গলার কাঁটা পদ্মাগামী গাড়ি

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা এলাকায় মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার হওয়ার পর এই এলাকার যানজট অনেকটা কমেছিল। কিন্তু পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর দক্ষিণের ২১ জেলার গাড়ি এ রোড দিয়ে চলাচল শুরু করে। ফলে হানিফ ফ্লাইওভারের নিচে ও ওপরে দীর্ঘ যানজট লেগে যায়। আর যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তার যানজটের এ ধাক্কা লাগে আশপাশের সড়কেও। এ সংকট নিরসনে বৃত্তাকার সড়কপথ তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। আর শহরের রাস্তাঘাট প্রশস্ত করার কথা বলছেন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

পদ্মা সেতুর গাড়ি হানিফ ফ্লাইওভারে ওঠা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ পথে চলাচলের জন্য রুট পারমিট পাবে না কোনো বাস-মিনিবাস। ফ্লাইওভারকে কেন্দ্র করে যেসব বাসে অস্থায়ী রুট পারমিট দেওয়া হয়েছিল, তাও বাতিল করা হয়েছে। গত মাসে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী সালেহ আহম্মেদ সই করা চিঠিতে যাত্রাবাড়ী-পোস্তগোলা রুটে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার ব্যবহার না করে রুট পারমিট প্রদানের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

যদিও পদ্মা সেতুতে পৌঁছতে বিকল্প পথ খুব একটা নেই। ফ্লাইওভারের নিচে সড়ক থাকলেও সংকুচিত। ফলে সেখান দিয়ে যাওয়ার সুযোগও কম।

জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, হানিফ ফ্লাইওভার ব্যবহারকারী আন্তঃজেলা গাড়ির কোনো বাসকে অস্থায়ী রুট পারমিট দেওয়া হবে না। রায়েরবাজার থেকে বেড়িবাঁধ লোহারপুল ব্রিজ পর্যন্ত সড়কের ছয় লেনে প্রশস্তকরণ কাজের নকশা, ডিজাইন ও ডিপিপি কাজ করবে ডিএসসিসি। সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের অটোমেশনসহ আধুনিকায়নের কাজ আগামী মার্চের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।

যাত্রাবাড়ী রোডে চলা তুরাগ পরিবহনের চালক মো. খালেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, যানজটে গাড়ি ঘোরাতে এক ঘণ্টার বেশি সময় লেগে যায়। মূলত পদ্মাগামী গাড়ি এ রোড দিয়ে চলাচল করায় এই যানজটের সৃষ্টি হয়।

মো. ফারুক নামে এক যাত্রী জানান, যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা এখন গলার কাঁটা হয়ে গেছে। পদ্মাগামী গাড়ি রাস্তায় যেখানে-সেখানে যাত্রী ওঠানামা করে। সেই সঙ্গে যাত্রাবাড়ী এলাকার প্রধান সড়কে রাস্তাঘাটের বেহাল দশা।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পদ্মা সেতুর মতো এত বড় একটি প্রজেক্ট বাস্তবায়ন হলো। কিন্তু পদ্মাগামী গাড়িগুলো যখন সিটিতে এসে যানজটের প্রধান কারণ হবে সে তথ্য কি প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাদের ধারণা ছিল না? আমরা অনেক আগে থেকেই বলে আসছি, দূরপাল্লার বাসের জন্য শহরের পাশে আরও টার্মিনাল করা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে সিটিতে দূরপাল্লার বাস যেন না চলে। কারণ সিটিতে এত গাড়ির সক্ষমতা না থাকায় যানজট বাড়বে। সেই সঙ্গে শহরের রাস্তাঘাটও আরও সম্প্রসারণ করা দরকার।’

বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ সাইফুন নেওয়াজ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যানজট নিরসনে শহরের চারপাশে বৃত্তাকার সড়কপথ তৈরি করতে হবে। যেন একটি গাড়ি পদ্মা দিয়ে ঢাকায় প্রবেশের একাধিক পথ ব্যবহার করতে পারে। আর যদি মাত্র একটি পথ ব্যবহার করে, তাহলে যানজট লেগেই থাকবে।’

যানজট লাগলে এর নিরসনের চেষ্টা করি জানিয়ে যাত্রাবাড়ী ট্রাফিক জোনের টিআই হোসেন জাকারিয়া মেনন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পদ্মাগামী গাড়ি কিছু যায় ওপর দিয়ে, কিছু যায় নিচ দিয়ে। আমরা সড়কে থাকি, যানজট লাগলে নিরসন করি। আর এখানের বর্তমান অবস্থা তো দেখছেনই, এর বেশি আর কী বলব বলেন।’