বাজারে চাল, ডাল, চিনি, ব্রয়লার মুরগি, ভোজ্য তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েই চলেছে। থেমে নেই কাঁচা বাজারে শীতকালীন সবজির দামও। চড়া দামে ক্রয় করতে হচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় এসব দ্রব্য মূল্যে। ফলে বিপাকে পড়েছেন রংপুর, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়য়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থীরা।
জানা যায়,দেশের প্রায় সকল জেলা থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা এসে পড়ালেখা করছেন। তবে উত্তর বঙ্গের নিম্ন আয়ের জেলা রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, নীলফামারীর নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীরা বেশি। ফলে দাম বৃদ্ধি নিয়ে দুশ্চিন্তায় তারা।
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী আবাসন সুবিধার বাইরে থাকায় তাদের মেস বা বাসা ভাড়া করে থাকতে হয়। বাজারে দাম বৃদ্ধির অজুহাতে ইতোমধ্যে মেস ও বাসার ভাড়া বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছেন মালিকরা। অনেক মেসেই ভাড়া বেড়েছে গত বছরের চেয়ে ২০০-৫০০।
আগে মেসে প্রতিবেলা খাবার খরচ গড়ে ২৫-৩০ টাকা হলেই পাওয়া যেত। কিন্তু বর্তমানে এ খরচ গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৪০-৫০ টাকায়। খরচ কমাতে শিক্ষার্থীরা বেশিরভাগ সময়ে মাছ-মাংসের চেয়ে ডাল,ভর্তা সবজি দিয়েই খাবার চালাচ্ছেন।
সরেজমিনে মঙ্গলবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ক্যাম্পাস সঙ্গলগ্ন চকবাজারে গিয়ে দেখা যায়,মোটা চালের দাম দোকানভেদে ৪৮-৫২ টাকা এবং চিকন চাল ৬৫-৭০ টাকা কেজি এবং বোতলজাত সয়াবিন তেল লিটারে ২০০টাকা। প্রতি কেজি ডাল ১০০-১১০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৭০-২০০ টাকা,পেঁয়াজ ৩০-৩৫টাকা এবং আলু ২০-৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
প্রতিকেজি বয়লার মুরগী ২২০-২৪০টাকা এবং পালক ছাড়া ৩৪০- ৩৫০ টাকা। রুইমাছের কেজি ২৫০-২৮০ টাকা ও পাঙ্গাস ১৬০-১৮০ টাকা। প্রতি হালি ডিম দোকানভেদে ৪৪-৪৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বেরোবির নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীরা টিউশন ও খণ্ডকালীন চাকরি থেকে পড়াশোনার খরচ জোগানোর চেষ্টা করেন। বাজারে দাম বাড়লেও, টিউশন কিংবা খণ্ডকালীন চাকরির বেতন বাড়েনি। ফলে খরচের হিসেব মেলাতে দুশ্চিন্তায় তারা।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী সবুজ বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের এমন দামে খুবই কষ্টের মধ্যে দিন যাচ্ছে। আলু ভর্তা, সবজি করেই খাবার খেতে হচ্ছে নিয়মিত। মাছ-মাংস খাওয়া কমিয়ে দিয়েছি।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল গুলোতে খাবারের দাম না বাড়লেও মান কমেছে বলে জানান শিক্ষার্থীরা। মান কমিয়ে দামের সাথে সামঞ্জস্য রাখার চেষ্টা করছে হল প্রশাসন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ বিজন মোহন চাকী দেশ রূপান্তরকে বলেন, সারা দেশে দ্রব্য মূল্যের ঊর্ধ্বগামীর প্রভাব আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়েও এসে পড়েছে। ফলে খাবারের দাম ও মানে একটু ওঠানামা হচ্ছে।