সর্বকালের সেরা ফুটবলার আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তর্কসাপেক্ষে পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকেও এই স্বীকৃতি দিতে চান অনেকে। তবে শতাব্দির সেরা দুই খেলোয়াড় নিজেদের পায়ের জাদুতে ফুটবলকে করেছেন আরও দৃষ্টিনন্দন।
সিআরসেভেন ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। আন্তর্জাতিক ও ক্লাব ফুটবলে তিনি সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন। ২১ বছরের ফুটবল ক্যারিয়ারে নানা উত্থান-পতনের ভিড়েও তিনি খেলে চলেছেন দাপুটে রূপে। তার সঙ্গে দৌড়ে আছেন লিওনেল মেসি। সেরা গোলদাতাদের তালিকায় মেসি এখন আছেন তালিকার তিনে। অচিরেই ছুঁয়ে ফেলতে পারেন রোনালদোকে। কিংবা পারেন ছাড়িয়ে যেতে।
তবে এই দুজনের মাঝে আছেন আরও একজন। যিনি গোল করায় মেসি ও রোনালদোর চেয়ে বেশি কৌশলী ছিলেন। তিনি জোসেফ বিকান। বিশ্বের দরবারে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্যকে ছড়িয়ে বিশ্ব কবির খেতাব নিয়ে যে বছর নোবেল পুরস্কার জিতলেন, সেই বছর অর্থাৎ ১৯১৩ সালে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় জন্ম নেন জোসেফ।
অস্ট্রিয়ায় জন্ম হলেও তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলেছেন তিন দেশের হয়ে। যদিও কোনোটাই বেশিদিন স্থায়ী হয়নি ক্যারিয়ার। মাত্র ৩৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে করেছেন ২৯ গোল। অস্ট্রিয়ার হয়ে ১৯ ম্যাচে ১৪ গোল, চকোস্লাভিয়ার হয়ে ১৪ ম্যাচে ১২ গোল এবং বোহেমিয়া ও মোরাভিয়া (বর্তমান চেক প্রজাতন্ত্র) হয়ে মাত্র এক ম্যাচ খেলে করেছেন তিন গোল।
তবে জোসেফ কেন মেসি-রোনালদোর চেয়ে সেরা খেলোয়াড় ছিলেন সেটা বুঝতে হলে তাকাতে হবে তার ক্লাব ক্যারিয়ারের দিকে। চেক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের হিসেব অনুযায়ী তার গোলসংখ্যা ৮২১টি। আবার রেক ডট স্পোর্ট ডট সকার নামের পরিসংখ্যানের ওয়েবসাইটের দেয়া তথ্য অনুযায়ী জোসেফের গোলসংখ্যা ৮০৫টি। যার মধ্যে র্যাপিড ভিয়েনার রিজার্ভ ও অপেশাদার দলের হয়ে আছে ২৭টি গোল। এগুলো আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক ফুটবল হিসেবে স্বীকৃত নয়।
১৯৩১ সালে ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করা জোসেফ দুই যুগ টানা খেলে যান। ১৯৫৫ সালে এই অধ্যায়ের ইতি টানেন তিনি। রেক ডট স্পোর্ট ডট সকারের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে তিনি আন্তর্জাতিক ও ক্লাব ফুটবল মিলিয়ে খেলেছেন ৫৩০ ম্যাচ। যেখানে তার গোল সংখ্যা ৮০৫টি। ম্যাচপ্রতি তার গোল গড় ১.৫১। আর এই ব্যবধানটাই তার সঙ্গে ফুটবল বিশ্বের দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে তার পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।
গত শুক্রবার ভোরে (বাংলাদেশ সময়) লিওনেল মেসি পানামার বিপক্ষে গোল করে দলকে জিতিয়েছেন। পা রেখেছেন ৮০০ গোলের ক্লাবে। আর পাঁচটি গোল করলেই তিনি ছাড়িয়ে যাবেন জোসেফকে। তবে এই গোল সংখ্যার মাইলফলক ছুঁতে আর্জেন্টাইন ফুটবল জাদুকরকে খেলতে হয়েছে ১ হাজার ১৭ ম্যাচ। ম্যাচ প্রতি গোল গড় ০.৭৮। অন্যদিকে অনেক আগেই অস্ট্রিয়ান কিংবদন্তীকে ছাড়িয়ে যাওয়া সিআরসেভেন ৮৩০ গোল করেছেন ১ হাজার ১৫৬ ম্যাচ খেলে। ম্যাচ প্রতি তার গোল গড় ০.৭২।
এই গোল গড় ব্যবধানই বলে দেয় গোল করার ক্ষমতায় জোসেফ মেসি-রোনালদোর চেয়েও এগিয়ে ছিলেন। খেলোয়াড় জীবনে স্ট্রাইকারের দায়িত্ব সামলানো জোসেফ ক্লাব ফুটবলে তার অধিকাংশ সময় কাটিয়েছেন চেক প্রজাতন্ত্রের ক্লাব স্লাভিয়া প্রাগের হয়ে। এছাড়া র্যাপিড ভিয়েনাতেও ছিলেন চার বছরের মতো।
খেলোয়াড়ি জীবন ছাড়ার ৪৬ বছর পর ২০০১ সালের ১২ ডিসেম্বর ৮৮ বছর বয়সে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন কিংবদন্তী ফুটবলার জোসেফ বিকান। গোল গড় ব্যবধানে মেসি-রোনালদোর চেয়ে এগিয়ে থাকায় মরেও ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে আছেন তিনি।