দক্ষিণ আফ্রিকার সড়কে ৫ জন নিহত

ঈদে বাড়ি আসার অপেক্ষায় ছিলেন স্বজনরা

ঈদে বাড়ি আসার কথা ছিল তাদের। স্বজনরা ছিলেন অপেক্ষায়। কিন্তু স্বজনদের হৃদয় ভেঙে দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনের সড়ক দুর্ঘটনা। একসঙ্গে নিহত ফেনীর পাঁচ প্রবাসী। তাদের পরিবারে এখন চলছে মাতম।

গত শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে কেপটাউনে যাওয়ার পথে বাফেলো এলাকায় মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে নিহত হন ফেনী সদর উপজেলার ইসমাইল হোসেন, দাগনভূঁইয়ার রাজু আহমেদ ও মো. মোস্তফা কামাল, সোনাগাজীর আবুল হোসেন ও নাদিম হোসেন।

ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের বিরলী গ্রামের ইসমাইল হোসেনের পরিবার ভেঙে পড়েছে তার মৃত্যুর শোকে। গতকাল শনিবার তার বাবা শরীয়ত উল্লাহ দেশ রূপান্তরকে বলছিলেন, ‘দুই মাস পরে আমার ছেলের দেশে আসার কথা ছিল। পরিবারের সবাই সেই অপেক্ষাতেই ছিলাম। দেশে ফিরলে তাকে বিয়ে করাব। তার জন্য পাত্রী দেখা হয়েছিল।’

ইসমাইলের শোকে পরিবারের সবাই বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। ছেলের লাশটা যেন দেশে আনা হয় সেজন্য প্রশাসনের সহযোগিতা চান তার বাবা। তার কথা, ‘ছেলের মুখটা দেখতে চাই।’

দাগনভূঁইয়ার মাতুভূঞা ইউনিয়নের নেয়াজপুরের রাজু আহমেদ ২০০৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমান। অন্য ভাই কুয়েতে থাকেন। এবার দুজনেই রমজান মাসে একসঙ্গে ঈদ করার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু সেটা আর হলো না।

একই উপজেলার জয়লস্কর ইউনিয়নের দক্ষিণ নেয়াজপুর গ্রামের হকু মিঞার ছেলে মোস্তফা কামালের পরিবারের সদস্যরা বলেছেন, তার লাশ যেন দ্রুত দেশে পাঠানো হয়। এর জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে আবেদন জানান তারা। তার দুই বছর বয়সী একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।

সোনাগাজী উপজেলার আবুল হোসেনের একমাত্র সন্তান নাদিম হোসেনকে (১০) নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাস করছিলেন। অনেক দিন হলো দেশে আসেননি। দিন পাঁচেক আগে হঠাৎ তার বাবাকে ফোন দিয়ে বলেন, ছেলে নাদিম হোসেনকে নিয়ে ঈদুল ফিতরের সময় বাড়ি ফিরবেন। কিন্তু ঈদে আর বাড়ি ফেরা হবে না তার।

গতকাল সোনাগাজীর দক্ষিণ চর মজিলিশপুর গ্রামে আবুল হোসেনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে মাতম চলছে। তার বাবা জামাল উদ্দিন বলেন, পরিবারের হাল ধরেছিলেন আবুল হোসেন। তার টাকায় একটি পাকা বাড়িও করেছেন। ছেলে আর নাতির মুখ দেখা হলো না আর।

জেলা প্রশাসক আবু সেলিম মাহমুদ-উল হাসান বলেন, নিহতদের বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নিয়ে তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।