শহীদদের প্রতি দুই বাংলার বাংলাভাষীদের শ্রদ্ধা

দিনাজপুরের হিলি সীমান্তে ভারত-বাংলাদেশ যৌথভাবে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করেছেন। দুই বাংলার বাংলা ভাষাভাষীরা যৌথভাবে সীমান্তের অস্থায়ী শহীদ মিনারের বেদিতে ফুল দিয়ে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

ভারতের উজ্জীবন সোসাইটি, জয়েন্ট মুভমেন্ট কমিটি ফর করিডর, বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও সাপ্তাহিক আলোকিত সীমান্ত পত্রিকা যৌথভাবে এই আয়োজন করে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় ভারতের ১৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল হিলি সীমান্তের চেকপোস্ট দিয়ে প্রবেশ করে। পরে দুই দেশের আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে ফুল বিনিময় করা হয়। এরপর সবাই মিলে সীমান্তের চেকপোস্ট গেট সংলগ্ন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ের পাশে স্থাপিত অস্থায়ী শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। দুই দেশের শিল্পীরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কবিতা ও গান পরিবেশন করেন।

দুই দেশের যৌথ আয়োজনে ২০১৫ সাল থেকে সীমান্তের শূন্যরেখায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়ে আসছে। করোনা মহামারীর কারণে দুই বছর সীমিত পরিসরে এই আয়োজন করা হয়েছে।

এ সময় হাকিমপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন উর রশীদ, ভাইস চেয়ারম্যান শাহিনুর রেজা, পৌর মেয়র জামিল হোসেন, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার লিয়াকত আলী, মুক্তিযোদ্ধা সামসুল ইসলাম, সাপ্তাহিক আলোকিত সীমান্তের সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সোহরাব হোসেন ও ভারতের উজ্জীবন সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক সুরুজ দাশসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

উজ্জীবন সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক সুরুজ দাশ বলেন, ‘আজ আমরা এই বার্তাই দিতে চা যে বিভেদের বেড়া মুছে গিয়ে সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে পড়ুক। আমরা প্রতি বছর মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে সীমান্তে আসা শ্রদ্ধায় স্মরণে মননে আমরা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করি। আমরা চাই আগামীতে বাংলা ভাষা সারা পৃথিবীকে পথ দেখাবেÑ এই আশায় আমরা মিলিত হই।’

ভারতীয় সাহিত্যিক রজত দাস বলেন, ‘বাংলাদেশে এসে মৈত্রীর মাধ্যমে আমরা আজ এই অনুষ্ঠান করছি।’