যাত্রাপুরে ফুলকপি-বাঁধাকপির জোড়া ১০ টাকা

কুড়িগ্রামের যাত্রাপুরে বাঁধাকপি ও ফুলকপির জোড়া ১০ টাকায় বিক্রি করছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। মঙ্গলবার এমনি চিত্র দেখা গেছে সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের যাত্রাপুর হাটে।

এখানে প্রতি পিস বাঁধাকপি ও ফুলকপি পাঁচ টাকা দরে বিক্রি করছেন চাষিরা। হাটে এসব সবজির আমদানি বেশি থাকায় বেশি ক্রেতাও পাচ্ছেন না তারা।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে জেলায় বিভিন্ন শাক সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল সাত হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে। তবে চাষ হয়েছে ৭ হাজার ৪০০হেক্টর জমিতে।

যাত্রাপুর হাটে কথা হয় সদরের ঘোগাদহ ইউনিয়নের চৈতের খামার গ্রামের জিয়াউর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘জমি থেকে তুলে প্রায় সাড়ে ৪০০ বাঁধাকপি বিক্রি করতে আনছি এ হাটে। দাম দিছি প্রতি পিচ পাঁচ টাকা, তাও ক্রেতা সংকট। আমরা এক বিঘা জমিতে বাঁধাকপির আবাদ করছি। বাজারে প্রচুর আমদানি থাকায় বিক্রি হচ্ছে না। পরে যে কী হবে বলা মুশকিল’।

কাশেম নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘এক কৃষকের ফুলকপির খেত কিনেছি। ১ হাজার ফুলকপি নিয়ে আসছি, হাটে ক্রেতা একেবারে কম। জোড়া ১০ টাকা করে দিছি তাও কাস্টমার কম। শেষের দিকে মনে হয় তিনটা ১০ টাকা করে বিক্রি করতে হবে। তারপরও যে কী হবে বলা যাচ্ছে না’।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ বিপ­ব কুমার মোহন্ত বলেন, জেলায় এবার বিভিন্ন শাক-সবজি প্রায় ৭ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছে। যেকোনো সবজির আমদানি বেশি থাকায় দামটা একটু কমে যায়। ফুলকপি ও বাঁধাকপির বেলায়ও তাই হচ্ছে। তারা যদি স্থানীয় বাজারে বিক্রি না করে বাইরে বিক্রি করত, তাহলে দাম এত কম হতো না। এ ছাড়া মৌসুম শেষের দিকে মানুষ আর এসব সবজি খেতে চায় না।