এবারও শেষ ষোলোতে বাদ পিএসজি

গোলশূন্য ড্র হলেই চলত বায়ার্ন মিউনিখের। আর পিএসজির দরকার ছিল অন্তত দুই গোলের ব্যবধানে জয়। ইনজুরির কারণে নেইমারের মৌসুম শেষ। ছিলেন লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে, বিশ্বকাপে দুজনে মিলে করেছেন ১৫ গোল। কিন্তু বায়ার্নের বিপক্ষে তারা গোলই করতে পারলেন না। উল্টো হজম করলেন দু’গোল। দুই লেগের (৩-০) টাই হেরে এবারও শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিতে হলো পিএসজিকে। এ নিয়ে ৭ মৌসুমে পঞ্চমবার এই পর্যায় থেকে বিদায় নিল চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপার সন্ধানে থাকা দলটি।

পার্ক দ্য প্রিন্সেসে প্রথম লেগে বায়ার্নের হয়ে গোল করেছিলেন পিএসজির সাবেক খেলোয়াড় কিংসলে কোম্যান। বুধবার অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনায় দ্বিতীয় লেগেও বায়ার্নের জয়ের নায়ক পিএসজির আরেক সাবেক খেলোয়াড় এরিক ম্যাক্সিম চুপো-মোতিং। শেষ দিকে বদলি নেমে সার্জ নাব্রি ব্যবধান বাড়ান।

চ্যাম্পিয়নস লিগে দুই লেগের ম্যাচে পিএসজি এর আগে গোল করতে ব্যর্থ হয়েছিল ১৯৯৫ চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালে এসি মিলানের বিপক্ষে। সেবারও দুই লেগের স্কোর ছিল একই ১-০ ও ২-০! মেসি বার্সেলোনায় থাকতে চ্যাম্পিয়নস লিগে কখনো টানা দুই মৌসুমে কোয়ার্টারে উঠতে ব্যর্থ হননি। পিএসজিতে প্রথম দুই মৌসুমেই বিদায় নিলেন শেষ ষোলো থেকে। বায়ার্নের বিপক্ষে মেসির রেকর্ডও তেমন ভালো নয়। জার্মান দলটির সঙ্গে ৯ ম্যাচ খেলে মেসির দল জিতেছে মাত্র ২টিতে। হেরেছে ৬টিতে। ড্র হয়েছে একটি। টমাস মুলার তো বলেই বসেছেন বায়ার্নের বিপক্ষে মেসির চেয়ে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ভালো। ‘মেসির বিপক্ষে আমাদের ফল সব সময়ই ভালো। ক্লাব পর্যায়ে মেসির চেয়ে বরং রোনালদোই (বায়ার্নের) সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছিল। সে যখন রিয়াল মাদ্রিদে খেলত, তখন তাকে নিয়ে আমরা বেশি চিন্তিত থাকতাম।’ তবে মেসির প্রতি শ্রদ্ধা আছে মুলানের। বলেন, ‘বিশ্বকাপে মেসি যে খেলা খেলেছে, সেটির প্রতি আমার সর্বোচ্চ শ্রদ্ধাই আছে।’

২৫ মিনিটে নুনো মেন্ডেসের বাড়ানো বল বায়ার্নের ডি বক্সে পেয়ে গিয়েছিলেন মেসি। তবে মেসি শট ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে প্রতিহত হয়। দ্বিতীয়বার শট নিলেও বাধা হয়ে দাঁড়ান বায়ার্ন গোলকিপার ইয়ান সোমের। জটলার মধ্যে মেসির তৃতীয় চেষ্টাও কাজে লাগেনি। বল ধরে ফেলেন সোমের। ৩১ মিনিটে জামাল মুসিয়ালার শট রুখে দেন পিএসজি গোলকিপার দোন্নারুমা। ৩৭ মিনিটে সোমেরের ভুলে বল পেয়ে যান ভিতিনহা। গোলপোস্ট ছিল ফাঁকা। দ্রুতই গোলমুখে ছুটে যান ডি লিখট। ভিতিনহার শট গোললাইনের আগে পা দিয়ে রক্ষা করেন ডাচ এই সেন্টার ব্যাক।

৫২ মিনিটে চুপো-মোতিং বল জালে জড়ালেও অফসাইডে বাতিল হয়। তবে ৬১ মিনিটে গোরেৎস্কার অ্যাসিস্ট থেকে চুপো বল জালে পাঠান। ২০২০ সালে পিএসজি থেকে বায়ার্নে যোগ দেন ক্যামেরুনের এই ফরোয়ার্ড। গোল হজম করে আক্রমণে ধার বাড়ায় পিএসজি। দ্বিতীয়ার্ধে রামোসের হেড একবার বায়ার্ন গোলকিপার ফেরান (৬৪ মিনিট) তো আরেকবার (৮২ মিনিট) অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ৮৯ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান নাব্রি। পিএসজি কোচ গালতিয়ে বলেন, ‘যখন আমরা সেরা ফুটবলটা খেলছিলাম, তখন গোল করতে পারিনি। পরে হাস্যকর একটা গোল খেলাম। দুই লেগেই আমরা গুরুত্বপূর্ণ কিছু ফুটবলারকে পাইনি। মূলত এটাই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। এমন ফল হতাশাজনক। আমি জানি না, এখান থেকে কিছু শেখার আছে কি না, তবে হতাশা আছে অনেক। আমরা যদি প্রথমে গোল করতাম, তাহলে সেটা অন্যরকম হতো, কিন্তু আমরা তা করতে পারিনি।’

১১ বছর পর চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে এসি মিলান : ১১ বছর পর গত মৌসুমে সিরি আ জিতেছিল এসি মিলান। এবার ১১ বছর পর ফের চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে দলটি। তারা হারিয়েছে টটেনহামকে।