ভিডিও ভাইরাল

স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ওষুধ চুরির সময় ফার্মাসিস্ট ধরা

শরীয়তপুর সদরে রাতের আঁধারে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের সরকারি ওষুধ সরানোর সময় মর্জিনা বেগম নামে এক ফার্মাসিস্টকে হাতে-নাতে ধরেছে এলাকাবাসী। উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের সামনের সড়কে গত ২০ মার্চ রাতে এ ঘটনা ঘটলেও গত মঙ্গলবার এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি জানাজানি হয়।

স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ মার্চ রাত সাড়ে ৮টার দিকে আংগারিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র থেকে ওই কেন্দ্রের ফার্মাসিস্ট মর্জিনা বেগম ভ্যানে করে চার কার্টনভর্তি ওষুধ, ইনজেকশন, স্যালাইন নিয়ে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। এলাকাবাসী ভ্যানসহ আটক করলে লোকজনের সঙ্গে তর্কে জড়ান মর্জিনা। পরে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার তাহমিনা ইসলাম এসে ওষুধের কার্টনগুলো স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান।

শরীয়তপুর পৌরসভা ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কেএম পলাশ খান বলেন, ‘ভ্যানে করে সরকারি ওষুধ সরাচ্ছিলেন ফার্মাসিস্ট মর্জিনা বেগম। এলাকাবাসী আটক করলে মর্জিনাকে জিজ্ঞেস করি আপনি এই রাতে ওষুধ নিয়ে কোথায় যাচ্ছেন। তিনি চিৎকার করছিলেন। পরে তাহমিনা এসে ওষুধগুলো নিয়ে যায়। এর আগেও আংগারিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র নিয়ে সাধারণ মানুষের অনেক অভিযোগ শুনেছি। যেটা কাম্য নয়।’

অভিযুক্ত ফার্মাসিস্ট মর্জিনা বেগম বলেন, ‘ওষুধগুলোতে উইপোকায় ধরেছে তাই গুছিয়ে রাখছি। ওই ভ্যানে খালি কার্টন ছিল। পরিষ্কার করার জন্য নেওয়া হয়েছিল।’

কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার তাহমিনা ইসলাম বলেন, ‘ভ্যানে মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ ছিল। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্টোররুম না থাকায় মর্জিনা তার বাসায় সিঁড়ির নিচে রাখার জন্য নিয়েছেন। পরে অডিট শেষ হলে আবার নিয়ে আসতেন।’

শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন ডা. আবুল হাদি মোহাম্মদ শাহ পরান বলেন, ‘কোনো স্বাস্থ্য স্থাপনা থেকে প্রসিডিউর ব্যতীত ওষুধ বাইরে নেওয়ার সুযোগ নেই। ইতিমধ্যে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তাদের সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।’