নির্দিষ্ট ফ্রেমে আবদ্ধ হতে চান না রুম্মান

অল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্পে ইতিবাচক ইমেজ গড়ে তুলেছে পেন্ডুলাম প্রকাশনী। তরুণ প্রকাশক রুম্মান তার্শফিকের প্রকাশনীর বই পাঠক-লেখক পরিম-লে প্রশংসা পেয়েছে। ২০১৮ সালে পেন্ডুলামের যাত্রা শুরু। রুম্মান তখন সিটি ডেন্টাল কলেজের শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থী অবস্থায় প্রকাশনা ব্যবসায় সম্পৃক্ত হওয়া নিঃসন্দেহে সাহসিকতার কাজ। রুম্মান সেই সাহসী কাজ করছেন অনায়াসে। তবে প্রকাশনা ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার আগে এক বছর চৈতন্য প্রকাশনীতে কো-অর্ডিনেটর হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার ঝুলি ভারী করেছেন। পেন্ডুলাম প্রতিষ্ঠায় এই অভিজ্ঞতা ভীষণ কাজে লেগেছে জানান এই তরুণ প্রকাশক। রুম্মানের কাজের মধ্যে অন্যতম সাহসী কাজ হলো প্রতিষ্ঠিত লেখকদের প্রকাশিত বইকে নতুনভাবে প্রকাশ করা। প্রকাশিত বইয়ের নতুন সংস্করণ সব সময় পুরনো সংস্করণের সঙ্গে তুলনীয় হয় বলেই প্রকাশিত বইয়ের পুনঃপ্রকাশ সবসময় ভীষণ চ্যালেঞ্জের হয়ে থাকে। শুধু তাই নয়। অন্য প্রতিষ্ঠিত প্রকাশকরাও যে কাজে দ্বিধা করেন রুম্মান সাহসের সঙ্গে সেই নতুন লেখকদের বইও প্রকাশ করছেন জোরেশোরে। বইয়ের সঙ্গে সখ্য কীভাবে হলো জানতে কথা বলি রুম্মানের সঙ্গে। তিনি জানান, বাবার একজন মামাতো ভাই প্রায় নিয়মিত আমাদের বাসায় আসতেন। কাকা তার পড়া বইগুলোর গল্প আমাদের মুখে মুখে শোনাতেন। এই গল্প শোনা থেকেই বইয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়।

সাধারণত বইয়ের প্রতি আগ্রহ থেকে একজন ব্যক্তি লেখক হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। রুম্মান তার ব্যতিক্রম। ছোটবেলা হতে চাইতেন ট্রাফিক পুলিশ। মুখে বাঁশি, হাতের ইশারায় থেমে যাচ্ছে সব বিশালকায় যানবাহন এসব দেখে ট্রাফিক পুলিশ ভীষণ সুখী আর শক্তিশালী মনে হতো তার। কিন্তু আরেকটু বয়স বাড়লে আর বইয়ের আনন্দময় ভুবনের সঙ্গে পরিচয় ঘটার পর প্রকাশকই হতে চেয়েছেন।

প্রকাশক হিসেবে নিজের এই যাত্রাটি উপভোগ করছেন বলে জানান এই প্রকাশক। তিনি বলেন, একজন তরুণ প্রকাশক হিসেবে পথ চলা বেশ কঠিন। তবে আমাকে লেখক ও পাঠকরা বেশ সাহায্য করেছেন, শুরু থেকে। কভিড মহামারীতে শুধু পেন্ডুলাম নয়, সব প্রকাশনীই ধাক্কা খেয়েছে। আমি নিজে অসুস্থ ছিলাম। বিক্রি তেমন হয়নি। কিন্তু কভিড আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। আমরা আশাবাদী এ সংকট কাটিয়ে উঠতে পারব। 

প্রকাশনা শিল্পের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো কী জানতে চাইলে জানালেন, নতুন বই প্রকাশ করাটাই চ্যালেঞ্জ। আসলে মানসম্মত বই প্রকাশ করাটা সবসময়ই কঠিন। আবার মানসম্মত বই তৈরি হওয়ার পর সেটার বিপণন ব্যবস্থার রয়েছে অভাব। বিপণন ব্যবস্থা ভালো হলে প্রকাশিত বই আরও ভালো বিক্রি হতো, নতুন পাঠক বৃদ্ধি পেত।

রুম্মান বিশ্বাস করেন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা আছে, থাকবে একে জয় করেই এগিয়ে যেতে হবে। নিজেকে তরুণ প্রকাশক বা নারী প্রকাশকের ফ্রেমে আবদ্ধ করতে নারাজ রুম্মান। তিনি জানান, এভাবে শ্রেণিভেদ করতে গেলে কাজের মনোযোগ নষ্ট হয়। মানসম্মত কাজ করা যায় না। তাই নিজের সম্পূর্ণ মনোযোগ ধরে রাখতে চান মানসম্মত বইয়ের প্রকাশে। সৃজনশীল ও মননশীল বইয়ের জগতে সৃষ্টি করতে চান পেন্ডুলামের স্বকীয় অবস্থান।