দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির মধ্যে নিম্ন আয়ের মানুষকে স্বস্তি দিচ্ছে রংপুর সদরের চন্দনপাট ইউপির বালাচওড়াহাট এলাকার ‘সাধ্যের বাজার।’ বাজারটি বসেছে বালাচওড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে।
স্বাধীন বাংলা ফাউন্ডেশন, বালাচওড়া স্পোর্টস অ্যাকাডেমি এবং লাহিড়ীরহাট ক্রীড়াচক্র ও উন্নয়ন সমন্বয় পরিষদের ব্যতিক্রমী আয়োজন সাধ্যের বাজার।
পবিত্র রমজান মাসজুড়ে এ বাজারে নিম্ন আয়ের মানুষেরা অল্প টাকায় কেনাকাটা করতে পারবেন। বাজারটিতে পণ্য হিসেবে রাখা হয়েছে গরুর মাংস, ব্রয়লার মুরগির মাংস, ডিম, তেল, চিনি, মসুর ডাল, আতপ চাল, ছোলা, খেজুর, লবণ, সেমাই, বিভিন্ন ধরনের মসলাসহ সবধরনের ছোট মাছ। এগুলো দুপুর থেকে আয়োজকরা সেখানে মজুদ করেন। পরে বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বিনা লাভে তা বিক্রি করেন। এই বাজারের বিশেষত্ব হচ্ছে ১০ টাকার মাংস কেউ কিনতে চাইলে ওজনে যা আসে সে হিসেবে বিক্রি করা হবে।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, তারা আড়ত থেকে মাছ কিংবা মাংস পাইকারি দামে কিনে এনে কোনো প্রকার লাভ না নিয়ে ওই দামেই বিক্রি করেন। মাছ ও মাংস ছোট ছোট পিস করে ওই পাইকারি কেনা দাম অনুযায়ী ১০০ গ্রাম বা ৫০ গ্রাম কেউ চাইলে তাও দেন। এ ছাড়াও ওই এলাকার পাশের সবজি ভা-ারখ্যাত মিঠাপুকুর থেকে শাক-সবজি এনে ৫-১০ টাকা কেজিতে বিক্রি করা হচ্ছে। তারা আরও জানান, প্রথম দিন ৯ হাজার ৭৩০ টাকা, দ্বিতীয় দিন ৮ হাজার ৯০০ টাকা ও তৃতীয় দিন ৯ হাজার ১২০ টাকার বিক্রি হয়েছে। তিন দিনে তাদের মোট ঘাটতি হয়েছে ২ হাজার ২৪০ টাকা। এই ঘাটতি সবাই মিলেমিশে বয়ে নেন।
আয়োজকদের প্রায় সবাই এখনো লেখাপড়া ও খেলাধুলার সঙ্গে জড়িত।
গত শুক্রবার প্রথম রোজার বিকেলে প্রকৌশলী নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে উদ্বোধন করা হয় সাধ্যের বাজারের কার্যক্রম। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রংপুর সদর উপজেলা আওয়ামী মহিলা লীগের সভাপতি আরজিনা বেগম ও এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
সাধ্যের বাজারের আয়োজক স্বাধীন বাংলা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সমন্বয়কারী দেলোয়ার হোসেন বলেন, নিত্যপণ্যের আকাশ ছোঁয়া দামের মাঝে স্বল্পআয়ের লোকজন যাতে নিজেদের চাহিদা মেটাতে পারে তার জন্যই এমন উদ্যোগ।
সাধ্যের বাজারে পণ্য কিনতে আসা আজাহারুল ইসলাম বলেন, ‘চাল সবজি কিনার টাকাই হয় না, গোস্ত কিনিম কি দিয়া। আইজ এটে ১০০ টাকাত গোস্ত কিননু। পোয়াতি (শেষ রাতে) ভাতোত ছাওয়াগুলাক নিয়া খাইম।’
আয়োজকরা আরও জানান, বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সাধ্যের বাজারে বেচাকেনা চলমান থাকবে। ঈদের আগের দিন পর্যন্ত পুরো একমাস রমজানে এ কার্যক্রম চলবে। রংপুরের সদরের চন্দনপাট ইউপির চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, এটি একটি ভালো উদ্যোগ।