২৮ বছর পর গ্রেপ্তার ধর্ষণ হত্যা মামলার আসামি

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামি আব্দুর রাজ্জাককে দীর্ঘ ২৮ বছর পর গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। গত শনিবার গভীর রাতে গাজীপুরের গাছা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পর রাজ্জাক ঢাকায় এসে কখনো রিকশা, কখনো অটোরিকশা চালিয়েছেন। একপর্যায়ে জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) নিজের নাম পাল্টে আব্দুর রাজ্জাক থেকে হয়ে যান জাকির হোসেন। এভাবেই নিজের নাম আর বেশভূষা পাল্টে দীর্ঘ সময় পালিয়ে বেড়ানোর পর অবশেষে গ্রেপ্তার হন।

গতকাল রবিবার দুপুরে রাজধানীর টিকাটুলী র‌্যাব-৩-এর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক লে. কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ এসব তথ্য জানান।

জানা গেছে, আব্দুর রাজ্জাকের বাড়ি নেত্রকোনার কলমাকান্দার হাপুনিয়া গ্রামে। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সেখানেই বসবাস করতেন। ১৯৯৫ সালের এপ্রিলে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের পর পালিয়ে ঢাকায় চলে আসেন তিনি। একই মামলায় ফাঁসির দণ্ড পেয়েছেন আরও পাঁচ আসামি এবং যাবজ্জীবন দেওয়া হয়েছে সাতজনকে।

অধিনায়ক লে. কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, আব্দুর রাজ্জাক এক সন্তানের বাবা হওয়া সত্ত্বেও বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকতেন। এ নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে তার ঝগড়া লেগেই থাকত। কলহের জেরে একপর্যায়ে সন্তান নিয়ে তার স্ত্রী অন্যত্র চলে যান। সে সময় রাজ্জাক প্রতিবেশী এক কিশোরীকে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হওয়ায় মেয়েটিকে হত্যার হুমকি দেন। একপর্যায়ে পরিকল্পনা করে ১৯৯৫ সালের ১৩ এপ্রিল রাতে আব্দুর রাজ্জাকসহ তার সহযোগীরা মেয়েটিকে মুখে গামছা পেঁচিয়ে তুলে নিয়ে যায়। পাউরা গ্রামের একটি হাওরে নিয়ে ১২ জন মিলে তাকে ধর্ষণ করে। এ সময় ভুক্তভোগী চিৎকার করতে থাকলে রাজ্জাক তার গলাটিপে ধরে এবং অন্যরা মারধর করতে থাকে। এতে একপর্যায়ে মেয়েটি মারা যায়। পরে মরদেহ বস্তায় ভরে মাটিতে পুঁতে রেখে পালিয়ে যায় সবাই। ঘটনার পাঁচদিন পর কিশোরীর মরদেহ হাওর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় আব্দুর রাজ্জাককে এক নম্বর আসামি করে ১০ জনের নামে ধর্ষণ ও হত্যা মামলা করেন নিহতের বাবা।