রাঙ্গাবালীতে নদীতীরের মাটি কেটে মাছের ঘের

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে নদীর তীরভূমি এক্সকাভেটর দিয়ে কেটে বাঁধ দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে মাছের ঘের। আবার কেউ কেউ নদীর তীরে জেগে ওঠা নতুন চরের মাটি কেটে বাঁধ দিচ্ছেন। এসব স্থানেও  করা হবে মাছের ঘের। এভাবে বেদখল হয়ে যাচ্ছে নদীর তীরভূমি। উপজেলা প্রশাসন সরকারের খাসজমি রক্ষায় অভিযান চালালেও বন্ধ হচ্ছে না নদীর তীরভূমি দখল।

গত বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, রাঙ্গাবালী উপজেলার বিচ্ছিন্ন ইউনিয়ন মৌডুবির আশাবাড়ীয়া গ্রামের দাড়ছিঁড়া শাখা নদীর তীরভূমি ঘেঁষে এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কেটে বাঁধ দিয়ে মাছের ঘের তৈরির কাজ চলছে। নদীর তীরভূমির মাটি কাটতে গিয়ে প্রাকৃতিক বনের গাছও কেটে ফেলা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, ১২ দিন আগে থেকে এভাবে শাখা নদীর চর দখল চলছে। উপজেলা প্রশাসনের লোকজন মাটি কাটা বন্ধে নির্দেশ দিলেও তা বন্ধ হচ্ছে না। এখন রাতে মাটি কাটার কাজটি করা হচ্ছে। স্থানীয় শাহীন মৃধা নামে এক ব্যক্তি এই মাছের ঘেরটির মালিক।

স্থানীয়রা আরও জানান, একসময়ের গভীর ও খরস্রোতা দাড়ছিড়া শাখা নদীটি এখন অনেকটা শুকিয়ে গেছে। আর নদীর তীরভূমি ভরাট হয়ে যাওয়ায় স্থানীয়রা এখন তীরভূমি ঘেঁষে মাছের ঘের করছে। এতে করে নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং দুই তীরে চর পড়ে আছে। ফলে ছোট হচ্ছে দাড়ছিড়া নদী।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘নদীর তীরভূমির মাটি কেটে বাঁধ দেওয়ার খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। স্থানীয় শাহীন মৃধা যে ঘের করছেন, ওই ঘেরে খাসজমি রয়েছে এবং এ কারণে নদীর তীরভূমি থেকে মাটি কাটা বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

তবে শাহীন মৃধা খাসজমি দখলের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার কাছে সব কাগজপত্র আছে। মাছের ঘের তৈরির সব জমি আমার রেকর্ডীয়। পাঁচ একর আয়তনের এই মাছের ঘের করতে গিয়ে প্রাকৃতিক বনের কিছু গাছ কাটা পড়েছে সত্য। তবে এসব গাছ আমার জমিতে।’

এদিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বিচ্ছিন্ন চর কাসেমেও নদীর তীরভূমি এক্সকাভেটর  দিয়ে মাটি কেটে বাঁধ দিয়ে মাছের ঘের তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এক সপ্তাহ ধরে এই চরে বুড়াগৌড়াঙ্গ নদের তীরে জেগে ওঠা চরের মাটি এক্সকাভেটর দিয়ে কেটে বাঁধ দিয়ে মাছের ঘের তৈরির কাজ চলছে। এক্সকাভেটরের মালিক জাকির সিকদার জানান, চুক্তিতে তিনি ওই এলাকার ওহিদুল গাজীর মাছের ঘের তৈরিতে মাটি কেটে বাঁধের কাজ করছেন।

উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা আ ন ম মুরাদুল ইসলাম বলেন, ‘চর কাসেমে নদীর তীরভূমি সরকারের খাসজমি। তাদের মাটি কাটা বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছি।’

এদিকে, ওহিদুল গাজী এই নদীর তীরভূমি তার রেকর্ডীয় জমি দাবি করে বলেন, ‘নিজেদের জমিতে আমি ঘের করছি।’

রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সালেক মূহিদ বলেন, ‘মৌডুবি ইউনিয়নের আশাবাড়ীয়া ও চর কাসেমে নদীর তীরভূমির মাটি কেটে মাছের ঘের করার খবর পেয়েছি। এই অবৈধ কাজ বন্ধ করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অভিযান চালিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’