যে কারণে উয়েফার প্রস্তাবে খুশি নয় রিয়াল

চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২০২২ আসরের ফাইনালের টিকেট কেটেছিলেন, অথচ স্টেডিয়ামে ঢুকতে পারেননি অনেক দর্শকেরা। গত সপ্তাহে তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল উয়েফা। তবে তাদের এই প্রস্তাব খুশি করতে পারেনি রিয়াল মাদ্রিদকে। ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রস্তাবকে ‘অপর্যাপ্ত’ ও সীমিত বলে দাবি করেছে স্প্যানিশ এই ক্লাবটি।

নিজেদের দায় স্বীকার করে ক্ষতিগ্রস্ত দর্শকদের টিকিটের অর্থ ফেরত দেওয়ার ঘোষণা দেয় উয়েফা। তবে রিয়ালের মতে, ক্ষতিপূরণ হওয়া উচিত দর্শকদের ভোগান্তির গুরুত্ব বিবেচনা করে। যে কারণে উয়েফার টিকিকের অর্থ ফেরত কার্যক্রমে সহযোগিতা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্লাবটি।

বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। সেখানে তারা বলেছে, ‘অনুতাপের বিষয় হচ্ছে, আমাদের ক্লাব বিশ্বাস করে উয়েফার প্রস্তাব পর্যাপ্ত নয়। এখানে শুধু টিকিটের অর্থ ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তা–ও বেশ কয়েকটি শর্তপূরণ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে, যার মধ্যে আছে স্টেডিয়ামে প্রবেশের সময়ের প্রমাণও।’

ক্লাবটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘সব দর্শকই ম্যাচ শুরুর সময় অগ্রহণযোগ্য বিলম্বের ভোগান্তিতে পড়েছিলেন। এ কারণে রিয়াল মাদ্রিদ উয়েফার প্রস্তাবিত সীমিত ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা পরিস্থিতির প্রতিকার এবং পূর্ণ দায়দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

গত বছরের ২৯ মে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয় প্যারিসের স্তাদ দি ফ্রান্সে। মুখোমুখি হয়েছিল ইংল্যান্ডের লিভারপুল ও স্পেনের রিয়াল মাদ্রিদ। স্থানীয় সময় রাত ৯টায় খেলা শুরুর কথা থাকলেও স্টেডিয়ামের ফটকে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির কারণে ৩৭ মিনিট দেরিতে শুরু হয় ম্যাচ।

সেদিন ফাইনালের টিকিট কেটেছিলেন ১৯ হাজার ৬১৮ জন লিভারপুল–সমর্থক। তাঁদের মধ্যে অনেকেই শেষ পর্যন্ত খেলা দেখতে পারেননি। কেউ কেউ মাঠে ঢুকতে পেরেছেন অনেক পরে। লিভারপুলের সমর্থকদের অভিযোগ ছিল, পুলিশ অযথাই ফটকে ঢোকার মুখে তল্লাশিতে দেরি করছিল।

এ নিয়ে হট্টগোলের একপর্যায়ে সমর্থকদের দিকে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে মারে প্যারিসের পুলিশ। আহত হন অনেকে। বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে চুরির ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনার পর একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন করে উয়েফা। গত মাসে প্রকাশিত কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, আয়োজকদের ব্যর্থতা ফাইনালের মতো একটা আয়োজনকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছিল।