অনশনে বসেছি। দেশজুড়ে ছাত্রলীগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর একের পর এক যে নিপীড়ন আর নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে তা রীতিমতো মানবাধিকার লঙ্ঘন। এটি মেনে নেওয়া যায় না। একজন সাধারণ শিক্ষক হিসেবে আমি ব্যথিত, ক্ষুব্ধ এবং উদ্বিগ্ন। এই নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং নির্যাতিতদের পাশে দাঁড়ানো নৈতিক দায়িত্ব মনে করছি।

প্রতিকারের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার ও দায়িত্বশীল যারা আছেন, তাদের এ বিষয়ে আরও কঠোর হওয়া দরকার। যারা অপরাধী তারা যতই শক্তিশালী হোক না কেন রাষ্ট্র ও আইনের ঊর্ধ্বে তারা নয়। তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়া হোক। বিশে^র সঙ্গে তাল মিলিয়ে আগামী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের একটা সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি করা খুব জরুরি।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে দেশরতœ শেখ হাসিনা হলের গণরুমে ডেকে রাত ১১টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত ফুলপরি নামের এক নবীন ছাত্রীকে মারধর ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। এই অভিযোগ ওঠে শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি সানজিদা চৌধুরী অন্তরা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। ওইদিন রাত ১০টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) কৃষ্ণ রায় নামের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এক ছাত্রকে হল কক্ষে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করার অভিযোগ ওঠে।