শাস্তি ও ক্ষতিপূরণ সস্তা হওয়ায় দুর্ঘটনা বাড়ছে

‘দুর্ঘটনায় মানুষের প্রাণ হারানোর শাস্তি বা ক্ষতিপূরণ সস্তা হওয়ায় দেশে দুর্ঘটনা বাড়ছে। যাদের কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে, তারা সতর্ক হচ্ছে না। কেননা, তারা মনে করেন অল্প কিছু টাকা দিয়ে সব মিটিয়ে ফেলা সম্ভব হবে। এখানে কঠোর না হলে এ অবস্থার উত্তরণ ঘটনো সম্ভব হবে না।’

গতকাল শুক্রবার ভার্চুয়াল প্ল্যাটফরমে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি) নগরায়ণ ও উন্নয়নবিষয়ক পর্যালোচনা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বক্তারা এসব কথা বলেন। এই আলোচনা অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন আইপিডির নির্বাহী পরিচালক এবং পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান।

আইপিডির উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ বলেন, ‘নগরেরও একটি ব্যাকরণ রয়েছে। সেটা অনুসরণ করে কাজ করতে হবে। অনুসরণ না করায় এই বিশৃঙ্খলার অবস্থা বিরাজ করছে নগরে। অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনায় ঝরে যাচ্ছে শত শত প্রাণ। নগরের ব্যাকরণ হচ্ছে ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে যথাযথ আইন অনুসরণ করা।’

আইপিডির পরিচালক পরিকল্পনাবিদ ড. চৌধুরী জাবের সাদেক বলেন, ‘আমাদের সমাজের সবক্ষেত্রে বড় সমস্যা হলো এখানে পেশাদারিত্ব গড়ে ওঠেনি। এজন্য সবক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। কোনো দুর্ঘটনায় কেউ মারা গেলে এক বা দুই লাখ টাকা দিয়ে পার পেয়ে যাওয়া যায়। জীবনের মূল্য সস্তা করায় ইচ্ছাকৃত বা অবহেলাজনিত দুর্ঘটনা বাড়ছে।’

আইপিডির পরিচালক এবং পরিকল্পনাবিদ মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, আমাদের সহজাত প্রবৃত্তি কম খরচে কোনো কিছু করা। এখানে বড় সমস্যা খরচ কমালেই দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। সেসব দিকও সঠিকভাবে ভাবতে হবে। আর গরিবরা নিজেদের জীবন নিয়ে হতাশ। তারা নিরাপত্তার সরঞ্জাম বা নিয়মকানুন মানতে চান না। নির্মাণ খাতের অনেক শ্রমিককে নিরাপত্তা সরঞ্জামাদির বিষয়ে বললে তারা বলেন, ‘স্যার এসব আমাদের দরকার নেই। তারা বলেন, গরিব মরবে না স্যার।’

আইপিডির পরিচালক ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্রধান নগর-পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে ন্যাশনাল বিল্ডিং কোডের ফায়ার সেফটি ইস্যুগুলো নিশ্চিত করা দরকার। ফায়ার সার্ভিসের ভাষ্য অনুযায়ী ৩০ ফুট সড়ক না থাকলে তারা অগ্নিকাণ্ডের সময় কাজ করতে পারে না। ঢাকায় এ ধরনের সড়কের পরিমাণ পাঁচ ভাগেরও কম। ঢাকাকে বাসযোগ্য রাখতে হলে এবং দুর্যোগ ঝুঁকি কমাতে হলে উন্মুক্ত জায়গার পরিমাণ বাড়াতে হবে।’

আইপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘নগর কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব মানুষকে নিরাপদ জীবনদান করা। কিন্তু বাংলাদেশে তার বড়ই অনুপস্থিতি দেখতে পাচ্ছি। ২০২২ সালের ফায়ার সার্ভিসের প্রতিবেদন অনুযায়ী অগ্নিঝুঁকিতে রয়েছে দেশের ৩৮ শতাংশ ভবন। এর মধ্যে ঢাকার ৫৫ শতাংশ, চট্টগ্রামের ৫৪, খুলনার ৪১ ও বরিশালের ৩০ শতাংশ। নগরগুলোকে নারী, শিশু, বৃদ্ধসহ সব শ্রেণিপেশার মানুষের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে।’  অন্যদের মধ্যে আইপিডির ভার্চুয়াল আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কেমিকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. ইয়াসির আরাফাত, তড়িৎ প্রকৌশল নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী মো. হাসান মাহমুদ খান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফরহাদুর রেজা প্রমুখ।