মাথায় আঘাতে ভয়ের কারণ নেই

আমাদের দেশে মাথায় আঘাতের বড় কারণ হলো সড়ক দুর্ঘটনা। এ ছাড়া নানা কারণে মাথায় আঘাত লাগতে পারে। এর মধ্যে ওপর থেকে পড়ে যাওয়া, খেলাধুলা, কেউ আঘাত করলে, কাজ করতে গিয়ে পড়ে যাওয়া ইত্যাদি। মাথায় আঘাত পেলে খুলির ভেতর থাকা মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মস্তিষ্কের আঘাত দুই ধরনেরÑ ফোকাল ও ডিফিউজ। মস্তিষ্কের ক্ষতি প্রাইমারি বা সেকেন্ডারি হয়ে থাকে। সরাসরি মাথায় আঘাতের জন্য যে ক্ষতি হয়, তা হলো প্রাইমারি ইনজুরি। মাথায় আঘাতের পর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের ফলে পরে মস্তিষ্ক ঝুলে নেমে আসে (হার্নিয়েশন) বা পানি জমে ফুলে যায় (ইডিমা)। এটাকে তখন সেকেন্ডারি ইনজুরি বলে।

তীব্রতা অনুসারে মস্তিষ্কে আঘাত সামান্য, মাঝারি ও মারাত্মক হতে পারে। আঘাতে মস্তিষ্কের সম্পূর্ণ অংশ যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে তাকে ‘ডিফিউজ এক্সোনাল ইনজুরি’ বলে। মাথায় আঘাত পেলে অবশ্যই যত দ্রুত সম্ভব রোগীকে হাসপাতালে নিতে হবে। রোগ চেনার জন্য রোগীর আঘাতের হিস্ট্রি নিতে হবে, ক্লিনিক্যাল এক্সামিনেশন করতে হবে। রোগ নির্ণয়ের জন্য সিটিস্ক্যান অব ব্রেন ও ঘাড়ের আঘাত দেখার জন্য সার্ভিক্যাল মেরুদ-ের এক্স-রেও প্রয়োজন হয়।

লক্ষণ

মাথায় আঘাতের পর রোগীর অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বমি হওয়া, নাক দিয়ে রক্ত বা পানি আসা, কান দিয়ে রক্ত বা পানি আসা ইত্যাদি হলো মারাত্মক আঘাতের লক্ষণ।

আঘাত পেলে করণীয়

মাথায় আঘাত পাওয়া যেকোনো রোগীর ক্ষেত্রেই সবার প্রথমে দেখতে হবে রোগী শ্বাস-প্রশ্বাস ঠিকমতো নিচ্ছে কি না। যদি শ্বাস-প্রশ্বাস ঠিক না থাকে সে ক্ষেত্রে দেখতে হবে নাকে-মুখে কোনো বাধা আছে কি না, থাকলে সরিয়ে ফেলতে হবে। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক হওয়ার জন্য দরকার হলে কৃত্রিমভাবে মুখে মুখ দিয়ে শ্বাস দেওয়া যেতে পারে। মাথায় আঘাত পাওয়া রোগীর সঙ্গে অন্য আঘাতও থাকতে পারে। যেমনÑ তার ঘাড়ে সারভাইক্যাল ইনজুরি থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে তার নড়াচড়া হতে হবে খুবই সীমিত। কারণ, যদি বেশি টানাটানি করা হয় তাহলে হয়তো ঘাড়ে আঘাত পেয়ে যেতে পারে। সেই অবস্থায় তাকে আস্তে করে তুলে তাকে হাসপাতালে নিতে হবে। রক্তক্ষরণ থাকলে তা বন্ধ করতে হবে। বড় ধরনের কাটা থাকলে সেলাই করতে হবে এবং প্রয়োজন হলে সিটিস্ক্যান করে দেখতে হবে মস্তিষ্কের ভেতরে কোনো রক্তক্ষরণ হয়েছে কি না।

কখন হাসপাতালে নেবেন

যদি রোগীর খুব ঘুম আসে। অস্বাভাবিক আচরণ করে। মারাত্মক মাথাব্যথা কিংবা ঘাড় শক্ত হয়ে যায়। যদি দুই চোখের মণি দুই রকম হয়ে যায়। রোগীর হাত বা পা শক্ত হয়ে যায়। জ্ঞান হারিয়ে ফেললে। একবারের বেশি বমি হলে। যদি রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃৎস্পন্দন ঠিক থাকে কিন্তু রোগী অজ্ঞান থাকে তাহলে বুঝতে হবে তার স্পাইনাল ইনজুরি হয়েছে।

করণীয়

মাথায় আঘাত পেয়ে রোগী অজ্ঞান হলে রোগীকে হাসপাতালে নিতে হবে। পরে নিউরোসার্জারি বিভাগে সুচিকিৎসার জন্য পাঠাতে হবে। ব্রেনে বেশি রক্তক্ষরণ হলে অপারেশন করানোর প্রয়োজন হতে পারে।