প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নে বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন মেয়র টিটু

প্রাচীনতম নগরী ময়মনসিংহ সিটিতে চলছে ব্যাপক উন্নয়ন কাজের কর্মযজ্ঞ। সিটির সড়ক, ড্রেনেজ নির্মাণ ও নাগরিক সেবা উন্নতকরণ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৫৬৩ কোটি টাকার একটি বড় আকারের প্রকল্প চলমান রয়েছে। ফলে ইতোমধ্যে প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডের মূল সড়ক ও অলিগলিতে চলছে কাজ। ময়মনসিংহ সিটিবাসী এই বিশাল কর্মযজ্ঞে আশান্বিত হয়েছেন।

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় তৈরি হচ্ছে ৯৭ কিলোমিটার আরসিসি, ৭৮ কিলোমিটার বিসি এবং দুই কিলোমিটার সিসি সড়ক, ৮৫ কিলোমিটার ড্রেন এবং ৭ কিলোমিটার ফুটপাত।

এছাড়াও অন্যান্য প্রকল্প থেকে ইতোমধ্যে ৮০ কিলোমিটার নতুন রাস্তা এবং ৪৩ কিলোমিটার ড্রেনের কাজ শেষ হয়েছে। বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সিটি করপোরেশনে যুক্ত হওয়া ২২ থেকে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডেও প্রশস্ত রাস্তা ও ড্রেন দৃশ্যমান।

সূত্র আরও জানায়, আন্ডারগ্রাউন্ড পাইপ ড্রেন নির্মাণের ফলে মূল শহরের অভ্যন্তরে জলাবদ্ধতার সমস্যা সিংহভাগ নিরসন হয়েছে। শহরবাসী মনে করেন আন্ডারগ্রাউন্ড পাইপ ড্রেন একটি ভাল উদ্যোগ। এতে খালগুলো থেকে পানি নিষ্কাশন সহজতর হয়েছে।

শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডেও প্রায় ১৬৫ কিলোমিটার সড়কে পোলসহ আধুনিক এলইডি বাতি স্থাপনের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। রাত্রিকালীন প্রতিদিন ৫০০ মেট্রিক টন বর্জ্য ব্যবস্থাপনাা করে যাচ্ছে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন। ক্লিনসিটি নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি করে বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এছাড়া মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্রিজম ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় নির্মাণ করা হচ্ছে ট্রিটম্যান্ট প্ল্যান্ট। এর মধ্যে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্পটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ২০১৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত এক হাজার ১৯২ জনকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ, ২ হাজার ৫৭৬ জনকে শিক্ষাবৃত্তি, এক হাজার ৪৭৬ জনকে পুষ্টি সহায়তা ৩১১ জন কিশোরীকে স্বাস্থ্য-পুষ্টি পরামর্শ ও উপকরণ প্রদানসহ নলকূপ, রোড লাইট, ড্রেন, টয়লেট, সেপটিক ট্যাংক ইত্যাদি নির্মাণ করে সহযোগিতা প্রদান করেছে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ময়মনসিংহ সিটিকে আধুনিক ও টেকসই সিটি করতে একটি বাস ও টেম্পোস্ট্যান্ড, শিশুপার্ক, নগরভবন, গোরস্থান, শশ্মানঘাট ওয়াটার ট্রিটম্যান্ট প্ল্যান্ট নির্মাণে কাজ করছে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন। যা বাস্তবায়ন হলে নগরবাসী প্রত্যাশা অনেকটাই পূরণ হবে।

এছাড়া টাউন হলে স্থাপিত হয়েছে বঙ্গবন্ধু গ্যালারি। বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধেও চেতনাকে ছড়িয়ে দিতে মেয়র ইকরামূল হক টিটু শম্ভুগঞ্জ ব্রিজের কাছে স্থাপন করেছেন জয়বাংলা চত্বর।

সিটি করপোরেশন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবার পর থেকে নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন মেয়র টিটুর নেতৃত্বে সিটি কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে বেশ কিছু সেবাকে নেওয়া হয়েছে অনলাইনে। ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনকে তিনটি অঞ্চলে বিভক্ত করে জন্মনিবন্ধন, মশক নিধন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কাজগুলো বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়েছে। ফলে নাগরিক সমস্যার অনেক লাঘব হয়েছে অন্যদিকে সময় ও শ্রম সাশ্রয় হচ্ছে।

করোনাকালে প্রধানমন্ত্রীর নিদের্শে মেয়র ইকরামূল হক টিটু করোনা মোকাবিলায় সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছেন। এ সময় সরকারি ও সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ১৩২৭ টন চাল ও ৬৫ লক্ষ টাকার খাদ্য সহায়তা ছাড়াও মেয়র নিজ উদ্যোগে লক্ষাধিক প্যাকেট খাদ্যসামগ্রী অসহায় মানুষদের মাঝে বিতরণ করেছেন। কোভিড টিকার রেজিস্ট্রেশন সহায়তায়, এলাকায় ও গ্রুপভিত্তিক টিকা ক্যাম্পেইন ইত্যাদি কারণে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রায় ৯৫ ভাগ মানুষকে দুই ডোজ টিকা দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

কাঠগোলা এলাকার বাসিন্দা আশরাফুল হক বলেন, দেশের নবীনতম সিটির প্রায় প্রতিটি ওর্য়াডেই উন্নয়ন কাজ হচ্ছে। তবে কিছু কিছু সংকট রয়েই গেছে। অপ্রশস্ত সড়কের কারনে যানজটের দুর্ভোগ পোহাচ্ছে নগরবাসী। তবে, বিশাল উন্নয়ন কর্মযজ্ঞের মান নিশ্চিত করাসহ দ্রুত সময়ে সম্পন্ন করতে পারলে নগরবাসী এর সুফল দীর্ঘদিন ভোগ করতে পারবে।

ময়মনসিংহ নাগরিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জি: নুরুল আমীন কালাম বলেন, নগরীতে নাগরিক সেবা উন্নত করতে ব্যপক কর্মযজ্ঞ চলছে। এতে নগরবাসী সাময়িক অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছে বটে। তবে এই কাজগুলো পুরোপুরি সম্পন্ন হলে ময়মনসিংহ হবে দেশের অন্যতম একটি আধুনিক নগরী।

মেয়র ইকরামূল হক টিটু বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে স্বপ্নে ময়মনসিংহবাসীকে সিটি কর্পোরেশন উপহার দিয়েছেন সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তবে করোনা মহামারী ও বৈশ্বিক সংকট কাজের গতিকে কিছুটা মন্থর করে দিলেও তিনি সর্বস্য দিয়ে জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন।