ছাত্রলীগের পদ পেতে পা টিপতে হয়!

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হকের পা টেপানোর ছবি ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। যা নিয়ে ক্ষোভ জানাচ্ছেন চবি ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতা-কর্মীরা।

চবি ছাত্রলীগের সহসভাপতি প্রদীপ চক্রবর্তী বলেন, পা টেপা দুজন কমিটিতে পদ পেয়েছেন। অনেক যোগ্য ব্যক্তি পাননি। এতে বোঝা গেল, ছাত্রলীগের পদে আসতে হলে এ ধরনের তেল বাজির কাজ করে আসতে হয়। যদিও সভাপতি রেজাউল হকের দাবি, তিনি অসুস্থ থাকায় ওই দুই নেতা তাকে সেবা করছিলেন।

সোমবার ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, ছাত্রলীগ সভাপতি রেজাউল বিছানায় শুয়ে মোবাইলে টিকটক দেখছেন। আর তার পা টিপছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের উপকর্মসূচি ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক শামীম আজাদ ও উপক্রীড়া সম্পাদক শফিউল ইসলাম।

চবি ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন, আমরা এ ঘটনা নিয়ে খুবই বিব্রত। দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছ থেকে এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ঘটনা সংগঠনের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে। এর আগেও এসব ঘটনা ঘটেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি বলেন, রেজাউল হকের ছাত্রত্ব শেষ প্রায় ১০ বছর আগে। যদি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধাবোধ থাকে, তাহলে এখনই তার উচিত বর্তমান ছাত্রদের হাতে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া। বাড়িতে গিয়ে ব্যক্তিগত জীবন শুরু করা। কারণ, রেজাউলের কর্মকাণ্ডে সংগঠনের ভাবমূর্তি একেবারে তলানিতে এসেছে। এমন কোনো অপকর্ম নেই, যেটিতে রেজাউল হক সম্পৃক্ত নন।

উল্লেখ্য, রেজাউল হক ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পান ২০১৯ সালে ১৪ জুলাই। সভাপতির মেয়াদ এক বছর হলেও তিনি এখনো এই পদে রয়ে গেছেন। তাঁর শিক্ষাবর্ষের অন্য শিক্ষার্থীরা অন্তত ৯ বছর আগে স্নাতকোত্তর শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়েছেন।