সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিম। একাধারে তিনি জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনেরও প্রেসিডেন্ট। প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগে বেশ কয়েকটি ক্লাবের প্রধান পৃষ্ঠপোষকও তিনি। সিলেটের পেশাদার ক্রিকেটারদের ধর্মঘট ও লিগে না খেলা নিয়ে জানতে দেশ রূপান্তর-এর মুখোমুখি হয়েছিলেন এই ক্রীড়া সংগঠক।
প্রশ্ন : সিলেট প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগের রেলিগেশন না থাকায় পেশাদার ক্রিকেটাররা লিগ বর্জন করেছে, তাদের জেলা দলেও নেওয়া হয়নি। এবার জেলা দল তিনটি ম্যাচেই হেরে অবনমিত হয়েছে। ক্লাব এবং খেলোয়াড়দের দ্বন্দ্বে তো সিলেটের ক্রিকেটই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কী?
সেলিম : শুনেন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার দায়িত্ব হলো খেলাটা মাঠে দেওয়া। ক্রিকেট লিগ... আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি বাংলাদেশের অনেক জেলাতেই ক্রিকেট লিগ হচ্ছে না। কিন্তু সিলেটে ক্রিকেট লিগটা নিয়মিত হচ্ছে। করোনার সময়েও কিন্তু আমরা ক্রিকেট লিগ চালিয়েছি, খেলা মাঠে ছিল। প্রত্যেকটা দল তিন চারটা ম্যাচ খেলার পর করোনার জন্য সরকার খেলা বন্ধ করে দেয়। এইবার আপনারা জানেন, এখানে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আয়ারল্যান্ড সিরিজ ও জেলা স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ফুটবল সিরিজ হচ্ছে, এই কারণে আমাদের মাঠের সমস্যা। সিলেট জেলা স্টেডিয়ামকে ফুটবল ফেডারেশন অক্টোবর থেকেই বরাদ্দ নিয়েছেন। তারপরও আমরা ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের যে গ্রাউন্ড টু, সেই মাঠটা আমরা নিয়েছিলাম। ক্লাব দলগুলোর জন্য ওটা আবার বেশি দূরে, যাতায়াত সেখানে বড় সমস্যা। রেলিগেশনের ব্যাপারটা হলো...আমার একার কোনো সিদ্ধান্ত নেই। জেলা ক্রিকেট কমিটি আছে, জেলা লিগ কমিটি আছে... দুই কমিটির ওরাই সিদ্ধান্ত নেয় খেলা কীভাবে হবে, কোন ফরম্যাটে হবে। লিগ কমিটিতে কিন্তু ক্লাবরাও জড়িত। তারা মিলেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। লিগ কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে এইবার গ্রুপ লিগ করব, ১০টা ক্লাব ৫টা ৫টা করে দুই গ্রুপে গ্রুপ লিগ করবে। আর এখানে রেলিগেশন থাকবে না। এটা... মাঠে খেলা দিয়েছে ওরা...ওরা খেলেনি। আমার মনে হয় ওরা খেলেনি বলে এমন যে অনেকে খেলেনি এমন কিছু না। মুষ্টিমেয় কয়েকজন খেলেনি।
প্রশ্ন : বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলেছে এমন ক্রিকেটারকেও নাকি সিলেট জেলা দলে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে নেওয়া হয়নি কারণ তারা লিগ বর্জন করেছে?
সেলিম : আমরা তো উনাদের পারফরম্যান্স দেখিনি। যারা লিগে খেলেছে, লিগের পারফরম্যান্স দেখেই আমাদের জেলা কমিটির নির্বাচক যে তিন জন আছে তারা লিগের খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স দেখে দল গঠন করেছে। উনারা লিগে খেলেননি আমরা কীভাবে বুঝব তারা ভালো খেলে না খারাপ খেলে? আর আমার কাছে মনে হয় যারা লিগে খেলেছে তাদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। আমি বাসায় রাগ করে বসে আছি যে খেলব না...আপনি বলেন এইটা কি হয়?
প্রশ্ন : আপনি সিলেটের একজন কৃতী খেলোয়াড়, দক্ষ সংগঠক, ক্রীড়াঙ্গনের একজন অভিভাবক। এভাবে দ্বন্দ্বটা যদি চলতে থাকে তাহলে তো সিলেটের ক্রীড়াঙ্গনেরই ক্ষতি হচ্ছে, তাই নয় কি?
