গুপ্তচরদের তথ্য সংগ্রহের এক সনাতনী পদ্ধতি হলো হানি ট্র্যাপ। এটা এমন এক ফাঁদ, যেখানে টোপ হিসেবে কাজ করেন নারী এজেন্ট। এই নারী এজেন্টদের কাজ হলো শত্রুপক্ষের নৈতিকভাবে দুর্বল কাউকে যৌন আবেদনের মাধ্যমে নিজের প্রতি আকৃষ্ট করা। এরপর ফাঁদে পড়া ব্যক্তির মাধ্যমে গোপনীয় তথ্য হাতিয়ে নেওয়া। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এ হানি ট্র্যাপের মাধ্যমেই চিরবৈরী পাকিস্তানের কাছে ভারতের প্রতিরক্ষা খাতের গোপনীয়তা লঙ্ঘিত হয়েছে কয়েকবার। সর্বশেষ বাবুরাম কাণ্ডটি সেরকমই এক ঘটনা। পাকিস্তানি এজেন্টকে গোপনে মিসাইল পরীক্ষার তথ্য পাচার করার অভিযোগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা কেন্দ্র ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ডিআরডিও) বাবুরাম দে (৫১)-কে আটক করেছে দেশটির পুলিশ।
ভারতীয় পুলিশ জানিয়েছে, বাবুরাম দে মিসাইল পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জের টেলিমেন্ট্রি বিভাগের প্রযুক্তিবিষয়ক কর্মকর্তা ছিলেন। তার ফোন পরীক্ষা করে জানা গেছে, মিসাইল পরীক্ষার প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত তথ্য এবং প্রযুক্তিগত তথ্য পাকিস্তানের গুপ্তচরকে গোপনে পাঠিয়েছেন তিনি। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডির এক নারী গুপ্তচর বাবুরামকে হানিট্র্যাপে ফেলে তথ্য আদায় করে নিয়েছেন। ভারতীয় পূর্বাঞ্চল পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল হিমাংশু লাল জানান, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বাবুরাম ওই নারী গুপ্তচরের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। নিজেদের মধ্যে অন্তরঙ্গ কথা, নানা ভিডিও এবং ছবিও আদান-প্রদান করেছেন।
এদিকে ডিআরডিওর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের প্রায় সব মিসাইল পরীক্ষার সময় বাবুরাম উপস্থিত ছিলেন। মিসাইল উৎক্ষেপণে অতি স্পর্শকাতর, গুরুত্বপূর্ণ ও প্রযুক্তিগত তথ্যও বাবুরামের কাছে ছিল। ঠিক কতখানি গোপন তথ্য পাকিস্তানে পাঠিয়েছেন বাবুরাম, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, হানিট্র্যাপ ভারতীয় প্রতিরক্ষা খাত ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জন্য একটি বড় মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও, বিভিন্ন প্রতিরক্ষা দপ্তরের ঊর্ধ্বতন-অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পাকিস্তানের গুপ্তচরদের ফাঁদে পা দিচ্ছে।