আদানি সাম্রাজ্য ধসের নেপথ্য কারিগর

বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ ধনী থেকে এক মাসে উনত্রিশে নেমে এসেছেন গৌতম আদানি। তার সাম্রাজ্যের ব্যাপক এই ধসের নেপথ্যে রয়েছে হিনডেনবার্গ রিসার্চ। বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করা সংস্থাটির মালিক নাথান অ্যান্ডারসন। এই আন্দোলনকর্মীর উত্থান নিয়ে লিখেছেন নাসরিন শওকত

বছর পাঁচেক আগে ফেরা যাক। খুব কমসংখ্যক মানুষই নাথান অ্যান্ডারসনকে চিনতেন। ভাড়া দেওয়ার সামর্থ্য না থাকায় ম্যানহাটনের ছোট্ট অ্যাপার্টমেন্টে কোনোমতে দিন চলত তার। কিন্তু দাবি করা হয়, করপোরেট জালিয়াতি দূর থেকে শুঁকে নেওয়ার ঐশ্বরিক ক্ষমতা রয়েছে তার। তার জোরেই আজ নাথান হয়ে উঠেছেন বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি। আর তার ফুলেফেঁপে ওঠা ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য পেয়েছে আন্তর্জাতিক খ্যাতি।

চলতি বছরের শুরুর দিকে নাথানের সংস্থা হিনডেনবার্গ রিসার্চ গুজরাটের শিল্পগোষ্ঠী আদানি গ্রুপের বিরুদ্ধে ‘জালিয়াতি ও কারচুপির’ অভিযোগ তোলে। আদানি গ্রুপের কর্ণধার গৌতম আদানি। জ¦ালানি, বন্দর, বিদ্যুৎ, ভোজ্য তেলসহ উন্নয়ন খাতের ব্যবসা দিয়ে মাত্র তিন দশকের মধ্যে বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ ধনী হয়ে ওঠেন তিনি। এক সময় তারই দেশের শীর্ষ ধনী মুকেশ আম্বানিকেও টপকে যান। এ বছরের শুরুতে ভারতের অত্যন্ত প্রভাবশালী এই শিল্পপতির মোট সম্পদের পরিমাণ বিশে^র শীর্ষ তিন ধনকুবের জেফ বেজোস, বিল গেটস ও ওয়ারেন বাফেটকেও ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু  হিনডেনবার্গ রিসার্চ আদানি গ্রুপের সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শেয়ারের বিরুদ্ধে বাজি ধরার ঘোষণা দিয়ে শীর্ষ এই ধনকুবেরের সাম্রাজ্যে ধস নামায়, যা ভারতসহ বিশ^জুড়ে রীতিমতো শোরগোল ফেলে দেয়। আর তাই হিনডেনবার্গের নেপথ্যে থাকা নাথান অ্যান্ডারসন আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসেন। তবে সম্প্র্রতি নাথানের সাম্রাজ্যর নেপথ্যে থাকা হিনডেনবার্গ রিসার্চ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংস্থাটির দাবি, তারা আর্থিক বিষয় নিয়ে গবেষণা করে। কিন্তু সমালোচকদের ভাষ্য, মাত্র সাত বছর বয়সী যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এই সংস্থাটি শুধুমাত্র গবেষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। তারা তাদের মতো করে একেকটি কোম্পানিকে টার্গেট করে তোলে, যার নবম টার্গেট ছিল আদানি গ্রুপ।

হিনডেনবার্গ রিসার্চ

আন্তর্জাতিক ব্যবসা বিষয়ের মামুলি এক স্নাতক নাথান অ্যান্ডারসন সংস্থাটির কর্ণধার। বিভিন্ন সংস্থার পুঁজি ব্যবসা নিয়ে কাজ করে তারা। তাই একটি ফরেনসিক অর্থিক গবেষণা সংস্থা হিসেবে পরিচিত হতে গর্ববোধ করে হিনডেনবার্গ। এর দপ্তর নিউ ইয়র্কে। ২০১৭ সালে নিউ ইয়র্কের এক অ্যাপার্টমেন্টে হিনডেনবার্গ রিসার্চের যাত্রা শুরু। এর বর্তমান কর্মীর সংখ্যা ১২ জন। তারা নিজেরাই বিনিয়োগ করে থাকেন। তবে প্রথম দিকের প্রকল্পগুলোর জন্য হিনডেনবার্গ অংশীদার হিসেবে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে রাখত, যারা চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশের আগেই তা থেকে ফায়দা লোটার চেষ্টা করত।

