ইসলাম সব ভাষাকে সম্মান করতে শেখায়। কারণ সব ভাষাই আল্লাহর দান ও তার কুদরতের নিদর্শন। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘আর তার নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য।’সুরা আর রুম : ২২
মা, মাতৃভাষা ও মাতৃভূমিএ তিনটি শব্দ প্রতিটি মানুষের কাছে পরম আবেগের। মাতৃভাষা মানে মায়ের ভাষা। ইসলামে মাতৃভাষার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। মানুষের প্রতি আল্লাহতায়ালার যেসব নেয়ামত ও দানের কথা চিরস্মরণীয়, ভাষা তার অন্যতম। কোরআন মাজিদে বর্ণিত হয়েছে, ‘তিনিই সৃষ্টি করেছেন মানুষ। তিনিই তাকে শিখিয়েছেন ভাব প্রকাশ করতে।’সুরা আর রাহমান : ৩-৪
মানুষের মুক্তির পয়গাম নিয়ে পরিপূর্ণ জীবন পরিচালনার ক্ষেত্রে সব ধরনের সমস্যার কঠিন ও নির্ভুল সমাধানের নিমিত্তে যুগে যুগে মহান আল্লাহ যত নবী-রাসুল প্রেরণ করেছেন, সবাইকে স্বজাতীয় ভাষায় পাণ্ডিত্য দান করে প্রেরণ করেছেন এবং সব আসমানি কিতাবকে তাদের নিজ নিজ মাতৃভাষায় অবতীর্ণ করেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘আমি প্রত্যেক রাসুলকেই তার স্বজাতির ভাষাভাষী করে পাঠিয়েছি তাদের কাছে পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করার জন্য, আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং যাকে ইচ্ছা সৎপথে পরিচালিত করেন এবং তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’সুরা ইবরাহিম : ৪
যদি পবিত্র কোরআন হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মাতৃভাষায় অবতীর্ণ না করতেন, তাহলে আরবের মূর্খ পণ্ডিতরা কী করত এ প্রসঙ্গে মহান প্রভু বলেন, ‘আমি যদি আজমি ভাষায় কোরআন মাজিদ অবতীর্ণ করতাম, তবে তারা অবশ্যই বলত এর আয়াতগুলো বিশদভাবে বিবৃত হয়নি কেন? কী আশ্চর্য যে, কোরআন আজমি অথচ রাসুল আরবি!’সুরা হামিম আস সিজদা : ৪৪
এ ছাড়া সুন্দর ও বিশুদ্ধ ভাষায় কথা বলা উন্নত ব্যক্তিত্বের পরিচায়ক। ধর্ম প্রচারে শুদ্ধ ভাষা ও সুন্দর বর্ণনার প্রভাব অতুলনীয়। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আমি আরবের শ্রেষ্ঠ বিশুদ্ধভাষী।’মিশকাত শরিফ
তাই বিশুদ্ধভাবে মাতৃভাষায় কথা বলা সুন্নত। মাতৃভাষাপ্রীতি সঞ্চারিত হয়েছে ইসলামে মাতৃভাষার ওপর অত্যধিক গুরুত্বারোপের কারণে। সুতরাং নিজ
মাতৃভাষা বাংলা ভাষার স্বকীয়তা রক্ষা করা আমাদের ওপর অপরিহার্য। নবী করিম (সা.)-এর কাজের দায়িত্ব যেহেতু আমাদের ওপর অর্পিত হয়েছে, তাই নিজ
মাতৃভাষায় অভিজ্ঞতা অর্জন করে মানুষের সামনে ইসলামের সঠিক মর্মবাণী বিশুদ্ধভাবে সুন্দর ও সাবলীল ভাষায় উপস্থাপন করা আমাদের ওপর অবশ্যই কর্তব্য।