রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে গেল এক বছরে কোনো ফল না এলেও যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পশ্চিমারা নতুন করে জোটবদ্ধ হতে পেরেছে। রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বা ইউক্রেনকে আর্থিক-সামরিক সহায়তার ক্ষেত্রেও ঐক্যবদ্ধ দেখা যাচ্ছে পশ্চিমাদের। অন্যদিকে রাশিয়াও পশ্চিমাদের চাপ কাটাতে নানা কৌশলে এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার মিত্রদের হাতে রাখতে পেরেছে। চীন, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের ইরান বা সৌদি আরবের মতো দেশগুলো হয়ে উঠেছে রাশিয়ার পরীক্ষিত মিত্র। এ অবস্থায় অনেক দিন ধরেই নতুন একটা বিশ্ব ব্যবস্থা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা শোনা যাচ্ছে। রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধের প্রত্যক্ষ প্রভাব হয়তো রাশিয়া বা ইউক্রেনকেই সবচেয়ে বেশি ভোগ করতে হবে, তবে পরোক্ষ প্রভাবটা পড়বে বিশ্ব রাজনীতি, অর্থনীতি এমনকি সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলেও। বদলাবে ক্ষমতার ভারকেন্দ্র। আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই বিশ্ব রাজনীতিতে চীনকে দেখা যাবে নতুন ভূমিকায়।
গত শুক্রবার সে ইঙ্গিত স্পষ্ট করেই দিয়েছে পেইচিং। চীনের মধ্যস্থতায়ই দীর্ঘ দিনের বৈরিতা ভুলে ভাঙা সম্পর্ক জোড়া লাগাতে এক মত হয়েছে সৌদি আরব ও ইরান। ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি শামখানি ও সৌদি আরবের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মুসায়েদ বিন মোহাম্মদ আল-আইবান চুক্তিতে সই করেছেন। তাদের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ছিলেন চীনের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও দেশটির সেন্ট্রাল ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিশনের পরিচালক ওয়াং ই।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স, এএফপি, আলজাজিরা, সিএনএনসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, সুন্নিপ্রধান সৌদি আরব ও শিয়াপ্রধান ইরান মধ্যপ্রাচ্যের দুই প্রভাবশালী দেশ। কয়েক বছর ধরে দেশ দুটির মধ্যে তিক্ততা চলে এসেছে। দুই দেশের দ্বন্দ্ব পারস্য উপসাগর এলাকায় যে কেবল উত্তেজনা বাড়িয়েছে তা-ই নয়; বরং ইয়েমেন থেকে সিরিয়া পর্যন্ত সংঘাতকে আরও গভীর করেছে। ওই দেশগুলোর চলমান সংঘাতে বিপরীত পক্ষকে সমর্থন দিচ্ছে সৌদি আরব এবং ইরান। ইয়েমেনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের পক্ষে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট। আর এর বিপরীতে হুতি বিদ্রোহীদের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়ে সহযোগিতা করছে ইরান।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে সৌদি আরব ও ইরানের আকস্মিক চুক্তি তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে লাগাম টানার সম্ভাব্য পথ আর ইয়েমেনে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিতের সুযোগ তৈরি করেছে। সৌদি-ইরানের সুসম্পর্ক সুদিন ফেরাতে পারে সিরিয়ায়ও। চলমান যুদ্ধ নিয়ে রাশিয়াকেও প্রবাভিত করার পথ খুলতে পারে চীনের নেতৃত্বে শুরু হওয়া নতুন এই বন্ধুত্বে। আর বিষয়গুলোই সবচেয়ে বেশি অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে। দীর্ঘদিন ধরে তাদের প্রভাব বলয়ে থাকা সৌদি আরব ইরানের সঙ্গে বন্ধুত্ব করার অস্বস্তি যেমন আছে, তেমনি অশান্তি আছে শান্তির মধ্যস্থতাকারী হিসেবে চীনের সক্রিয়তা নিয়েও।