সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বরিশালের উজিরপুর উপজেলাজুড়ে বিভিন্ন মাছের খামারে প্রকাশ্যেই ব্যবহার করা হচ্ছে মুরগির বিষ্ঠা।
স্থানীয়রা জানান, আইন প্রয়োগকারীরা নীরব ভূমিকা পালন করায় মৎস্য খামারিরা নির্ভয়ে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের অনৈতিক এ ব্যবসা। অপরদিকে, মুরগির বিষ্ঠার ক্ষতিকারক দিক বিবেচনা করে অনেকেই ঘেরের চাষ করা মাছ খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন।
উজিরপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বেশি লাভের আশায় পুকুর থেকে শুরু করে বিভিন্ন মাছের ঘেরের ওপরে মুরগির খামার তৈরি একই সঙ্গে দুটি ব্যবসা পরিচালনা করছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। তারা কম খরচে বেশি লাভের আশায় সাধারণ মানুষকে ফেলেছে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে।
মুরগির বিষ্ঠা মানব দেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর জেনেও উপজেলার জল্লার কারফা এলাকার বাজারের পাশেই প্রিয় লাল হালদারের ছেলে সুকলাল হালদার ৯৫ শতক জমির পুকুরে পানির ওপরে দীর্ঘদিন ধরে চারটি ঘর তুলে মুরগির খামার রেখেছেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রশাসনের কেউ তাকে নিষেধ করেনি। কম খরচে একত্রে দুটি ব্যবসা করে তিনি লাভবান হওয়ায় এ কাজ করছেন।
তবে স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা জানতেন না দাবি করেছেন সাতলার পটিবাড়ী এলাকায় সড়কের পাশের খামারি সালেক মিয়া। দেখা গেছে, তার মাছের ঘেরের ওপর মুরগির খামার। যা থেকে মুরগির বিষ্ঠা সরাসরি নিচে পানিতে পড়ছে আর মাছ তা খাচ্ছে। পুর্ব সাতলা গ্রামের মিলন মিয়া তার পুকুরের ওপরে একটি মুরগির খামার দিয়েছেন। এভাবে সাতলা, হারতা ও জল্লা ইউনিয়নজুড়ে প্রায় এক হাজার মাছের ঘেরের ওপর মুরগির খামার তৈরি করে নির্ভয়ে ব্যবসা করছেন মৎস্যচাষীরা।
সাতলার ইউপি চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার জানিয়েছেন, তার ইউনিয়নের প্রায় শতভাগ মৎস্য খামারি বিনা টাকায় মাছের খাবার হিসেবে মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহার করছে। প্রশাসন তেমন কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে অসাধু ব্যবসায়ীরা প্রকাশ্যে তাদের সব কিছু পরিচালনা করছে। যার ফলে দেশজুড়ে মানুষ চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকতা শওকত আলী বলেন, মুরগির বিষ্ঠা পরিবেশ ও মানবদেহের জন্য চরম ক্ষতিকর।
উজিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ সিকদার বাচ্চু বলেন, সাতলা হারতা ও জল্লা ইউনিয়নের মাছের ঘেরের ওপর মুরগির ফার্ম করে মুরগির বিষ্ঠা মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করার কারণে সাধারণ মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসকের অভিমত মুরগির বিষ্ঠায় নানা ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক ও কেমিক্যাল থাকায় তা মাছ খাওয়ার কারণে মাছগুলো দ্রুত বড় হয়ে যায়। ওইসব মাছ মানুষ খেলে ক্যানসারসহ নানা ধরনের জটিল রোগের সৃষ্টি করে।