ইউরো বাছাইপর্বে ২০০৬ সালে শেষবার হারের মুখ দেখেছিল ইতালি। গত ১৭ বছর এই জায়গায় তাদের আর পরাজয়ের তেতো স্বাদ পেতে হয়নি। তবে সব সম্রাজ্যের যেমন পতন হয়, রেকর্ডও তেমনি ভাঙে। টানা ৪১ ম্যাচ পর, সময়ের হিসেবে ১৭ বছর পর হেরেছে তারা। ঘরের মাঠ ন্যাপোলির ডিয়েগো ম্যারাডোনা স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের হারিয়েছে ইংল্যান্ড। যা ইতালির মাটিতে ৬২ বছর পর প্রথম জয় ইংলিশদের।
ডেকান রাইস ও হ্যারি কেইনের গোলে ঐতিহাসিক এক জয় পেয়েছে ইংল্যান্ড। ১৯৬১ সালের পর আবারও ইতালিকে তাদের মাঠে হারিয়েছে গ্যারেথ সাউদগেটের শিষ্যরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই ইংলিশদের দেখা গেছে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে। যদিও সেখানে তাদের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান সুখকর নয়। তবুও শুরুতেই বুকাওয়ে সাকা ও জ্যাক গ্রিলিস দুটি গোল দেওয়ার মতো সুযোগ তৈরি করেন। তবে সেগুলো আলোর মুখ দেখেননি।
তবে ১৩ মিনিটেই জালের দেখা পায় ইংল্যান্ড। সাকার কর্নার থেকে কেইনের নেওয়া শট প্রথমে ইতালি ব্লক করে দিলেও ফিরতি বল গিয়ে পড়ে বক্সের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা ডেকান রাইসের কাছে। দ্রুতগতির এক ভলিতে গোল করে দলকে এগিয়ে রাইস।
বিরতির আগ মুহূর্তে ম্যাচের দ্বিতীয় গোল পায় তারা। সেটাও আসে পেনাল্টি থেকে। ব্যাকপোস্টে থেকে সাকার কর্নার থেকে ডিফেন্ড করার সময় হ্যান্ড করে বসেছিলেন ইতালি ফুলব্যাক ডি লরেঞ্জো। সেই হ্যান্ডবল প্রথমে রেফারির দৃষ্টি এড়িয়ে গেলেও ভিএআরের হস্তক্ষেপে পেনাল্টি পায় সফরকারীরা। যেটি জালে জড়িয়ে ইংল্যান্ডের ইতিহাসের অংশ হয়ে যান কেইন।
এই গোলের মধ্য দিয়েই আন্তর্জাতিক ফুটবলে ওয়েইন রুনির গোলসংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছেন কেইন। ৫৪ গোল নিয়ে এই স্পার্স স্ট্রাইকার এখন ইংল্যান্ড জাতীয় দলের ইতিহাসে সর্বাধিক গোলের মালিক।
দুই গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যায় দুই দল। তবে ৫৬ মিনিটেই ব্যবধান কমায় ইতালি। পেলেগ্রিনির পাস থেকে গোল করেন এই ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক অভিষেক হওয়া স্ট্রাইকার মাতেও রেতেগুই। পরে ম্যাচের বাকি সময় তারা সমতায় ফেরার চেষ্টা করে। কিন্তু হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাদের।
সময় নষ্ট করার জন্য ৭৮ মিনিটে একবার হলুদ কার্ড দেখা লুক শ এরপর রেফারির সঙ্গে তর্কাতর্কি করে সময় নষ্ট করার চেষ্টা করতে গিয়ে দেখেন দ্বিতীয় হলুদ, অর্থাৎ লাল কার্ড। তবে ১০ জন নিয়ে শেষ পর্যন্ত ইতালিতে রুখে দিতে সমর্থ হয় ইংল্যান্ড।
ম্যাচের ৫৮ শতাংশ সময় বল ছিল ইতালির নিয়ন্ত্রণে। এসময়ে তারা ১০ বার সুযোগ পেয়েছে লক্ষ্য বরবার শট নিতে পেরেছে মাত্র একটি। আর সেটিতেই সফল হয় তারা। অন্যদিকে ৪২ শতাংশ সময় বলের দখল রেখে ৭ বার সুযোগ পেয়ে লক্ষ্য বরাবর চারটি শট ছিল ইংলিশদের।