যদি পড়তে ইচ্ছা না হয়

শিক্ষার্থীদের কখনো কখনো পড়তে ইচ্ছা হয় না। পড়তে ইচ্ছা না হওয়ার কারণ এবং এ অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় জানাচ্ছেন বিপুল জামান

বিরতি নাও : পড়তে ইচ্ছা না হলে পড়ো না। ইচ্ছা না হলেও যদি পড়ো তাহলে টেবিলে বই খুলে বসে থাকাই সার হবে, পড়া আর হবে না। পড়াশোনা নিয়ে যদি আমরা খুব বেশি উদ্বিগ্ন থাকি, দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকি তাহলে মস্তিষ্ক দেহ ও মনের সুস্থতার জন্যই পড়ার প্রতি এক ধরনের অনীহাবোধ তৈরি করে। অথবা এভাবে বলা যায়, মন ও মস্তিষ্ক যখন আর তথ্য গ্রহণ করতে পারে না তখন পড়ার ব্যাপারে অনীহা আসে। ব্যাপারটাকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়ে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়া ঠেকাতে ফিউজ কেটে যাওয়ার সঙ্গে তুলনা করা যায়। এ সময়ে তাই পড়ার জন্য মনকে জোর করলে হিতে বিপরীত হতে পারে। তাই পড়তে যদি ইচ্ছা না করে তাহলে বিরতি নাও।

‘কেন’র উত্তর খুঁজে বের করো : একজন শিক্ষার্থী যদি পরিষ্কার করে না জানে ‘পড়তে হবে কেন’ তাহলে তার পড়তে ইচ্ছা না-ই করতে পারে। পড়ার প্রতি আগ্রহ ফিরে পেতে তাই কেন পড়বে তা খুঁজে বের করো। শিক্ষার উদ্দেশ্য জ্ঞান অর্জন করা, যে জ্ঞান বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানে ব্যবহৃত হবে। বিদ্যালয় হলো মানবজাতির সম্মিলিত অর্জিত জ্ঞান সহজ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আয়ত্ত করার প্রশিক্ষণালয়। আর উচ্চতর শিক্ষার উদ্দেশ্য হচ্ছে নতুন জ্ঞানের সৃষ্টি করা। ছাত্রজীবনে অর্জিত জ্ঞানের ওপরই নির্ভর করে পরবর্তী জীবনের সাফল্য। একজন শিক্ষার্থী যদি পড়াশোনার এই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য উপলব্ধি করতে পারে তাহলে সে পড়ার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠবে।

মজার অংশটি খুঁজে নাও : বিষয় পছন্দ না হলে অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনাতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। প্রাথমিক ও নিম্নমাধ্যমিক শ্রেণিতে সব শিক্ষার্থীকে সব বিষয়েই পড়তে হয়। তাই কোনো বিষয় পছন্দ না হলে একেবারেই পড়বে না এই সুযোগ নেই। বরং বিষয়টিতে আগ্রহী হওয়ার চেষ্টা করা যেতে পারে। হয়তো তোমার ব্যাকরণ ভালো লাগে না। কিন্তু ব্যাকরণেও মজার মজার ব্যাপার আছে। এক কথায় প্রকাশ, বাগধারার মতো বিষয়গুলো তো দারুণ মজার, তাই না? এই মজার ব্যাপারগুলো দিয়েই শুরু করো ব্যাকরণ পড়া। দেখবে ধীরে ধীরে তুমি ব্যাকরণে আগ্রহী হয়ে উঠছ। এভাবে যে বিষয়টি তোমার ভালো লাগে না সে বিষয়টিরও মজার কোনো দিক খুঁজে বের করো। দেখবে পড়তে তোমার ভালো লাগছে।

আগ্রহের বিষয়টি বেছে নাও : আগ্রহ অনুযায়ী বিভাগ নির্বাচন করলে পড়ায় আগ্রহ তৈরি হয়। মাধ্যমিকে এই সুযোগ আছে। তুমি যদি বিজ্ঞান, গণিত বিষয়ে আগ্রহী হও তাহলে বিজ্ঞান বিভাগ, যদি উদ্যোক্তা হতে চাও, ব্যবসা ও হিসাব সম্পর্কে আগ্রহী হও তাহলে বাণিজ্য বিভাগ এবং তুমি যদি শিল্প, সাহিত্য, অর্থনীতি ইত্যাদি বিষয়ে আগ্রহী হও তাহলে মানবিক বিভাগ বেছে নিতে পারো।