নিজ নিজ ক্ষেত্রে সাফল্যের জন্য চার কৃতী নারী পেয়েছেন ‘রাঁধুনী কীর্তিমতী সম্মাননা-২০২২’। এই চার নারীর একজন ক্রিড়াক্ষেত্রে, অরেকজন সাংবাদিকতায়, একজন প্রতিবন্ধী নারীদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে এবং আরেকজন অসহায় নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য এ সম্মাননা পেয়েছেন।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই চার নারীকে সম্মাননা হিসেবে ক্রেস্ট ও চেক তুলে দেওয়া হয়।
বিকেল ৪টায় নৃত্যশিল্পী সাদিয়ে ইসলাম মৌ ও তার দলের নৃত্য পরিবেশনার মধ্যে দিয়ে শুরু হয় এ অনুষ্ঠান। এরপর একে একে কীর্তিমতী নারীদের সম্মাননা দেওয়া হয়। ফাঁকে ফাঁকে ছিল অতিথিদের বক্তৃতা। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা পারভেজ সাইফুল ইসলাম।
বরিশালে অসহায় নারীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন নাজমুন নাহার। তিনি কুটির ও বস্ত্র শিল্পসহ বিভিন্ন ব্যবসায় উদ্যোগের মাধ্যমে শতাধিক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেন। এছাড়া প্রতিবন্ধী নারীদের পুনর্বাসনের জন্যও কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। সম্মাননা পেয়ে নাজমুন নাহার বলেন, স্বামীর সঙ্গে ডিবোর্স হওয়ার পর সন্তান নিয়ে কঠিন সময় পার করতে হয়েছে তাকে। পদে পদে শুনতে হয়েছে মানুষের কটু কথা। আজকের দিনে এমন সম্মাননা সামনের দিনগুলোতে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জোগাবে।
মফস্বল এলাকার অনিয়ম পত্রিকার পাতায় তুলে ধরে কীর্তিমতী সাংবাদিক সম্মাননা পেয়েছেন রংপুরের লাবনী ইয়াসমিন। প্রায় ১০ বছরের সাংবাদিকতা জীবনে তাকেও নানা চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। একদিকে নিজের সঙ্গে লড়াই অন্যদিকে অসুস্থ সন্তান। তবুও হাল ছাড়েননি তিনি। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবেদন লিখে গেছেন ধারাবাহিকভাবে।
কীর্তিমতী ক্রীড়াবিদ সম্মাননা পেয়েছেন একসময় দেশের দ্রুততম মানবী রেহানা পারভীন। সাফ গেমস-সহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পদকজয়ী তিনি। এছাড়া রেফারি ও বিচারক হিসেবে এবং সাফ গেমসে আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্বপালনের মধ্যেদিয়ে সুনাম অর্জন করেছেন এই নারী ক্রীড়াবিদ।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন নারীদের সেবায় কাজ করে চলেছেন সেলিনা আক্তার। পেয়েছেন কীর্তিমতী হিতৈষী সম্মাননা। বনায়ন, স্যানিটেশন ও মানবসম্পদ উন্নয়নসহ সমাজ পরিবর্তনমূলক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি শতাধিক অসহায়, নির্যাতিত, প্রতিবন্ধী ও গৃহহীন নারীদের বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছেন ময়মনসিংহের এই নারী।
চার নারীর হাতে সম্মাননা স্মারক ও ক্রেস্ট তুলে দেন দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক, উইমেন এন্টারপ্রেনার্স নেটওয়ার্ক ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নাদিয়া বিনতে আমিন, ওয়ান্ডার ওমেনের প্রতিষ্ঠাতা সাবিরা মেহরিন, জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক আকরাম খান এবং পারভেজ সাইফুল ইসলাম।
এবারের নির্বাচক প্যানেলের সদস্য হিসেবে ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অজয় দাশ গুপ্ত, দৈনিক দেশ রূপান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোস্তফা মামুন, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গুটিপার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসলিমা মিজি, ইনোভেশন ফর ওয়েলবিয়িং ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মনিরা রহমান, এবং প্রযুক্তিসেবা প্রতিষ্ঠান ডিক্যাস্টালিয়ার পরিচালক সাবিলা ইনুন। পুরস্কার বিতরণ শেষে সংগীত পরিবেশন করেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী পিন্টু ঘোষ।