কক্সবাজারের পেকুয়ার মগনামা-কুতুবদিয়া চ্যানেলে নৌরুটের ইজারাদারের বিরুদ্ধে যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত টাকা আদায়সহ হেনস্তা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইজারাদারের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে মেয়াদোত্তীর্ণ ডেনিস বোট ও স্পিডবোট ব্যবহার এবং অতিরিক্ত যাত্রী বহনের।
জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের কোনো নিয়মই মানছেন না প্রভাবশালী ইজারাদার ও যুবদল নেতা নুরুল ইসলাম। তিনি মগনামা নুন্যারপাড়ার বিএনপি নেতা নুর মুহাম্মদ বদরের ছেলে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, পেকুয়া উপজেলার মগনামা-কুতুবদিয়া চ্যানেলে যাত্রী পারাপারে এক প্রকার নৈরাজ্যকর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। মগনামা-কুতুবদিয়া চ্যানেলের নৌরুটের ইজারাদারের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করছেন দরবার ঘাট ও বড়ঘোপ ঘাট পারাপার হওয়া হাজারো যাত্রী।
এ প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুচ চৌধুরী এ প্রতিনিধিকে বলেন, মগনামা-কুতুবদিয়া নৌরুটের ইজারাদার যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন। ঝুঁকিপূর্ণভাবে যাত্রী পরিবহন করছেন।
চেয়ারম্যান আরও বলেন, মগনামা-কুতুবদিয়া নৌরুটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে সম্প্রতি পেকুয়া উপজেলা পরিষদের মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির মিটিংয়ে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ সিদ্ধান্ত পেকুয়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইজারাদারকে জানিয়ে দেওয়া হলেও সেটি মানছেন না তারা।
মগনামা-কুতুবদিয়া নৌরুট পরিদর্শন করে দেখা গেছে, পেকুয়া উপজেলার মগনামা ঘাট থেকে ড্যানিস বোটে করে কুতুবদিয়ার দরবার ঘাট ও বড়ঘোপ ঘাট পারাপারে যাত্রীপ্রতি ২০ টাকা করে নেওয়ার কথা থাকলেও গত কয়েক দিন ধরে ইজারাদার আদায় করছেন ৪০ টাকা করে। স্পিডবোটে নেওয়া হচ্ছে জনপ্রতি ১০০ টাকার বেশি। এ ছাড়া যাত্রীর সঙ্গে থাকা মালামাল থেকেও চারগুণ টাকা আদায় করা হচ্ছে। গলাকাটা ভাড়া আদায় করতে গিয়ে প্রতিনিয়তই ইজারাদারের লোকজনের সঙ্গে যাত্রীদের ঝগড়ার ঘটনা ঘটছে।
কুতুবদিয়ার দরবার ঘাট থেকে আবদুল মোনায়েম, আবদুল মালেক, মো. করিম নামের তিন যাত্রী অভিযোগ করে বলেন, আমরা নিয়মিতভাবে ২০ টাকা দিয়ে যাতায়াত করতাম। সঙ্গে মোটরসাইকেলে নিত ৪০ টাকা ও মালামাল পরিবহন করলে নিত ৩০ টাকা। কিন্তু এখন ডেনিস বোটে পরিবহন বাবদ প্রতিজন থেকে ৪০ টাকা, মোটরসাইকেলের জন্য ১০০ টাকার ওপরে আর মালামালের জন্য নিচ্ছে চারগুণ ভাড়া। এর প্রতিবাদ করলে বোট থেকে নামিয়ে দেওয়ার হুমকি ও লাঞ্ছিত করা হয়। একই কথা বলেছেন বড়ঘোপ থেকে আসা অসংখ্য যাত্রী।
নৌরুটটির ইজারাদার ও যুবদল নেতা নুরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, যাত্রী পারাপারে ২০-৩০ টাকা নিলে ইজারার টাকা উঠে আসবে না। ব্যবসায় লস হবে। তাই ইজারার টাকা ওঠাতে যাত্রীপ্রতি ৪০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। কোনো যাত্রীকে হয়রানি করা হচ্ছে না।
পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পুর্বিতা চাকমা বলেন, প্রশাসন নির্ধারিত ভাড়া আদায়ের জন্য ইজারাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হলে ইজারাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।