বুড়োদের গোলের রাতে হালান্ডের হ্যাটট্রিক

শনিবার রাতে কাছাকাছি সময়ে অনুষ্ঠিত ম্যাচে গোল করলেন ৪১ বছরের জøাতান ইব্রাহিমোভিচ, ৩৮ বছরের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। সবচেয়ে বেশি বয়সে ইব্রার গোলে অবশ্য জিততে পারেনি তার দল এসি মিলান। অন্যদিকে রোনালদো তার সৌদি ক্লাব আল নাসরের মাঠে করেছেন প্রথম গোল, যা ছিল সমতাসূচক, পরে জিতেছে তারা। বুড়োদের এই গোলের রাতে হ্যাটট্রিক করেছেন ২২ বছরের আর্লিং হালান্ড। আগের ম্যাচে পাঁচ গোলের পর তার তিন, আর ২৩ বছর বয়সী জুলিয়ান আলভারেজের জোড়ায় এফএ কাপ কোয়ার্টার ফাইনালে বার্নলিকে ৬-০ গোলে হারিয়েছে ম্যানসিটি।

লাইপজিগের বিপক্ষে আগের ম্যাচে পাঁচ গোলের পর কোচ তাকে তুলে নেওয়ায় ডাবল হ্যাটট্রিক করতে পারেননি হালান্ড। গোলের খিদেটা যেন মরে না যায় সে জন্যই তাকে তুলে নেওয়া বলে জানিয়েছিলেন কোচ পেপ গার্দিওয়ালা। সেটাই যেন প্রমাণ করলেন আবার হ্যাটট্রিক করে। গত জুনে সিটিতে যোগ দেওয়া চোখ ধাঁধানো ধারাবাহিকতায় এই মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে হালান্ড করে ফেললেন ৪২ গোল। এর মধ্যে হ্যাটট্রিক ৬টি! নিজের মানদণ্ড এতটা উঁচু তারে বেঁধে দিয়েছেন তিনি, ২২ বছর বয়সী ফরোয়ার্ডের কাছে প্রত্যাশাও ক্রমে আকাশচুম্বী হয়ে উঠছে বলে মনে করেন গার্দিওয়ালা। ‘সামনে ছেলেটি বড় এক সমস্যায় পড়বে। লোকে আশা করবে, প্রতি ম্যাচেই সে তিন-চার গোল করে করবে। কিন্তু এমনটি তো হওয়ার নয়!’ আবার এও বলেছেন, ‘অবশ্য লোকের কিছু বলার থাকবেই। আমি জানি, সে এসব পাত্তা দেয় না। জীবন নিয়ে সে এতটা ইতিবাচক, এতটা আশাবাদী, সে কখনোই কোনো অভিযোগ করে না, সবসময় নিজের দিকে তাকায়...আমরা ভালো খেলতে থাকলে সে গোল করে যাবেই।’

সেই গোল সংখ্যা কত হতে পারে? প্রিমিয়ার লিগ জমানায় সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মৌসুমে ৪০ গোল করার কৃতিত্ব তার আগে দেখাতে পেরেছেন কেবল ৫ জন- রুড ফন নিস্তেলরয় (৪৪), মোহামেদ সালাহ (৪৪), ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (৪২), অ্যান্ডি কোল (৪১) ও হ্যারি কেইন (৪১)। তাদেরকে ছাড়িয়ে যাওয়া তো বটেই, ৫০ গোল হতেও খুব বেশি সময় লাগার কথা নয় তার।

রেকর্ড গড়েও খুশি নন ইব্রা: এক বছরেরও বেশি সময় পর এসি মিলানের হয়ে শুরুর একাদশে নেমেছিলেন ইব্রা। উদিনেসের কাছে নবম মিনিটে পিছিয়ে পড়ার পর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে সমতা টানেন তিনি। ২০০৭ সালের মে মাসে ৪১ বছর ২৫ দিন বয়সে এসি মিলানের কোস্তাকুর্তার করা সবচেয়ে বেশি বয়সে গোলের রেকর্ড ভেঙে ইব্রা গড়েন ৪১ বছর ১৬৬ দিনের রেকর্ড। কোস্তাকুর্তার সেই গোলও ছিল উদিনেসের বিপক্ষে এবং পেনাল্ট থেকে। এ সে ম্যাচেও হেরেছিল মিলান। এবার ১-৩ গোলে হেরে যাওয়ার পর স্বাভাবসুলভ ভঙ্গিতে হতাশ ইব্রা বলেছেন, ‘কোস্তাকুর্তার চাইলে রেকর্ড রাখতে পারেন, আমি এই রেকর্ড চাই না।’ এরপরই প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘আমি এই ক্লাবের ইতিহাসে থাকতে পেরে গর্বিত, কারণ এটি দারুণ ইতিহাসের একটি দুর্দান্ত ক্লাব। এখানে খেলোয়াড়রা বিস্ময়কর সব কাজ করেছে এবং সেখানে আমার নাম থাকা আমার কাছে অনেক কিছু।’ তবে গোল করেও ম্যাচ জেতাতে না পেরে হতাশ ইব্রা, ‘এই গোলটি পয়েন্ট আনতে পারেনি, যা আমি চেয়েছিলাম। আমিও অধিনায়ক হতে পেরে গর্বিত, কিন্তু খেলাটি আমরা যেভাবে চেয়েছিলাম সেভাবে হয়নি।’

আল নাসরে রোনালদোর ৯: টানা তিন ম্যাচে গোলশূন্য থাকার পর একক নৈপুণ্যে জালের দেখা পেলেন রোনালদো। আগের রাউন্ডে আল-ইত্তিহাদের মাঠে হেরে লিগ টেবিলের শীর্ষস্থান হারায় আল নাস্র। পরে গত মঙ্গলবার কিংস কাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে আভার বিপক্ষে দল ৩-১ গোলে জিতলেও ব্যক্তিগতভাবে তেমন আলো ছড়াতে পারেননি রোনালদো। উল্টো মেজাজ হারিয়ে হলুদ কার্ড দেখেন তিনি। শেষ দিকে তাকে তুলেও নেন কোচ। সব মিলিয়েই সময়টা ভালো যাচ্ছিল না পর্তুগিজ তারকার। শনিবার আভার বিপক্ষে ২৬ মিনিটে গোল খেয়ে বসে আল নাস্র। সময় বয়ে যাচ্ছিল, আল নাস্র শিবিরে হয়তো পেয়ে বসতে শুরু করেছিল আরেকটি হারের শঙ্কা। অবশেষে ৭৮ মিনিটে দলকে সমতায় ফেরান রোনালদো। অনেক দূর থেকে ফ্রি কিকে রক্ষণ দেয়ালের খেলোয়াড়দের মধ্য দিয়ে বল জালে পাঠান তিনি। জানুয়ারিতে আড়াই বছরের চুক্তিতে যোগ দেওয়া আল নাস্রের হয়ে এই নিয়ে ৯টি গোল করলেন রোনালদো। ক্লাবের আঙিনা মার্সুল পার্ক স্টেডিয়ামে অবশ্য এটিই প্রথম। ৮৬ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ব্রাজিলিয়ান তালিসকার গোলে ১৫তম জয় নিশ্চিত হয় আল নাসরের। ২১ ম্যাচে ১৫ জয় ও ৪ ড্রয়ে ৪৯ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে আল নাস্র। ১ পয়েন্ট বেশি নিয়ে শীর্ষে আল-ইত্তিহাদ।