হাইকোর্টের প্রশ্ন

এনবিআরের চেয়ারম্যান কি নিজেকে সম্রাট ভাবেন

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের লেনদেনের বিপরীতে রাজস্ব আদায়ের বিষয়ে এনবিআরের (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) প্রতিবেদন না দেওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে উচ্চ আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের উদ্দেশে হাইকোর্ট বলেছে, ‘উনি (আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম) কেন আদালতের আদেশ অনুসরণ করছেন না? উনি নিজেকে কি সম্রাট ভাবেন? যে তথ্য চাওয়া হয়েছে, তাকে দাখিল করতে বলবেন।’ এ-সংক্রান্ত শুনানিকালে গতকাল রবিবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করে। হাইকোর্ট শেষবারের মতো সময় দিয়ে আগামী ২৭ মার্চ প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক আদালতকে বলেন, বিষয়টি তিনি এনবিআরের চেয়ারম্যানকে অবহিত করবেন।

গত ২৯ জানুয়ারি হাইকোর্ট এক আদেশে ই-অরেঞ্জের পৃষ্ঠপোষক ও বরখাস্ত হওয়া বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ সোহেল রানাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে পদক্ষেপ জানতে চায়। একই সঙ্গে ই-অরেঞ্জের লেনদেনের বিপরীতে রাজস্ব আদায়ের বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যানকে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেয় আদালত। এর ধারাবাহিকতায় বিষয়টি গতকাল শুনানির জন্য ওঠে। আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী এম আবদুল কাইয়ুম।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আমিন উদ্দিন মানিক হাইকোর্টকে বলেন, ই-অরেঞ্জের ঘটনায় করা মামলার তদন্ত চলছে। তবে, পত্রিকায় এসেছে সোহেল রানা ভারতে পালিয়ে গেছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তার বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য আনার চেষ্টা চলছে। তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিস জারি হয়েছে। এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন আগামী সপ্তাহে দাখিল করা হবে।

তবে রিটকারী পক্ষের আইনজীবী এম আবদুল কাইয়ুম আদালতকে বলেন, সোহেল রানার বিরুদ্ধে এখনো ইন্টারপোলের রেড নোটিস জারি হয়নি।

আদালত তখন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর উদ্দেশে বলে, এনবিআরের চেয়ারম্যানকে বলবেন। শেষবারের মতো সময় (২৭ মার্চ) দেওয়া হলো। আর রেড নোটিস জারির বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে সেটিও জানাতে হবে।

আমিন উদ্দিন মানিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রতিবেদন না দেওয়ায় আদালত ভালোভাবে নেয়নি। এনবিআর চেয়ারম্যানকে বিষয়টি অবহিত করা হবে।’ গত বছরের ৩ এপ্রিল ই-অরেঞ্জের মাধ্যমে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ৫৪৭ গ্রাহকের পক্ষে তাদের ছয়জন প্রতিনিধি এ রিট আবেদনটি করেন।