নিজেদের সংস্থার নাম চয়নেও মনকাড়া এক আদর্শকে সামনে রেখেছে হিনডেনবার্গ।  ১৯৩৭ সালের দিকে জার্মানির হিনডেনবার্গ এয়ারশিপের বেশ নাম ছিল। তখন নিউজার্সি দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় এয়ারশিপটিতে আগুন লেগে যায়। এতে অনাকাক্সিক্ষত প্রাণহানি ঘটে। এই ঘটনা ‘হিনডেনবার্গ কেলেঙ্কারি’ হিসেবে পরিচিত। নাথানের দাবি, ‘মানবসৃষ্ট’ ওই ‘দুর্যোগ’কে চাইলেই এড়ানো সম্ভব ছিল। এই আদর্শিক জায়গা থেকেই তার গবেষণা সংস্থাটি হিনডেনবার্গ রিসার্চ নাম পেয়েছে। অর্থাৎ, হিনডেনবার্গের লক্ষ্য, ‘মানবসৃষ্ট এমন সব আর্থিক অসংগতি’ খুঁজে বের করা, যা ধরতে পারলে আগে থেকেই বিপর্যয়ের সম্ভাবনা চিহ্নিত করা যায়। যাতে সাধারণ মানুষকে লোভের হাত থেকে রক্ষা করা যায়।

কোনো করপোরেট সংস্থার সম্ভাব্য আর্থিক জালিয়াতি ও চোখে ধুলো দেওয়ার মতো ঘটনাগুলো খুঁজে বের করা এবং তা ফাঁস করাই হিনডেনবার্গ রিসার্চের মূল লক্ষ্য। এরপর তা নিয়ে ‘হিনডেনবার্র্গ রিসার্চ রিপোর্ট’ নামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে তারা। কোনো ‘সন্দেহজনক’ বড় সংস্থার প্রকাশিত তথ্য ও অভ্যন্তরীণ করপোরেট নথির মাধ্যমেই প্রতিবেদনগুলো তৈরি করে হিনডেনবার্গ রিসার্চ। এর পাশাপাশি সংস্থার কর্মীদের থেকেও তথ্য সংগ্রহ করে তারা। এই জাতীয় গোপন তথ্য পেতে প্রয়োজনে তাদের ‘উপহার’ও দেয় সংস্থাটি। এভাবে দেখা হয়, সংস্থার কোনো আর্থিক ফাঁক আছে কি না। এমন কোনো দুর্বল জায়গা, যা নড়ে গেলেই সংস্থার ভিত টলে যাবে। এবার সেই বিশ্লেষণটি কাজে লাগায় তারা। লক্ষ্যবস্তু করা সংস্থায় শর্ট পজিশনে বিনিয়োগ করে হিনডেনবার্গ। তারপর নিজেদের প্রতিবেদন প্রকাশ করে। অর্থাৎ, তারা ধরেই নেয় যে সেই প্রতিবেদন ও সংস্থার অবস্থা জানাজানি হলেই শেয়ারের দামে পতন হবে। আর শর্ট পজিশনে খেলার কারণে দারুণ মুনাফা করবে হিনডেনবার্গ রিসার্চ।

হিনডেনবার্গ বনাম গৌতম আদানি

চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি। গৌতম আদানির শিল্পগোষ্ঠী আদানি গ্রুপের আর্থিক দুর্বলতা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে আর্থিক গবেষণা সংস্থা হিনডেনবার্গ রিসার্চ। বলা হয়, গত এক দশক ধরে শেয়ারের দরে কারচুপি করে আসছে আদানি গ্রুপ। ১০০ পৃষ্ঠার হিনডেনবার্গ প্রতিবেদনে গৌতম আদানির বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও আনা হয়। বলা হয়, গৌতম আদানির ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের কয়েকজন অতীতে আইনি ঝামেলায় জড়িয়েছে। তারপরও তাদের পরিচালনা পর্ষদে রাখা হয়েছে যেটি আইনের লঙ্ঘন। এজন্য কয়েকটি উদাহরণও দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনটিতে। যেমন ভারতের রাজস্ব গোয়েন্দা বিভাগের (ডিআরই) একটি তদন্তের কথা তারা উল্লেখ করে। ওই তদন্তে আদানির শ্যালক সমির ভোরা হীরা বাণিজ্যের এক কেলেঙ্কারিতে জড়িত ছিলেন বলে জানানো হয়। প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, আদানি গোষ্ঠী বর্তমানে খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে। বিপুল পরিমাণ ঋণের বোঝা রয়েছে এই গোষ্ঠীর ঘাড়ে। তাদের শেয়ারের ভ্যালুয়েশনও মাত্রাতিরিক্ত। ফলে যে কোনো সময়ে ভেঙে পড়তে পারে আদানির তাসের ঘর। পুরো প্রতিবেদনটিতে আদানি গ্রুপকে ৮৮টি প্রশ্ন করা হয়, যেখানে শিল্পগোষ্ঠীটির  সব কোম্পানির ঋণ নিয়েও প্রশ্ন ছিল। দাবি করা হয়, শেয়ারবাজারে দেখানো তাদের অবস্থান অনেকটাই কৃত্রিম। এমনকি শিল্পগোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদেরও অভিযোগ তুলেছে তারা।

