কল্লোল লাহিড়ীর ‘ইন্দুবালা ভাতের হোটেল’ উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে ওয়েব সিরিজ। আর এটি দিয়ে প্রথমবারের মত ওটিটিতে অভিষেক ঘটতে যাচ্ছে অভিনেত্রী শুভশ্রী গাঙ্গুলির। দেবালয় ভট্টাচার্য পরিচালিত এ সিরিজে বৃদ্ধা ইন্দুবালা রূপে হাজির হয়ে রীতমত দর্শকদের চমকে দিয়েছেন অভিনেত্রী। সদ্য মুক্তি পাওয়া ট্রেলারে তার অভিনব লুক আর উপস্থিতিতে ভাসছেন প্রশংসায়। আগামী ৮ মার্চ হইচই-তে মুক্তি পাবে সিরিজটি। সম্প্রতি সিরিজ ও নানা বিষয় নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেন শুভশ্রী। তারই চুম্বকাংশ এখানে তুলে ধরা হয়েছে।
দীর্ঘ বিরতির পর এক নতুন ফেরা। প্রথম ওয়েব সিরিজেই ৭৫ বছরের বৃদ্ধা চরিত্রে অভিনয় করতে রাজি হওয়ার কারণ কি এবং এতে কতটা চ্যালেঞ্জ মনে হয়েছে, এমন প্রশ্নে শুভশ্রী বলেন, ‘যদি চ্যালেঞ্জিং কোন চরিত্র হয় আর সেটা যদি আমাকে রাতে ঘুমাতে না দেয় তাহলে আমি সে চরিত্রটা করতে চাই। এটা এমন একটা চ্যালেঞ্জিং চরিত্র যেটা আমাকে বাড়ি থেকে টেনে বের করবে এবং আলাদা একটা তৃপ্তি দেবে। সহজভাবে যদি বলা হয়, ইন্দুবালার প্রথম চ্যালেঞ্জই ছিল যে, ৭৫ বছর বয়সীর ভূমিকায় আমাকে স্ক্রিনে আসতে হবে।
মূলত, ইন্দুবালা চরিত্রের জার্নির কারণেই কাজটি করতে রাজি হয়েছি। যদি এই চরিত্রটি করতে রাজি না হতাম, তাহলে বোকামি হতো। এমন একটা চরিত্র পাওয়ার জন্য সব শিল্পীই মুখিয়ে থাকবে। ইন্দুবালার চরিত্রটা যে ফর্মেই হতো, আমি সবকিছুতেই রাজি হতাম।’
চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে অভিনেত্রী আরও বলেন, ‘একজন বৃদ্ধার হাঁটা-চলা, কথা বলা তুলে ধরা তো সহজ নয়।খুবই কঠিন ছিল। তার মানসিকতা কেমন হতে পারে সেটা ভেবে নিতে হয়েছে। যখন আমি ‘পরিণীতা’ সিনেমার মেহুল চরিত্রটি করেছিলাম তখন ঠিক ছোটবেলায় ফিরে গিয়েছিলাম। কিন্তু এটার (ইন্দুবালা) ক্ষেত্রে তো আমার তেমন কোন অভিজ্ঞতা নেই। সেখানে নিজেকে নিয়ে যেতে হয়েছে এবং বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে হয়েছে।
তবে সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জ ছিল কণ্ঠস্বর। চলাফেরা, শরীরী ভাষা, তাকানো, সবকিছু করে নিতে পারব জানতাম কিন্তু অনেক বেশি নার্ভাস ছিলাম কণ্ঠস্বর নিয়ে। এর জন্য অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়েছে। তারপর ডাবিংয়ে গিয়ে নানারকম ভয়েস ট্রাই করার পর পরিচালকের যেটা পছন্দ হয়েছে, সেটা আমরা রেখেছি। অনেকের হয়তো পছন্দ হবে, অনেকের হবে না। কিন্তু আমার পরিচালক যেখানে হ্যাপি, সেখানে আমি খুবই খুশি।’
