সাভারে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে রানা প্লাজার সামনে তিন দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির উদ্যোগে এই প্রদর্শনী চলবে আগামীকাল ২৬ মার্চ পর্যন্ত।
গতকাল এক আলোচনা সভায় নিহতদের স্মরণ করে বিভিন্ন দাবিতে মাসব্যাপী কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়। দাবির মধ্যে রয়েছে, দোষীদের শাস্তি, ২৫ হাজার টাকা মজুরি করা। আলোকচিত্র প্রদর্শনীটি উদ্বোধন করেন রানা প্লাজার আহত শ্রমিক রূপালী আক্তার। প্রধান বক্তা ছিলেন নিহত শ্রমিক আঁখি আক্তারের মা নাসিমা আক্তার, গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার ও সাধারণ সম্পাদক বাবুল হোসেন। এ সময় রানা প্লাজায় নিহতদের স্বজন, শ্রমিক ও সংগঠকরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা বলেন, ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধসে হাজারো শ্রমিক প্রাণ হারান। অথচ ১০ বছরেও দোষী মালিক সোহেল রানাসহ অন্যদের শাস্তি হয়নি। বিচারের এই দীর্ঘসূত্রতা প্রমাণ করে, বাংলাদেশের শ্রমিকদের জীবনের মূল্য নেই মালিক, সরকার ও বায়ারের কাছে। এক দশকেও ক্ষতিপূরণের আইনে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন হয়নি। আহত অনেকেই এখনো শারীরিক ও মানসিক ক্ষতের চাপ বয়ে বেড়াচ্ছে।
বক্তারা আরও বলেন, বাস্তবে পোশাক খাত ও মালিকদের উন্নয়ন হলেও উন্নতি হয়নি শ্রমিকের জীবন মানের। বাজারে ঊর্ধ্বগতি ও মুদ্রাস্ফীতির কারণে মাত্র ৮ হাজার টাকায় সস্তা মজুর হিসেবে পোশাকশ্রমিকরা নিদারুণ সময় পার করছে। অবিলম্বে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি ২৫ হাজার টাকা করার দাবি জানান বক্তারা।