রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ভোটদানে বিরত বাংলাদেশ

ইউক্রেন থেকে সেনা প্রত্যাহার এবং যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ একটি প্রস্তাব পাস করেছে। প্রস্তাবে ভোটদানে বিরত থেকেছে বাংলাদেশসহ ৩২ দেশ।

রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধের প্রথম বার্ষিকীতে বুধবার জাতিসংঘে দুদিনের বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। অধিবেশনের দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার সাধারণ পরিষদের জরুরি বিশেষ অধিবেশনে ১৪১ বোটে ওই প্রস্তাব পাস হয়।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, জাতিসংঘ নীতির অন্তর্নিহিত তাৎপর্য অনুযায়ী ইউক্রেনে একটি ন্যায্য ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা শীর্ষক রেজুলেশনটি পাস হয় চলতি সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে। রেজুলেশনটির ভোটাভুটিতে পক্ষে ১৪১, বিপক্ষে সাত এবং ভোটদানে বিরত ছিল ৩২ দেশ।

বাংলাদেশসহ ভোটদানে বিরত দেশের তালিকায় রয়েছে, ভারত, চীন, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকা, কিউবা, কঙ্গো, আর্মেনিয়া ও ভিয়েতনাম।

সাবেক সোভিয়েত রাশিয়াভুক্ত কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, এবং উজবেকিস্তানও এ প্রস্তাবের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ অবস্থান প্রকাশ করেছে।

অন্যদিকে নেপাল, ভুটান, আফগানিস্তান ও মালদ্বীপ পক্ষে ভোট দেয়। ১০ সদস্য বিশিষ্ট আসিয়ানের আটটি দেশ পক্ষে ভোট দেয়।

রেজুলেশনের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে বেলারুশ, সিরিয়া, উত্তর কোরিয়া, মালি, ইরিত্রিয়া এবং রাশিয়া।

বর্তমানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, পশ্চিমা ও ইউরোপের দেশগুলো একটি রেজুলেশন এনেছে। রেজুলেশনটা কিছুটা একপেশে। সেখানে রাশিয়াকে দোষ দেওয়া হয়েছে। এটা আমরা কিছু মডিফিকেশনের জন্য বলেছিলাম। আমরা কিছু শব্দ পরিবর্তনের জন্য বলেছিলাম। আমরা শান্তিপ্রিয় দেশ। আমরা যুদ্ধ চাই না। আমরা বলেছিলাম, আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ একটা সমাধান। কিন্তু তারা আমাদের এই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। আমাদের প্রতিবেশী ভারত, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান সবাই ভোটদান থেকে বিরত থেকেছে। আমরাও এটা থেকে বিরত থেকেছি।

প্রসঙ্গত, এক বছর ধরে চলমান এই যুদ্ধের মধ্যে ছয়টি বড় প্রস্তাব পাস হয়েছে। বৃহস্পতিবার পাস হওয়ার প্রস্তাবটিকে নন বাইন্ডিং রেজুলেশন বলা হচ্ছে। অর্থাৎ এটি মানার ক্ষেত্রে কোনো দেশের ওপর আইনগত বাধ্যবাধকতা নেই।

বাংলাদেশের এই ভোটদানে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত সঠিক বলে মনে করেন সাবেক পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক। তিনি বলেন, আমি মনে করি এটি সঠিক সিদ্ধান্ত। পক্ষে ভোট দিলে পশ্চিমা বিশ্বের দিকে বাংলাদেশ বেশি ঝুঁকে পড়েছে বলেই মনে হতো। তা ছাড়া এ ধরনের রেজুলেশন যুদ্ধরত দুপক্ষের জন্য গ্রহণযোগ্য না হলে সেটি যতই গ্রহণ করা হোক তাতে কোনো প্রভাব রাখে না। এই রেজুলেশন রাশিয়ার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি।

তিনি বলেন, এখানে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য উভয় পক্ষের মুখরক্ষা করতে হবে। যুদ্ধ বন্ধ করতে হলে দুই পক্ষকে কম্প্রোমাইজ করতে হবে।

এর আগের রেজুলেশন গ্রহণের সময় ১৪৩ দেশ পক্ষে ভোট দিয়েছিল।