যুক্তরাষ্ট্রে আগামী বছর হতে যাওয়া প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ফের রিপাবলিকানদের প্রার্থী হওয়ার কথা ইতিমধ্যে জানিয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ক্যাপিটল হিলে তাণ্ডব চালানোয় উসকানি, বিলাসবহুল বাড়ি থেকে রাষ্ট্রীয় গোপন নথি উদ্ধারে বিতর্কিত ট্রাম্পের রাজনৈতিক গুরুত্ব স্তিমিত হয়ে এসেছিল। তবে এখনো যে তিনি রিপাবলিকানদের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ তা নিজেই প্রমাণ করলেন ট্রাম্প স্বয়ং। আগামী সপ্তাহের মঙ্গলবার তিনি গ্রেপ্তার হবেন এমন উড়ো খবর ছড়িয়ে রিপাবলিকান শিবিরকে নাড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান বলছে, এখনো গুরুত্বপূর্ণ ট্রাম্প।
গতকাল রবিবার এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, রিপাবলিকান পার্টির শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের লড়াইতে ট্রাম্পের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীরাও তার গ্রেপ্তারের শঙ্কায় একাত্মতা জানিয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্টের পক্ষে দাঁড়িয়ে তার সম্ভাব্য গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে সরব হয়েছেন রিপাবলিকানরা। ‘যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্টকে অভিযুক্ত করার চেষ্টা আমাকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করছে, একই সঙ্গে কোটি নাগরিককেও শঙ্কায় ফেলেছে,’ এই মন্তব্য করেছেন সাবেক ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও আসন্ন নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে লড়তে চাওয়া রিপাবলিকান নেতা মাইক পেন্স।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বীরা সাধারণ ভোটারদের মাঝে সাবেক প্রেসিডেন্টের গুরুত্ব হারাক সেটা চাইলেও এখন তারা রাজনৈতিক ঝুঁকি না নিয়ে ট্রাম্পের পক্ষে সরব। কারণ বাস্তবতা হলো সবার কাছে ট্রাম্পই রিপাবলিকানদের সবচেয়ে পরিচিত মুখ। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের বর্তমান স্পিকার ও রিপাবলিকান নেতা কেভিন ম্যাককার্থিও ট্রাম্পের সম্ভাব্য গ্রেপ্তার নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে চলা ম্যানহাটন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির বিরুদ্ধে কড়া সুরে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা মেটাতে জঘন্যভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন তিনি (ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি)।’
গার্ডিয়ান বলছে, সংকটে ট্রাম্প এর আগেও রিপাবলিকান শিবির ও সমর্থকদের পাশে পেয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের তদন্ত সংস্থা এফবিআই যখন তার বাড়িতে তল্লাশি করেছিল তখনো ফুঁসে উঠেছিল গোটা রিপাবলিকান শিবির।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প মুখ বন্ধ রাখতে পর্নো তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলসকে অবৈধভাবে ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ অভিযোগে ম্যানহাটনের জেলা অ্যাটর্নি অ্যালভিন ব্র্যাগের অফিস চলতি বছরের শুরুর দিকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এ মামলার কার্যক্রম শুরু করে। এ মামলার সূত্র ধরে গত শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক ব্লগ পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ‘সবদিক দিয়ে এগিয়ে থাকা রিপাবলিকান নেতা ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্টকে আগামী সপ্তাহের মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করা হবে।’