তবে আদানি গোষ্ঠী দাবি করছে, “হিনডেনবার্গের করা প্রতিবেদনটি একেবারেই ‘ভিত্তিহীন’। এর মধ্য দিয়ে শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট কোম্পানির বিরুদ্ধেই ‘অযাচিত হামলা’ চালানো হয়নি বরং ‘ভারতের ওপর পরিকল্পিত হামলা’ চালিয়েছে হিনডেনবার্গ। যেসব সংস্থার সঙ্গে আদানি গ্রুপের আর্থিক লেনদেন হয়েছে, সেগুলোর প্রতিটিই ভারতীয় আইন ও সংশ্লিষ্ট নিয়ম মেনেই হয়েছে। সেই সংক্রান্ত তথ্যও উপযুক্তভাবে প্রকাশ করেছে আদানি গ্রুপ। এটা স্বার্থ সংঘাতের চরম উদাহরণ। আদানিদের পাল্টা অভিযোগ, নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে শুধুমাত্র ভুয়া বাজার তৈরির উদ্দেশ্যে এই কাজটি করা হয়েছে। আদানি গ্রুপের অসংখ্য বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে হিনডেনবার্গ অবৈধভাবে বড়সড় আর্থিক লাভ করতে চেয়েছে।’’ তবে নিজেদের প্রতিবেদন নিয়ে শক্ত অবস্থান নেওয়া হিনডেনবার্গ আদানি গোষ্ঠীকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলছে, ‘আমাদের প্রতিবেদন ভুল প্রমাণ করতে হলে আদালতে মামলা করে তা দেখাতে হবে।’

হিনডেনবার্গের সাড়া ফেলে দেওয়া প্রতিবেদনটি প্রকাশের পরই বিশ্বের শীর্ষ দশ ধনীর তালিকা থেকে ছিটকে পড়েন গৌতম আদানি। এদিকে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি  হিনডেনবার্গের প্রতিবেদন প্রকাশের এক মাস পূর্ণ হয়। এর মধ্যে আদানি গোষ্ঠীর সব কটি শেয়ারের টানা দরপতন ঘটে। দেখা যায়, এই শিল্পগোষ্ঠীটির মোট বাজার মূলধনের পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ২০ হাজার ৬৩২ কোটি রুপিতে। অর্থাৎ, এক মাসে আদানি গোষ্ঠীর ক্ষতির পরিমাণ ১১ লাখ ৯৯ হাজার ২৫৬ কোটি রুপি (২৪ জানুয়ারি থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি শেয়ারবাজার বন্ধ হওয়ার সময় পর্যন্ত)! ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘনিষ্ঠ ও স্নেহভাজন এই শিল্পপতির মোট সম্পদমূল্য কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ২২০ কোটি মার্কিন ডলার। আর এ মুহূর্তে মুকেশ আম্বানির সম্পদের পরিমাণ তার প্রায় দ্বিগুণÑ ৮ হাজার ৩৩০ কোটি ডলার। শেয়ারের এই দরপতনের ফলে সেরা ধনকুবেরদের তালিকার ২৯তম স্থানে নেমে গিয়েছেন গৌতম আদানি। এদিকে ভারতের সংসদে বিরোধী দল মোদির সঙ্গে ধনকুবের আদানির সংশ্লিষ্টতার তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

অনেকে মনে করছেন, এই হারে শেয়ার দর কমতে থাকলে অবস্থার আরও অবনতি হতে পারে। এশিয়ার ধনীতম ব্যক্তির আসন খোয়াতে পারেন গৌতম আদানি।

হিনডেনবার্গের যত শিকার

আদানিদের আগেও ছোট-বড় অনেক সংস্থা নাথানের করা প্রতিবেদনে সর্বস্বান্ত হয়েছে। এর আগে নিকোলা, ক্লোভার হেলথ, কান্ডি, লর্ডসটাউন মোটরস এবং টেকনোগ্লাসের মতো যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থার শেয়ার জালিয়াতির প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল তারা। তবে আর্থিক এই গবেষণা সংস্থাটি প্রথম সবার মনোযোগ কাড়ে বিখ্যাত নিকোলা গোষ্ঠীর কেলেঙ্কারি ফাঁসের মধ্য দিয়ে। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে বৈদ্যুতিক ট্রাক প্রস্তুতকারক নিকোলা করপোরেশনের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ আনেন নাথান। হিন্ডেনবার্গের রিসার্চে দাবি করা হয়, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের মিথ্যা কথা বলেছে নিকোলা। হিনডেনবার্গের প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসার পর ‘নিকোলা’র প্রতিষ্ঠাতা ট্রেভর মিল্টনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ট্রেভরকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৭ সাল থেকে শুরু করে হিনডেনবার্গ এখনো পর্যন্ত কমপক্ষে ১৬টি সংস্থার আর্থিক কারচুপির রিপোর্ট প্রকাশ করেছে।

