সহশিক্ষা কার্যক্রম হলো পাঠ্যবইয়ের বাইরে নিজের পছন্দের অন্য কোনো বিষয় যেমন- গান, নাচ, আবৃত্তি, বক্তৃতা, বিতর্ক, রচনা লিখন, অভিনয়, কুইজ প্রতিযোগিতা ইত্যাদির চর্চা। এসব কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী এমন কিছু গুণ অর্জন করে, যা পাঠ্যপুস্তক অধ্যয়ন করে অর্জন করা যায় না। সহশিক্ষা কার্যক্রমের গুরুত্ব তাই অপরিসীম। জানাচ্ছেন বিপুল জামান
সুপ্ত প্রতিভার প্রকাশ : সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিলে নিজের সুপ্ত প্রতিভা বা গুণ সম্পর্কে জানতে পারবে। নাচ, গান, আবৃত্তি, খেলাধুলা, বিতর্ক, অভিনয়, সাহিত্যচর্চা ইত্যাদি নানা ধরনের সহশিক্ষা কার্যক্রমের মধ্যে তোমার পছন্দের বিষয় কোনটি খুঁজে বের করো। যে বিষয়ে তোমার আগ্রহ আছে এবং যে বিষয়ে তুমি স্বচ্ছন্দ, সেই বিষয়টিতেই তুমি অংশগ্রহণ করতে পার। পছন্দের বিষয় একাধিক হলেও চিন্তার কিছু নেই। রুটিন করে চর্চা করতে পার। শুধু খেয়াল রাখবে সহশিক্ষা কার্যক্রমের জন্য যেন তোমার পাঠ্যক্রমের পড়াশোনাতে ব্যাঘাত না ঘটে।
দলীয় কাজের অভিজ্ঞতা লাভ : সব শিক্ষা কার্যক্রমই দলগত কাজ। কখনো কখনো একাকী চর্চা করা সম্ভব হলেও উপস্থাপনের সময় দলবদ্ধভাবেই কাজ করতে হয়। তাই সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিলে দলগত কাজের অভিজ্ঞতা বাড়ে। একই বিষয় সম্পর্কে বিভিন্ন মানসিকতার মানুষের বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে জানা যায়। এতে সমৃদ্ধ হয় অভিজ্ঞতা, যা পরে কর্মজীবনে কাজে লাগে।
সৃজনশীলতা বৃদ্ধি : সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার ফলে একজন শিক্ষার্থীর অন্তর্গত প্রতিভা বিকশিত হয়। তা ছাড়া দলগত কাজ করার সময় সে নানারকম পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়। তখন তাকে নিজের মতো করে সমাধানের পথ বের করতে হয়। এর ফলে তার সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটে।
আনন্দময় সামাজিক জীবন : সহশিক্ষা কার্যক্রমের অন্তর্গত বিষয়গুলো শিল্প-সাহিত্যের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। সংস্কৃতিচর্চার এই অভ্যাস পরে সামাজিক অনুষ্ঠান বা বিশেষ দিনগুলোকে আনন্দঘন করে তুলতে কাজে লাগে।
সময় সাশ্রয় : পড়াশোনার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার ফলে একসঙ্গে একাধিক কাজ করার দক্ষতা অর্জন করে একজন শিক্ষার্থী। এর ফলে সে সময় সাশ্রয় করার কৌশল রপ্ত করে ফেলে।
আত্মবিশ্বাস : পড়াশোনাতে ভালো না হলে যে কোনো শিক্ষার্থী হীনম্মন্যতায় ভোগে। নিজেকে ব্যর্থ মনে করে। কিন্তু পৃথিবীতে বহু কীর্তিমান অতুল কীর্তি রেখে গেছেন, যারা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় ভালো ছিলেন না। পড়াশোনাতে ভালো না করতে পারলেও কোনো শিক্ষার্থী যদি সহশিক্ষা কার্যক্রমের কোনো একটিতে নিজের দক্ষতার প্রমাণ রাখতে পারে তাহলে তাকে হতাশা আর টেনে ধরতে পারে না।
নিজের দক্ষতার বিষয়কে সে পেশা হিসেবে গ্রহণের পরিকল্পনাও করতে পারে।