সাভারের হেমায়েতপুর পিকআপস্ট্যান্ড এলাকায় পরিবহন ব্যবসায়ী শাহাবুদ্দিনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ৯ দিন পর হত্যা মামলার প্রধান আসামি রাকিবুল ইসলাম ফয়সালসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার দুপুরে সাভার মডেল থানায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অপস অ্যান্ড ট্রাফিক, উত্তর) মোহাম্মদ আবদুল্লাহিল কাফি। এর আগে মঙ্গলবার রাতে ঢাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করেছে সাভার থানা-পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলো প্রধান আসামি রাকিবুল ইসলাম ফয়সাল (২৮), তার বাবা মো. কিয়ামুদ্দিন (৬০) ও তাদের সহযোগী মো. রিপন (২৫)। তারা সবাই সাভারের হেমায়েতপুর যাদুরচর এলাকার বাসিন্দা। এর আগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে একই মামলায় প্রধান আসামি ফয়সালের শ্বশুর আবদুল মান্নানকে (৫০) হেমায়েতপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে এখনো ওই মামলার আসামি শহিদুল্লাহ (৩৫) ও জাহাঙ্গীরকে (৩০) গ্রেপ্তার করা যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবদুল্লাহিল কাফি বলেন, হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি ফয়সাল সম্পর্কে নিহত শাহাবুদ্দিনের সৎ ভাগনে। দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ ও মামলা চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তার প্রধান আসামি রাকিবুল ইসলাম ফয়সালসহ মামলার অন্য আসামিরা নিহত শাহাবুদ্দিনকে হত্যার উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পিত ধারালো অস্ত্র নিয়ে সাভারের হেমায়েতপুর পিকআপস্ট্যান্ড এলাকায় ওত পেতে থাকে। পরে শাহাবুদ্দিন সেখানে গেলে তার ওপর হামলা চালিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে মারাত্মক জখম করে পালিয়ে যায় তারা। এ সময় শাহাবুদ্দিনকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে আরও দুজনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করে হামলাকারীরা। এ ঘটনায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় শাহাবুদ্দিনকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চার দিন পর মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মোছা. পিয়ার মন বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রাজীব কুমার সাহা বিশেষ অভিযান চালিয়ে ঢাকা মহানগরী থেকে তাদের গ্রেপ্তার করেন। এরপর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা দুটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এর আগে এই মামলার আসামি আবদুল মান্নানকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। এসব আসামিদের নামে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।