যেভাবে নিজেকে বদলে ফেলেছেন শান্ত

যুব ক্রিকেটে রানের ফোয়ারা ছুটিয়েছেন। তাই বাংলাদেশে ‘সম্ভাবনাময়’ এক ক্রিকেটার হিসেবে দেখা হচ্ছিল তাকে। তাই ব্যর্থতার বৃত্তে বন্দী থাকলেও তাকে সুযোগ দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু নাজমুল হোসেন শান্ত আস্থার প্রতিদান দিতে পারছিলেন না। তবে গত অক্টোবরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বদলে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন। সবশেষ বিপিএলেও ব্যাট হাতে দ্যুতি ছড়িয়েছেন। আর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যে শান্তকে দেখা গেছে তা অবিশ্বাস্য রূপে।

চট্টগ্রামে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩০ বলে ৫১ রান করেছেন শান্ত। কোনো ছক্কা না এলেও চার মেরেছেন ৮টি। ১৭০ স্ট্রাইক রেটটাও চোখ কপালে তোলার মতো। খেলা শেষে তার হাতেই উঠেছে ম্যাচ সেরার পুরস্কার।

ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণে ব্যাটিং নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ভুগছিল বাংলাদেশ। বিশেষ করে টপ অর্ডারে অন্য দলগুলোর তুলনায় পিছিয়ে ছিল বরাবরই। তবে বৃহস্পতিবার এ যেন নতুন রূপে ধরা দিয়েছে বাংলাদেশ। সবাই ছাপ রেখেছেন ব্যাটিংয়ে। বিশেষ করে নাজমুল হোসেন শান্ত। তিনি কিভাবে নিজেকে বদলে ফেলেছেন, এ নিয়ে কথা বলেছেন সংবাদ সম্মেলনে।

দলের প্রতিনিধি হয়ে এসে জানালেন এটা নাকি তার ‘সি বল, হিট বল’ তত্ত্বের ফল। বলেছেন, ‘বল দেখেছি, ওই অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছি। ও রকম কিছু ছিল না। গ্যাপটা কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি। তাই হয়তো বাউন্ডারিগুলো মারতে পেরেছি।’

সিরিজের শুরু থেকে ব্যাটসম্যানদের অবারিত স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছিল জানিয়ে শান্ত বলেন, ‘এই সিরিজের একটাই (লক্ষ্য) ছিল, ব্যাটসম্যানরা যে যেভাবে স্বাভাবিক খেলা খেলে, ওভাবেই খেলবে। একদম স্বাধীনতা নিয়ে খেলবে। ইমপ্যাক্ট বা ইন্টেন্ট এক দিনে বললে তার পরের দিনই তো করা সম্ভব নয়। এর জন্য একটা সময়ের প্রয়োজন। আর অনেক সময় উইকেট, পরিস্থিতি একেক রকম থাকে। সবাই এমন খেলারই চেষ্টা করে। কিন্তু আমার মনে হয় এখন ব্যাটাররা অনেক স্বাধীনতা নিয়ে খেলছে।’

স্বাধীনতা পেয়েই বদলে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে বদলে গেছেন শান্ত। খেলেছেন ম্যাচসেরা এক ইনিংস। দলকে এনে দিয়েছেন জয়। পেয়েছেন এক আত্মবিশ্বাস। তাই বলেছেন, ‘প্রথম ম্যাচ জিততে পেরেছি, এটা দলকে অনেক আত্মবিশ্বাস দেবে। আমরা যখন দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে যাব, নতুন করে শুরু করতে হবে। এখন যদি চিন্তা করি, এই ম্যাচটা জেতার পর আমাদের দলের চিন্তাভাবনায় অনেক পরিবর্তন আসবে।’