ওয়ানডে ইতিহাসে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেকে হ্যাটট্রিকের কীর্তি তাইজুল ইসলামের। কিন্তু এই বাঁহাতি স্পিনারের গায়ে লেপ্টে গেছে ‘টেস্ট স্পেশালিস্ট’ তকমা। এখন পর্যন্ত ৪০ টেস্টের বিপরীতে যেমন ওয়ানডে খেলেছেন মাত্র ১২টি। টি-টোয়েন্টি মাত্র দুটি।
সেই তাইজুলকে ইংল্যান্ড সিরিজের দলে নেওয়া হয়েছে অধিনায়ক তামিম ইকবালের চাওয়ায়। কেন চেয়েছেন, এবার সেই ব্যাখ্যা দিলেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার।
দুই বছরের বেশি সময় পর গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের ওয়ানডে সিরিজে একটি ম্যাচ খেলেছিলেন তাইজুল। বাংলাদেশের ৪ উইকেটের জয়ের সেই ম্যাচে ১০ ওভারে ২৮ রান দিয়ে ৫ উইকেটও নিয়েছিলেন।
এরপর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারেতে ২ ম্যাচে নিয়েছেন ৩ উইকেট। কিন্তু গত বছরের ডিসেম্বরে ঘরের মাঠে ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে খেলা হয়নি বাঁহাতি স্পিনার তাইজুলের। দল আস্থা রেখেছিল আরেক স্পিনার নাসুম আহমেদের ওপর।
ইংল্যান্ডে সিরিজের দলে নাসুম নেই। রাখা হয়েছে তাইজুলকে। যার ব্যাখ্যায় কিছুদিন আগে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেছিলেন, ‘তাইজুলের ব্যাপারে স্পিন বোলিং কোচের (রঙ্গনা হেরাথের) চাওয়া আছে।’
এদিকে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন জানিয়েছেন তাইজুলকে নেওয়া হয়েছে তামিমের চাওয়ায়। রবিবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সংবাদসম্মেলনে তামিমকে প্রশ্ন করা হয়েছিল বোর্ড সভাপতি এমন বলায় তিনি বিব্রত কি-না?
তামিম উত্তরে বলেন, ‘সিলেকশন মিটিংয়ে অনেক আলোচনা হয়, বদ্ধঘরে। আমি অনেক কিছুতে একমত হই, আবার হই না, নির্বাচকরাও তাই। কিন্তু আমরা একটা দল। আমি, প্রধান কোচ, নির্বাচক। ওখান থেকে কোনো কিছু (তথ্য) বের হয়ে আসা স্বাস্থ্যকর নয়।’
এরপর তাইজুলকে নিয়ে তামিম বলেন, ‘তাইজুলকে ভারত সিরিজে না দেখে অবাক হয়েছি। সে শেষ তিন ম্যাচে ৮ উইকেট পেয়েছে। অধিনায়ক হিসেবে আমি সবসময় পারফরম্যান্সকে গুরুত্ব দিয়েছি।’
নাসুমকেও দুর্দান্ত উল্লেখ করেন ওয়ানডে অধিনায়ক বলেন, ‘এটাও বলব যে নাসুম দারুণ। টি-টোয়েন্টিতে দুর্দান্ত। অল্প সুযোগ পেয়েও ওয়ানডেতে ভালো করেছে। আমরা মনে করেছি তাইজুল বেশি স্যুট করবে।’
যোগ করেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে কাউকে যদি পছন্দ নাও করি, সে যদি পারফর্ম করে অবশ্যই দলে থাকবে। আমি তামিম একাদশের অধিনায়ক হলে পছন্দ-অপছন্দ আসতো। কিন্তু আমি বাংলাদেশ দলের ক্যাপ্টেন।’