উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির নামে নদী ও প্রাণ-প্রকৃতি ধ্বংসের কঠোর সমালোচনা করেছেন লেখক, গবেষক ও অ্যাকটিভিস্টরা। তারা বলেন, উন্নয়ন ও নদীকে মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে নদীমাতৃক বাংলাদেশ থেকে নদী গায়েব করে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
বিশিষ্টজনেরা বলেন, এই ভয়াবহ প্রবণতা ঠেকাতে তারা রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারক, রাজনীতিবিদ, গণমাধ্যমকর্মী, অ্যাকাডেমিশিয়ান ও অ্যাকটিভিস্টদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
এ বছর অমর একুশে বইমেলায় প্রকাশিত সাংবাদিক ও লেখক আমীন আল রশীদের ‘উন্নয়নপাঠ: নদী ও প্রাণ’ বইয়ের ওপর আলোচনায় এসব কথা উঠে আসে। শহর ও শিল্পাঞ্চলের নদীগুলো সবচেয়ে বেশি বিপন্ন উল্লেখ করে বক্তারা একে ‘আত্মঘাতী উন্নয়ন চিন্তা’ বলে মন্তব্য করেন।
রাজধানীর কাছে টঙ্গী খালের উপর রেল সেতু নির্মাণ করতে গিয়ে খালের দুই পাড় ভরাটের সমালোচনা করে এ ধরনের প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের দেশপ্রেম ও দায়বদ্ধতা নিয়েও বক্তারা প্রশ্ন তোলেন।
তারা মনে করেন, টঙ্গী খালের প্রাণ-প্রবাহ ঠিক রেখেই সেতুটি নির্মাণ করা যেত। পিলারগুলো নদীর সীমানার বাইরে দেওয়া যেত। কিন্তু সেটি না করে খরচ কমানোর জন্য সেতুর পিলার দেওয়া হয়েছে খালের ভেতরে। এমনকি সরু এই খালকে ভরাট করে আরও সরু করে ড্রেনে পরিণত করা হচ্ছে।
বছরের পর বছর ধরে যাদের ভুল নকশা ও পরিকল্পনার কারণে দেশের নদী, খাল, জলাশয় ভরাট হয়েছে, নাব্যতা হারিয়েছে, তাদের বিচারের আওতায় আনা উচিত বলেও বক্তারা উল্লেখ করেন।
আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাসউদ ইমরান মান্নু, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, নদী গবেষক মোহাম্মদ এজাজ, নৌযোগাযোগ বিশেষজ্ঞ আমিনুর রসুল বাবুল, যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ খান মো. রবিউল আলম, লেখক আলমগীর খান, সৈকত হাবিব, রিভার বাংলার সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এই আলোচনার আয়োজন করে গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টার (আরডিআরসি)।