চাঁদা দাবি ও হত্যার হুমকির অভিযোগে প্রযোজক রহমত উল্লাহর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন ঢাকাই সিনেমার শীর্ষ নায়ক শাকিব খান। বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) বেলা সোয়া ১১টার দিকে মামলাটি দায়ের করেন শাকিব। আদালত তার জবানবন্দি গ্রহণ করে আসামি রহমত উল্লাহকে আগামী ২৬ এপ্রিল আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেছেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, চার বছর আগে ‘অপারেশন অগ্নিপথ’ সিনেমায় অভিনয় করতে চুক্তিবদ্ধ হন শাকিব। সিনেমায় তার বিপরীতে নায়িকা হওয়ার কথা ছিল শিবা আলী খানের। শুটিংয়ের জন্য ২০১৬ সালের ৩০ আগস্ট অস্ট্রেলিয়া যান শাকিব। কিন্তু ভিসা জটিলতার কারণে শিবা আলী খান অস্ট্রেলিয়ায় যেতে পারেননি। এ সময় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলীয় এক নারীকে নায়িকা বানানোর প্রস্তাব দেন প্রযোজক। কিন্তু বিষয়টি নাকচ করে দেন শাকিব।
পরে একদিন শুটিং শেষে রিফ্রেশমেন্টের জন্য ক্লাবে নেওয়া হয় শাকিবকে। সেখানে ওই নারীসহ আরও ২/৩ জন অপরিচিত লোকজন ছিলেন। প্রযোজক রহমত উল্লাহ তাদের সঙ্গে খাওয়া-দাওয়াসহ বিভিন্ন প্রকার পানীয় পান করেন। একপর্যায়ে অসুস্থবোধ করেন শাকিব। হোটেলে ফেরার কথা ভাবেন। কিন্তু কাউকে খুঁজে পাননি তিনি। পরে ওই নারীর কাছ থেকে বিদায় নেন। এ সময় ওই নারী তাকে হোটেলে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেন। নিরুপায় হয়ে রাজি হন শাকিব। এরপর অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, পরদিন সকালে প্রযোজক রহমত উল্লাহর ফোন পান শাকিব। তাকে বলা হয়, ‘তুমি রাতে ওই মহিলার সাথে কী করেছে সব কিছুর ভিডিও ক্লিপ আমার হাতে। তুমি যদি আমাকে এক লাখ ডলার চাঁদা না দাও তাহলে সমস্ত ভিডিও ক্লিপ এবং ওই নারীকে নিয়ে পুলিশের কাছে গিয়ে তোমার নামে অভিযোগ করব এবং তুমি বাংলাদেশে যেতে পারবে না।’
এরপর ভয় পেয়ে যান শাকিব। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যার কথা ভেবে রহমত উল্লাহকে প্রথমে ৫ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার এবং পরে বিভিন্ন সময়ে মোট ৪০ লাখ টাকা চাঁদা দিয়েছেন তিনি। তবে এক পর্যায়ে চাঁদা দিতে না পারলে শাকিবকে জানানো হয় তার নামে অস্ট্রেলিয়ায় অভিযোগ করা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে রহমত উল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা করতে গুলশান থানায় যান শাকিব। তবে থানা মামলা না নিয়ে অভিনেতাকে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাতুল রাকিবের আদালতে মামলা দায়ের করেন শাকিব।