সেলিম : শুধু যে জেলা ক্রীড়া সংস্থারই সব দায়িত্ব তা না, খেলোয়াড়দেরও দায়িত্ব আছে। কথা বুঝছেন। আমি তো দায়ী করব উনারা, উনারা না খেলায় আমাদের ফল খারাপ হয়েছে। উনারা যদি লিগে খেলত, তাহলে উনারাই আমাদের জেলা দলে খেলত। উনাদেরও তো দায়িত্ব আছে। জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাজ খেলা মাঠে দিতে হবে, আমরা মাঠে দিয়েছি। হয়তো গ্রুপ লিগ হয়েছে, তবুও লিগ তো হয়েছে। যদি না হতো? তখন আপনারা বলতেন যে লিগ হয়নি। লিগ তো আমরা মাঠে দিয়েছি।
প্রশ্ন : যতটা শুনেছি একটা মাঠ বরাদ্দ নিয়ে ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন আর জেলা ক্রীড়া সংস্থার ভেতর টানাপড়েন থেকেই এই দ্বন্দ্বের সৃষ্টি?
সেলিম : আমি জানি না। আমার কাছে এই ধরনের কোনো কিছু বলেনি ওরা। মাঠ আমার কাছে চায়নি কিচ্ছু চায়নি। মিথ্যা কথা এগুলো। জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাজ লিগ আয়োজন করা, লিগ আয়োজন হয়েছে আর মাত্র ৫টা খেলা বাকি আছে। তবে আমি আপনাকে বলি। ওরা ( ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন) একটা চিঠি দিয়েছে আমাকে। চিঠি দিয়েছে ফ্ল্যাট লিগ করার জন্য আর রেলিগেশনটা রাখার জন্য। আমি কিন্তু সব সময় ফ্ল্যাট লিগের পক্ষে, রেলিগেশনের পক্ষে। তারা চিঠির অনুলিপিটা ডিসি, কমিশনার, বিসিবি প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সব জায়গায় দিয়ে দিল। আমাকে বিচার দেওয়ার পর আমি কী বলি তারপরে না উনাদের কাছে যাওয়া দরকার ছিল। চিঠিতে কী লেখা, আমরা জেলা দলে খেলব না, কোনো ধরনের কিছুতে অংশ নেব না। এটা কি হুমকি না? এটা কি উচিত? ক্রিকেটাররা আমাদের ছেলের মতো, ওদের কি উচিত হয়েছে এটা করা? আমরাও তো একসময় খেলোয়াড় ছিলাম, আমরা তো এমনি এমনি এখানে আসিনি। তারপর এখানে এসে আমাদের সামনে মানববন্ধন, গেটে লাথালাথি এসব কী? এরপর ক্রিকেটাররা আপনি আমার সঙ্গে কথা বলছেন এসব কথাবার্তা ফোনালাপ রেকর্ড করে ফেসবুকে ছেড়ে দিচ্ছে এসব কী? এটা তো মামলা হয়।
প্রশ্ন : এই সংকট নিরসনের উপায় কী?
সেলিম : নিরসন তো হয়ে গেছে। আমারা আগামীতে লিগ করব, যে সব এফিলিয়েটেড ক্লাব আছে তাদের তো খেলতেই হবে। না খেললে তো সেকেন্ড ডিভিশনে নামবে। ক্লাবরা কাকে নেবে, কাকে খেলাবে এটা তো ক্লাবগুলোর ব্যাপার। তাদের সঙ্গে তো আমাদের কোনো ধরনের সমস্যা নেই। আমরা যা দেখছি, আমাদের দিকে আমরা ঠিকই আছি। উনারা (ক্রিকেটাররা) আমাদের ক্ষতি করেছে লিগে না খেলে। এতে একটা লাভ হয়েছে। সিলেটে অনেক প্লেয়ার, তারা না খেলায় অ্যাকাডেমির খেলোয়াড়রা সুযোগ পেয়েছে।
প্রশ্ন : পেশাদার ক্রিকেটাররা না খেলায় জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে দুর্বল দল খেলাতে হয়েছে, খেলোয়াড় সংকটে নাকি কোচকেও মাঠে নামতে হয়েছে?
সেলিম : পলাশ (কর) এ তো তাদের কমিটির। সবাই যে খেলেনি এটা তো ঠিক না, সে খেলেছে তো। ক্রিকেট বোর্ড থেকে কোচ দিয়েছে একজন, আমরা কোচ দিয়েছি দুজন। মূল কোচের সহযোগিতার জন্য একজনকে দেওয়া হয়েছে কোচ কাম প্লেয়ার হিসেবে।
প্রশ্ন : তাহলে কি এই সংকট চলতেই থাকবে?
সেলিম : এখন সিদ্ধান্ত ওদের, আমাদের কিছু না। আমরা লিগ দেব, ক্লাবগুলো দল করবে। ওরা খেললে খেলবে, না খেললে খেলবে না। আমরা তো চাইব সবাই যেন খেলে। তারা ধর্মঘটে থাকবে না প্রত্যাহার করে খেলতে আসবে এটা ওদের ব্যাপার।