চট্টগ্রামের ভিন্ন সংস্করণের দুই ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়ের কৃতিত্ব জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের কিউরেটরদের দেওয়া উচিৎ বলে জানিয়েছিলেন কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন। শুক্রবার একটি অনুষ্ঠানে তার আলাপ শেষেই জানা যায়, সাকিব আল হাসান একটি ব্যক্তিগত পুরস্কারের টাকার পুরোটাই ভাগ করে দিয়েছেন মাঠকর্মীদের মাঝে। শিষ্য যেন প্রমাণ করে দিলেন গুরুর কথাই ঠিক।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসকে চারবার বিপিএলের শিরোপা জেতানো কোচ অবাক হননি বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সে। বরং বাংলাদেশকেই এখন এগিয়ে রাখছেন সিরিজ জয়ের দৌড়ে। ‘অন টাইগার্স ট্রেইল’ বইয়ের প্রকাশনা উৎসবে আসা সালাহউদ্দিন জানালেন, বিপিএলটা ভালো উইকেটে হওয়াতেই ব্যাটসম্যানরা বড় শট খেলার স্বাধীনতা পাচ্ছেন।
টি-টোয়েন্টির বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডকে বাংলাদেশ ঘরের মাঠে হারিয়েছে ছয় উইকেটে। চট্টগ্রামে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টির পর আজ ঢাকায় ফিরেছেন দুই দলের ক্রিকেটাররা। রবি ও মঙ্গলবার সিরিজের দ্বিতীয় ও তৃতীয় টি-টোয়েন্টি হবে মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে, যেখানে গত মাস দেড়েকে নানান ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে অনেকগুলো টি-টোয়েন্টি ম্যাচই খেলেছেন জাতীয় দলে ডাক পাওয়া ক্রিকেটাররা। নাজমুল হোসেন শান্ত, রনি তালুকদার, তৌহিদ হৃদয়; তারা তিনজনই যথাক্রমে সবশেষ বিপিএলের শীর্ষ তিন রান সংগ্রাহক।
ভালো উইকেটে খেলাগুলো হয়েছে, ব্যাটসম্যানদের হাতে শটের রেঞ্জ বেড়েছে যেটা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচেও কাজে দিয়েছে, এমনটাই মনে করেন সালাহউদ্দিন, ‘আমাদের এখানে বিপিএল তো আগেও হতো, তবে এবারের মতো ভালো উইকেটে খুব কমই হয়েছে। উইকেট ভালো হলে ব্যাটসম্যানরা আত্মবিশ্বাস নিয়ে শট খেলতে পারেন, তাদের শটের রেঞ্জ অনেক বাড়ে।’
সালাহউদ্দিনের চোখে প্রথম টি-টোয়েন্টি জয়ের নায়ক বোলাররা। ইংল্যান্ডকে ১৬০ রানের ভেতর আটকে রাখার কৃতিত্ব বোলারদের দিয়েছেন এই কোচ, ‘তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ, মোস্তাফিজুর রহমানরা খুব ভালো বোলিং করেছেন। এই উইকেটে খেলার অভিজ্ঞতা ইংল্যান্ড দলের ক্রিকেটারদের কম আর আমাদের বোলাররা জানেন এই উইকেটে কীভাবে বোলিং করতে হয়।’
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশ দলের যে ছয়জন ব্যাটার ব্যাট করেছেন, প্রত্যেকের স্ট্রাইক-রেট ছিল ১১০-এর ওপরে। সালাহউদ্দিনের মতে, ‘ব্যাটাররা সাহস পেয়েছেন বিপিএলের সাফল্যেই, ওরা বিপিএলে ধারাবাহিকভাবে রান করেছে। ভালো উইকেটে খেলেছে তাই বড় শট খেলার সাহসও পেয়েছে। প্রতিপক্ষ যখন ১৬০-এর নিচে রান করে, তখন অনেক আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করা যায় কারণ লক্ষ্যটা খুব বড় না। তবে পুরো খেলায় বাংলাদেশ ইতিবাচক মানসিকতা ধরে রেখেছে।’
সিরিজের বাকি দুই ম্যাচে বাংলাদেশকেই ফেভারিট মনে করছেন সালাহউদ্দিন, ‘ইংল্যান্ডের তো ব্যাটসম্যানই নেই, মাত্র চারজন ব্যাটসম্যান। বাংলাদেশ মিরপুরের কন্ডিশনের সঙ্গে অনেক বেশি অভ্যস্ত, তাই আমি বাংলাদেশকেই পরের দুই ম্যাচে এগিয়ে রাখছি।’