নাথান অ্যান্ডারসন

দেখতে অমায়িক চেহারার নাথান নিউ ইয়র্ক শেয়ারবাজারের ‘স্বল্পমেয়াদি স্টক মার্কেটের (শর্ট সেলার অ্যাক্টিভিস্ট) একজন আন্দোলনকর্মী হিসেবে পরিচিত। নাথান বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শীর্ষ ধনী বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন। যারা শেয়ারবাজারে ছোট ছোট বাজি ধরেন। বাজার থেকে শেয়ার ধার করেন এবং তখনই সেই শেয়ার বিক্রি করেন যখন তার দাম পড়ে যায়। নিজেকে নাথান এমন একজন মানুষ হিসেবে পরিচয় দেন, যিনি অতিরিক্ত চাপের মধ্যেও সঠিক চিন্তাভাবনা ও কাজ করতে সক্ষম। সংবাদ মাধ্যম ব্লুমবার্গের তথ্য মতে, নাথানের বাবা একজন অধ্যাপক আর মা নার্স। তার শৈশবের পুরোটা সময় কেটেছে কানেকটিকাটেই। কলেজে পড়ার একটা সময় থাকতেন ইসরায়েলে। তখন হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। এই সময়েই প্যারামেডিক হিসেবে কাজ করতে গিয়ে অ্যাম্বুলেন্স চালাতে হতো তাকে।  কানেকটিকাট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক ব্যবসা বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রথমে তিনি একটি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় কর্মজীবন শুরু করেন। পরে ‘ফ্যাক্টসেট রিসার্চ সিস্টেমস ইনকরপোরেটেড’ নামের আর্থিক বিশ্লেষণধর্মী সংস্থার কাজে যুক্ত হন। সেখানে তিনি ধনী পরিবারের বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ হয়ে বড় আকারের বিনিয়োগ নিয়ে আসার মধ্যস্থতা করতেন।  অনুসন্ধিৎসু নাথানের আদর্শ হ্যারি মার্কোপোলো। অপরাধ তদন্তবিষয়ক এই অ্যাকাউটেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের সাড়া জাগোনো বার্নার্ড ম্যাডফের অর্থ কেলেঙ্কারি ফাঁস করেন। নাথান একসময় নিজের প্যাশন সম্পর্কে বলেছিলেন, তার প্যাশন ছিল ‘আর্থিক জালিয়াতি’ খুূঁজে বের করা। সেই সময় থেকেই নাথান মার্কোপোলোর অনুসারী হয়ে ওঠেন। এই নেশা শুরুর প্রথম দিকে নাথান সম্ভাব্য পঞ্জি স্কিমগুলোর দেখাশোনা করতেন। আবার মাঝে মাঝেই  হ্যারি মার্কোপোলোর দলেও কাজ করতেন। 

২০১৪ সালের কথা। এই সময় সরকারি অনুদান পাওয়ার আশায় নাথান আর্থিক জালিয়াতির গোপন অভিযোগ দায়ের করতে শুরু করেন। এর মধ্যে বড় সাফল্য আসে মার্কোপোলোর সঙ্গে মিলে প্লাটিনাম পার্টনারদের হেজ ফান্ডের কেলেঙ্কারি ফঁাঁস করা নিয়ে। সংস্থাটির সাতজন নির্বাহীর বিরুদ্ধে পরবর্তী সময়ে নিরাপত্তা জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়।

তবে নিজের কাজ নিয়েও অসন্তুষ্টিতে ভোগেন নাথান। ২০২০ সালে সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে তিনি বলেন, ‘আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে আমি যে সংস্থায় কাজ করি, সেটা আহামরি কিছু কাজ করছে না। তিনি জীবিকার জন্য যেসব কোম্পানিকে লক্ষ্যবস্তু করেন, তা সাধারণের কাছে অনৈতিক এমনকি কাপুরুষোচিত বলে মনে হতে পারে। কিন্তু বেশির ভাগ ওয়ালস্ট্রিট পেশাজীবীর কাছেই তিনি মুনাফালোভী কোম্পানিগুলোর সম্ভাব্য অনিয়ম তুলে ধরে কার্যত শেয়ারবাজারেরই উপকার করেন।