রমজানে প্রথমবারের মতো আলোকসজ্জিত লন্ডন

ডিসেম্বরে ক্রিসমাস উৎসবকে কেন্দ্র করে বর্ণিল আলোতে ঝলমলিয়ে ওঠে লন্ডনের রাস্তাঘাট। কিন্তু মার্চের শেষেও এবার আলোতে সেজেছে ব্রিটেনের এ নগরী। উপলক্ষ ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র মাস রমজানের আগমন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, ইতিহাসে প্রথমবারের মতো রমজান উপলক্ষে বর্ণিল সাজে সেজেছে যুক্তরাজ্যের রাজধানীর পশ্চিম প্রান্ত। প্রায় ৩০ হাজার বাতির আলোয় উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে গোটা এলাকা। রমজান উপলক্ষে শহরটিতে এ ধরনের সাজসজ্জা আগে কখনো দেখা যায়নি। পশ্চিম লন্ডনের লিসেস্টার স্কয়ারের সঙ্গে পিকাডিলির সংযোগ ঘটানো কভেন্ট্রি স্ট্রিটে গেলেই এখন দেখা যাচ্ছে, মাথার ওপর উজ্জ্বল আলোয় জ্বলজ্বল করছে ‘হ্যাপি রামাদান’ লেখা। বিবিসি জানায়, এই আলোকসজ্জার উদ্বোধন করেছেন লন্ডনের মেয়র সাদিক খান। শহরটিতে বসবাসরত ১৩ লাখ মুসলিমের মতো তিনিও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন রমজানের জন্য। এই প্রদর্শনীর উদ্যোক্তার নাম আয়েশা দেশাই। ক্রিসমাসের আলোকসজ্জায় অনুপ্রাণিত হয়ে রমজান উপলক্ষে একই ধরনের আয়োজন করতে চেয়েছিলেন তিনি। 

আয়েশা বিবিসিকে বলেন, ‘এটি ক্রিসমাস লাইটের মতো করার ইচ্ছা ছিল আমার। মনে পড়ে, আমার বোনের সঙ্গে (লন্ডনে) ক্রিসমাস লাইট দেখতে যেতাম। আমার মধ্যপ্রাচ্যেও থাকার সুযোগ হয়েছিল। আমি সেই আনন্দ ও মোহনীয় রূপ লন্ডনে আনতে চেয়েছিলাম।’  রমজানে লন্ডনকে সাজানোর উদ্যোগ তিন বছর আগে শুরু করেছিলেন আয়েশা। সেটি শেষ পর্যন্ত বাস্তবে রূপ নেওয়ায় আবেগাপ্লুত আয়েশা বলেন, ‘এটি অবিশ্বাস্য। মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখে আমি অভিভূত। এটি মুসলিমদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাস। আমি প্রতিবেশীদের জানাতে চেয়েছিলাম, এটি আমাদের জন্য সত্যিই কতটা গুরুত্বপূর্ণ ও আমার কাছে বছরের সবচেয়ে প্রিয় মাস।’  রমজান উপলক্ষে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে শহরের অন্যান্য প্রান্তেও। দক্ষিণ কেনসিংটনের ভিক্টোরিয়া এবং অ্যালবার্ট মিউজিয়ামে উন্মুক্ত ইফতারের আয়োজন করা হবে। মিউজিয়ামটিতে একটি অস্থায়ী মসজিদ এবং রমজান প্যাভিলিয়নও তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া, স্ট্যামফোর্ড ব্রিজ স্টেডিয়ামের পাশে উন্মুক্ত ইফতার আয়োজন করবে ফুটবল ক্লাব চেলসি। ব্রিটিশ ক্লাব এবং প্রিমিয়ার লিগ স্টেডিয়ামটির জন্য এ ধরনের আয়োজন এটিই হবে প্রথম। মাসের শেষের দিকে একই কাজ করবে ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামও।