দুমকিতে ঘুষ-নির্যাতনের অভিযোগ

ওসি এসআইসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

পটুয়াখালীর দুমকি থানার ওসি আবদুস সালাম এবং দুই এসআই সাকায়েত হোসেন ও দেলোয়ার হোসেনসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, চাঁদা দাবি, থানায় নিয়ে নির্যাতনসহ কয়েকটি অভিযোগে পটুয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা হয়েছে। পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার রাজনগর এলাকার সুমন উদ্দিনের ছেলে জাকির হোসেন নামের এক যুবক চলতি মাসের ১৪ তারিখে মামলাটি করেছেন। বিচারক অভিযোগটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার এজাহারে জাকির উল্লেখ করেছেন, খালাতো ভাই সাদমান সাকিবের সঙ্গে মুরাদিয়া ইউনিয়নের এক নারীর ভুয়া কাবিননামা তৈরি করে পটুয়াখালী কোর্টে একটি  যৌতুক মামলা করে স্থানীয় একটি চক্র। ওই ঘটনাটি তদন্তের নামে মহিলা পরিষদের ব্যানারে উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা সৈয়দ ফরহাদ হোসেনের স্ত্রী  হোসনেয়ারা বেগম ও মেয়ে রিজোয়ানা হিমেলসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে ফাঁসাতে উঠেপড়ে লাগেন। ভুয়া বিয়ে ও মিথ্যে মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে সাদমান সাকিব পুলিশ সুপার বরাবরে লিখিত অভিযোগ করলে তিনি (পুলিশ সুপার) দুমকি থানার ওসিকে তদন্তের নির্দেশ প্রদান করেন। অভিযোগটির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই  দেলোয়ার হোসেন উভয় পক্ষকে থানায় ডেকে পাঠান। গত ২৮  ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় বাদী জাকিরসহ সাদমান সাকিব দুমকি এলে আসামিরা তাদের পিটিয়ে আহত করে এবং টেনেহিঁচড়ে থানায় নিয়ে যায়। এসময় পুলিশ তাদের আটক করে রাখে। এসআই সাকায়েত আসামিদের পক্ষ নিয়ে তাদের গালিগালাজ করেন এবং বিবাদীদের নারী নির্যাতন মামলা করতে উসকে  দেন। ওসি আব্দুস সালাম তাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেন। পাশাপাশি ওসি আব্দুস সালাম খাদিজা শিমুকে সাদমান সাকিবের পাশে বসিয়ে ছবি তোলার চেষ্টা করেন এবং ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। একপর্যায়ে এসআই সাকায়েত ও এসআই  দেলোয়ার হোসেন আটক সাদমান সাকিব ও জাকিরের পরিবার থেকে ৩৫ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে সাদা কাগজে মুচলেকা নেন এবং দুজনকে মামলার ভয়ভীতি দেখিয়ে শেখানো কথার ভিডিও ধারণ করেন। একই সঙ্গে ওসি আব্দুস সালাম কেড়ে নেওয়া স  মোবাইল ফোন জব্দ ছাড়াই রেখে তাদের ছেড়ে দেন।  মামলা প্রসঙ্গে দুমকি থানার ওসি আবদুস সালাম বলেন, শুনেছি, সত্য-মিথ্যা আদালতে প্রমাণ হবে।

পুলিশ সুপার সাইদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। তদন্তাধীন বিষয় আদালতেই নিষ্পত্তি হবে।