‘টিকিট যার ভ্রমণ তার’ এই স্লোগানে আজ বুধবার (১ মার্চ) থেকে নতুন যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে রেলওয়ে ভ্রমণ। যারা ট্রেনের টিকিট কাটতে যাবেন তাদের অবশ্যই অনলাইনে নিবন্ধন থাকতে হবে। অনিবন্ধিত কেউ ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন না। একই সঙ্গে টিকিটের গায়ে যেহেতু যাত্রীর নাম লিপিবদ্ধ থাকবে তাই এই টিকিট দিয়ে অন্য কেউ ভ্রমণ করতে পারবেন না। রেলের টিকিট কালোবাজারি বন্ধে রেলওয়ের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে রেলওয়ের এ উদ্যোগকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় গরম আলোচনা চলছে। কেউ এর পক্ষে বলছেন, আবার কেউ এর বিপক্ষে। তবে প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের বদলে নিয়ে যেতে হবে এই ধারণায় এক সময়ের হাতে লেখা টিকিট থেকে কম্পিউটারাইজ টিকিটের পর অনলাইন টিকিট চালু হয়েছিল। এখন এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নিবন্ধন প্রথা। জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন সনদ দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। আর শুধু নিবন্ধিত ব্যক্তিরাই অনলাইনে বা কাউন্টারে গিয়ে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবে।
নতুন এই পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাইলে পূর্বাঞ্চলীয় রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবকিছু পরিবর্তন হয়। রেলওয়ের টিকেটিং সিস্টেমও এমন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। টিকিট যার ভ্রমণ তার নিশ্চিত করতে নিবন্ধন প্রথা চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ট্রেনের টিকিট আর কালোবাজারির হাতে যাবে না। নির্ধারিত মূল্যে যাত্রীরা টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন।
কিন্তু এক সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে এই নতুন প্রথা চালু করা এবং তা বাস্তবায়ন কঠিন হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রথম দুই মাস একটু চ্যালেঞ্জিং হবে। তবে মাঠপর্যায়ে তা তদারকি করার জন্য আমাদের টিম থাকবে। যাত্রীরা কয়েক মাসে অভ্যস্ত হয়ে গেলে আর সমস্যা হবে না।
কীভাবে সংগ্রহ করা যাবে টিকিট
মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে BR-Space-NID number- Space- Date of Birth (সাল, মাস, দিন ফরম্যাটে) লিখে ২৬৯৬৯ নম্বরে সেন্ড করতে হবে। ফিরতি এসএমএসে নিবন্ধন সফল না ব্যর্থ হয়েছে তা জানা যাবে। বিদেশি নাগরিকরা পাসপোর্ট নম্বর ও ছবি দিয়ে নিবন্ধন আপলোড করবেন। ১২-১৮ বছর বয়সীরা জন্মনিবন্ধন প্রদান ও জন্মনিবন্ধন সনদ আপলোড করে নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবে। রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, নিবন্ধন হয়ে যাওয়ার পর রেলওয়ে অ্যাপসের মাধ্যমে টিকিট কাটা যাবে। একই সঙ্গে যদি কেউ কাউন্টারে গিয়ে সংগ্রহ করতে চান তিনি মোবাইল নম্বর বললে বুকিং সহকারী সেই নম্বরের বিপরীতে এনআইডি নম্বর ও নাম পেয়ে যাবেন এবং যাত্রীকে টিকিট দেবেন। তখন যে টিকিট প্রিন্ট করা হবে সেই টিকিটে যাত্রীর নাম ও এনআইডি নম্বর থাকবে।
একজন যাত্রী কয়টা টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন এমন প্রশ্নের জবাবে পূর্বাঞ্চলীয় রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আগের নিয়ম অনুযায়ী চারটি করে টিকিট কাটতে পারবেন। তবে এই চারজনের যেকোনো একজনের সঙ্গে এনআইডির ফটোকপি থাকতে হবে যার নাম টিকিটের গায়ে লেখা থাকবে। যদি অন্য কারও টিকিট যাত্রীর কাছে পাওয়া যায় তাকে জরিমানা করা হবে।
এদিকে রেলওয়ের পক্ষ থেকে প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আগামী ১ মার্চ থেকে এই পদ্ধতিতে টিকিট বিক্রি করা হবে। তবে যেহেতু যাত্রার পাঁচ দিন আগে টিকিট বিক্রি শুরু হয় সে হিসেবে ১ মার্চ থেকে ৫ মার্চের টিকিট এ পদ্ধতিতে বিক্রি করা হবে। তাহলে বুঝা যাচ্ছে টিকিট যার ভ্রমণ তার প্রকৃতপক্ষে শুরু হবে ৫ মার্চ থেকে।