আমাদের সঠিক খাবার খেতে হবে। নিরাপদ খাবারের নিরাপদ প্যাকেজিং নিশ্চিতের দায়িত্ব খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে জড়িত উদ্যোক্তাদের ওপর। বাংলাদেশে প্যাকেজিংয়ের নিরাপত্তার মান বাড়াতে এফআইসিসিআই, বিএফএসএ এবং বিএসটিআইর সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে সিগওয়ার্ক।
আজ বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) বাংলাদেশে নিরাপদ খাদ্য প্যাকেজিং বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে ঢাকার একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত 'সুন্দর আগামীর জন্য নিরাপদ খাদ্য প্যাকেজিং' শীর্ষক সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন।
প্যাকেজিং ও লেবেলের জন্য প্রয়োজনীয় ছাপা ও কোটিংয়ের কালি সরবরাহকারী বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান সিগওয়ার্ক এবং বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সংস্থা এফসিসিআইর আয়োজনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। নিরাপদ খাদ্য সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করা এবং নিরাপদ খাদ্য প্যাকেজিং বিষয়ে ব্র্যান্ড মালিক, নিয়ন্ত্রক ও প্রক্রিয়াজাতকারীসহ অন্যান্য অংশীজনদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করাই ছিল এ সম্মেলনের লক্ষ্য।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, খাবারের মান নিয়ন্ত্রণে সরকার বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার মধ্যেও চেষ্টা করছে পণ্যের মান ঠিক রাখতে। তবে সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় সেটা সম্ভব হয়ে উঠে না।
তিনি আরও বলেন, প্যাকেজ খাবারের মান নিয়ন্ত্রণে সঠিক প্যাকেট করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্যাকেজিং খাতে আমাদের দেশে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ দরকার।
তিনি আরও বলেন, আমি বিশ্বাস করি ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ তৈরি করার জন্য আমাদের খাদ্য ব্যবস্থাপনায় স্মার্ট প্যাকেজ চালু করতে হবে।
পণ্য এবং ভোক্তা নিরাপত্তার জন্য, সম্মেলনে নিরাপদ খাদ্য প্যাকেজিংয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে সিগওয়ার্ক। পাশাপাশি, নিরাপদ প্যাকেজিং নিশ্চিতে ছাপা ও কোটিংয়ের কালির ভূমিকার ওপরও জোর দেয় প্রতিষ্ঠানটি। উপযুক্ত ও নিরাপদ দ্রাবক, রঙ্গক ও অন্যান্য উপাদান ব্যবহারের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য প্যাকেজিং নিশ্চিতের জন্য একটি আইনি পদ্ধতি গ্রহণ এবং সমস্ত সাপ্লাই চেইনে সেই পদ্ধতির অনুসরণ অপরিহার্য বলে স্পষ্ট করে সিগওয়ার্ক। কারণ পণ্যকে সর্বোচ্চ নিরাপদ করতে পুরো ভ্যালু চেইনে সহযোগিতার পরিবেশ থাকা গুরুত্বপূর্ণ বলে জানায় তারা।
অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য রাখেন সিগওয়ার্ক এশিয়ার প্রেসিডেন্ট আশিস প্রধান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্যাকেটজাত খাবারের বাজার দ্রুত বিকশিত হচ্ছে। ফলে খাদ্য প্যাকেজিংয়ের জন্য আমাদের এখন নতুন উচ্চতর মান প্রয়োজন। খাদ্য প্যাকেজিংয়ের ক্ষেত্রে অপ্রচলিত ও অনিরাপদ চর্চা থেকে সরে এসে উন্নত ও নিরাপদ শাস্য প্যাকেজিংয়ের কৌশলগুলো রপ্ত করা এখন জরুরি।
তার মতে, প্যাকেজিংয়ে মান নিশ্চিত করা খুবই জটিল একটি চ্যালেঞ্জ। কারণ, খাদ্য পণ্যের জন্য নিরাপদ প্যাকেজিং সরবরাহ করতে সাপ্লাই চেইনের সব স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে একটি সহযোগিতাপূর্ণ পরিবেশ থাকতে হয়। পাশাপাশি এই প্রক্রিয়া তাদের একত্রে কাজ করতে বাধ্য করে।
তিনি বলেন, এই সম্মেলনের উদ্দেশ্য হলো প্যাকেজিং চেইনের বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে মতবিনিময় করা এবং নতুন নিয়মগুলো বাস্তবায়নের জন্য নিজেদের ভূমিকা ঠিক করে নেওয়া।
সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রূপালী হক চৌধুরী, ইউনিলিভার কনজিউমার কেয়ার সিইও কেএসএম মিনহাজ, নেসলের ডিরেক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং হাকিম আসরার আহমেদ, পারফেট্টি ভ্যান মেলের সাপ্লাই চেইন ডিরেক্টর আরশাদ চৌধুরী, আরলা ফুডস হেড অফ মার্কেটিং গালিব বিন মোহাম্মদ, কোকা-কোলা কমিউনিকেশন অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি হেড ফারাহ শারমিন আওলাদ।