জাবিতে কর্মীর কান ফাটালেন ছাত্রলীগ নেতা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মীর মশাররফ হোসেন হলের অতিথি কক্ষে শিক্ষার্থীকে থাপ্পড় দিয়ে কান ফাটানোর অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত হাসান মাহমুদ ফরিদ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ৪৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। ফরিদ শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি। আর ভুক্তভোগী সজিব আহমেদ ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে কয়েকজন বহিরাগতের সঙ্গে মীর মশাররফ হোসেন হলের শিক্ষার্থীদের বাগবিতণ্ডা হয়। তখন বহিরাগতদের মধ্য থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অনিন্দ্য দিব্য মেহেদী নামে ইতিহাস বিভাগের এক শিক্ষার্থীর ছবি তুলে রাখেন। তখন দিব্যকে মারধর করেন শিক্ষার্থীরা। পরে বিকেল ৪টার দিকে দিব্যকে মীর মশাররফ হোসেন হলের সামনে দেখতে পেয়ে তাকে মারধর করে হলের অতিথি কক্ষে আটকে রাখেন শিক্ষার্থীরা। মারধরের শিকার অনিন্দ্য দিব্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি এবং মীর মশাররফ হোসেন হলের ছাত্রলীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের পূর্বপরিচিত ছিল। আর তাকে মারধরে অভিযুক্তরাও জাবি শাখা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

এই ঘটনার মীমাংসা করতে রাত সাড়ে ৮টার দিকে হলের জ্যেষ্ঠ ছাত্রলীগের নেতারা ঘটনায় জড়িত ছাত্রলীগকর্মীদের অতিথি কক্ষে ডেকে নেন। সেখানে ঘটনার মীমাংসা করেন ছাত্রলীগ নেতারা। তবে মীমাংসার পর দিব্য হল থেকে যখন বের হচ্ছিল তখন ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী তাকে আরেক দফায় মারধর করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে হলের জ্যেষ্ঠ ছাত্রলীগ নেতারা অতিথি কক্ষে ওই ছাত্রলীগকর্মীদের ডেকে নেন। সেখানে রাত সাড়ে ১০টার দিকে সজীব আহমেদ নামের শিক্ষার্থীকে এলোপাথাড়ি থাপ্পড় দেন হাসান মাহমুদ ফরিদ। এতে সজীবের কান দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে।

সজীবকে তার বন্ধুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নিতে চাইলে শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি ও ইতিহাস বিভাগের ৪৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল ফারুক ইমরান বাধা দেন। তবে সজীবের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়া হয়। পরে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

অতিথি কক্ষে এ ঘটনার সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ ও শাহ পরান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান, উপ-ছাত্রবৃত্তি বিষয়ক সম্পাদক আল রাজি সরকার প্রমুখ। তারা সবাই মীর মশাররফ হোসেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী এবং শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আকতারুজ্জামান সোহেলের অনুসারী বলে পরিচিত।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মীর মশাররফ হোসেন হলের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘অতিথি কক্ষে আমাদের পাঁচজনকে সামনে দাঁড় করিয়ে কানে থাপ্পড় দিতে থাকেন ভাইয়েরা। সজিবের কানে একটু আগে থেকেই সমস্যা ছিল। থাপ্পড়ের কারণে তার কান দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল।’

অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা হাসান মাহমুদ ফরিদ বলেন, ‘কাউকে কানে থাপ্পড় দেওয়া বা মারা হয়নি। ওই ছেলে গেস্টরুমে অসুস্থ বোধ করছিল, তাই তাকে আমরা তার বন্ধুদের সঙ্গে হাসপাতালে পাঠিয়েছি।’

অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুল্লাহ আল ফারুক ইমরান বলেন, ‘আমরা হলে প্রতি সপ্তাহে গেস্টরুম করি। সাংগঠনিক বিভিন্ন কাজকর্ম করার জন্য সেখানে দিক-নির্দেশনা দেওয়া হয়। গতকালও তেমনটিই হয়েছিল। কাউকে তো মারা হয়নি। সজীবের কানে আগে থেকেই একটু সমস্যা ছিল। ডাক্তার তাকে পানি লাগাতে নিষেধ করেছে। গেস্টরুমে একটু চিৎকার হয়েছিল, তাতেই তার কানের সমস্যা দেখা দেয়। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য আমরাই দায়িত্ব নিয়ে মেডিকেলে পাঠিয়েছিলাম। সে আমাদের ছোট ভাই তাকে কেনো আটকিয়ে রাখব?’

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আকতারুজ্জামান সোহেল বলেন, ‘অতিথি কক্ষে নির্যাতন কিংবা মারধর হয়ে থাকলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে মীর মশাররফ হোসেন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে পেরেছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। স্বপ্রণোদিত হয়ে দুপক্ষকে ডেকে সমাধানের চেষ্টা করব।’