ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে আ.লীগ নেতার চাঁদাবাজি মামলা

ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানা ছাত্রলীগের সভাপতি ইমাম হাসানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা করেছেন আওয়ামী লীগের এক নেতা। কেরানীগঞ্জের কালিন্দী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ব্যবসায়ী এহসান উদ্দিন আহম্মেদ বাদী হয়ে গত মঙ্গলবার রাতে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় মামলাটি করেন।

মামলায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানা ছাত্রলীগের সভাপতি ইমাম হাসানকে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিরা হলেন কালিন্দী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সামিউল্লাহ শিমুল (৩২), তার সহযোগী মন্টি খান (২৭), মো. অনিক (৩৬) ও ইমাম হোসেন (৩২)। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৩০ থেকে ৩৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বাদী এহসান উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘আমি কেরানীগঞ্জ মডেল থানা এলাকায় যৌথভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু ভরাটের ব্যবসা করি। ১৯ মার্চ সন্ধ্যা ৭টার দিকে কালিন্দী ইউনিয়নের হাজি আলতাব মিয়ার বাড়ির সামনের সড়কে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা ছাত্রলীগের সভাপতি ইমাম হাসান ও তার সহযোগী ইমাম হোসেন কালিন্দী মডেল টাউন প্রজেক্টে বালু ভরাটের বিষয়ে আমার ব্যবসায়িক অংশীদার পিন্টু ও মাসুমসহ আমার সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় ইমাম হাসান আমাদের বলেন, ওই প্রজেক্ট এলাকায় তারা বালু ভরাট করবেন। তাই আমাদের ড্রেজার ও পাইপলাইন সরিয়ে নিতে হবে। তখন আমরা তাকে জানাই ওই প্রজেক্টে বালু ভরাটের জন্য ইতিমধ্যে প্রজেক্ট কর্র্তৃপক্ষ আমাদের সঙ্গে চুক্তিপত্র করেছে। একপর্যায়ে ইমাম হাসান ও তার সহযোগী বলেন, ওই প্রজেক্টে বালু ভরাটের কাজ করতে হলে আমাদের ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে। নয়তো আমাদের বালু ভরাটের কাজ করতে দেওয়া হবে না।’

এহসান উদ্দিন আরও বলেন, ‘মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে ইমাম হাসান ও তার সহযোগী শিমুল, মন্টি খান, অনিক, ইমাম হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা ৩০-৩৫ জন লাঠিসোঁটা, চাকু, লোহার রড ও নাট খোলার যন্ত্র নিয়ে এসে মুসলিমাবাগ মাঠের দক্ষিণ পাশে এনায়েত হাজির প্রজেক্টের পাশে ফাঁকা জমির ওপর দিয়ে নেওয়া পাইপলাইনের সঙ্গে থাকা বাঁশের তৈরি চেঙ্গি কুপিয়ে কেটে ফেলে এবং লোহার পাইপ খুলে ফেলে। ড্রেজারের পাইপ স্থাপনের কাজে নিয়োজিত থাকা কর্মচারী আশিক আমাকে ঘটনাটি জানান। এরপর আমি তাৎক্ষণিকভাবে পিন্টু, মাসুমসহ পরিচিত লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের কাছে পাইপ খুলে ফেলার কারণে জানতে চাই। এ সময় তারা আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।'

তবে চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রলীগ নেতা ইমাম হাসান বলেন, ‘আলোচনায় আসার জন্য এ ধরনের নিউজ করে মানুষ।’

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি মামুনুর রশিদ বলেন, ‘বিষয়টির তদন্ত চলছে, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’