‘চরিত্রটি নির্মাণে প্রস্থেটিকের একটা ভূমিকা রয়েছে। এখানে আরেকটা চ্যালেঞ্জ ছিল মেকআপটা যেন জাস্টিফাই করতে পারি এবং নিজের সেরাটা দেওয়া। নিশ্চয়ই মেকআপ নিয়ে কথা হবে, আমার অভিনয় নিয়েও কথা হবে। এটা আমার কাছে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। আমি আমার নিজের হান্ড্রেড পার্সেন্ট দিয়েছি। কোথাও ইন্দুবালাকে ছাপিয়ে কেউ উঠে আসতে পারবে না। না শুভশ্রী, না সোমনাথ কুণ্ডু (মেকআপ আর্টিস্ট)। সবাই ইন্দুবালাকে দেখবে। দ্যাট ওয়াজ মাই কনসার্ন।’- যোগ করেন শুভশ্রী।
ওয়েব সিরিজটি নির্মিত হয়েছে কল্লোল লাহিড়ীর উপন্যাস অবলম্বনে। উপন্যাসের এই গল্পে তো দুই বাংলা মিশে আছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে কাজ করতে চান কিনা, এমন প্রশ্নে অভিনেত্রীর উত্তর, ‘অবশ্যই করতে চাই, যদি আমার কাছে ভালো গল্প আসে। আমরা শিল্পীরা হচ্ছি জলের মতো, যেখানে ঢালবে, সেই পাত্রের আকার নিয়ে নেব। তেমন চরিত্র আমার কাছে এলে, যে কোনও জায়গায় গিয়ে কাজ করতে পারি।’
মাঝে মাঝে আপনি রিলস পোষ্ট করেন যেখানে থাকে নাচ বা অন্যান্য ভিডিও। সেগুলো যেমন জনপ্রিয়তা পায়, অনেক সময় আবার ট্রলও হয়। এই ট্রল কীভাবে সামলান? শুভশ্রীর ভাষ্য, ‘যারা ট্রল করে তাদের চিনি না। তাদের থেকে অনেক বেশি সংখ্যক মানুষ আছেন যারা আমাকে খুব ভালোবাসেন, সম্মান করেন। তারা ভালোবাসেন বলেই আমি এত বছর ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছি। যারা খারাপ বলছেন বা ট্রল করছেন তাদের চেয়ে যারা ভালোবাসেন তাদের গুরুত্ব আমার কাছে অনেক বেশি। কাজেই কু-মন্তব্য এখন আর চোখেও পড়ে না।’
একটা সময় অভিনেতা দেবের সঙ্গে অনেক কাজ করেছেন, অনেক হিত সিনেমা উপহার দিয়েছেন, এরপর আর তার সঙ্গে আপনাকে পাওয়া যায়নি। তার সঙ্গে আবার কবে দেখা যাবে, এমন প্রশ্নে শুভশ্রী জানান, আমার কাছে আমার চরিত্র খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমার বিপরীতে কে থাকল সেটা এত গুরুত্বপূর্ণ নয়। চরিত্রটা যদি আমাকে ঘুমাতে না দেয়, ওই কিকটা যদি দেয় তাহলে আমার বিপরীতে কে আছে সেটা নিয়ে আমার কোন সমস্যা নেই।
শুভশ্রীর কাছে শেষ প্রশ্ন, গুঞ্জন আছে আপনি নাকি বোটক্স করেছেন! বিষয়টা কতটুকু সত্য? তার জবাব, ‘কে কী করছে সেটা তার পার্সোনাল বিষয়। আমি যদি কোন মেডিক্যাল প্রসেসের মধ্য দিয়ে যাই, সেটা মানুষকে কেন বলতে হবে? আমাদের কিছু বিষয় তো গোপন থাকবেই, তাই না? আমি করিনি, সেটা আমি বলতে পারি। কেউ যদি করে সেটার পক্ষে আমার জাজমেন্টাল হওয়ার কিছু নেই। মানুষ করতেই পারে। লেটস বি ক্যাজুয়াল অ্যাবাউট ইট। একটা বয়সের পরে মানুষ বোটক্স করায়। আই অ্যাম জাস্ট থার্টি টু। কাম অন (জোরে হাসি)।’
জানা গেছে, সামনে আরও একটি নতুন সিনেমার কাজ করতে চলেছেন শুভশ্রী, সিনেমার নাম ‘পাখি’। এটি পরিচালনা করবেন বাবা যাদব।