গাজীপুরের শ্রীপুরে নির্মাণকাজ করার সময় উচ্চ ভোল্টের বিদ্যুৎ লাইনে স্পৃষ্ট হয়ে তিন নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। লোহার রড তারে স্পর্শ করে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পর থেকে কারখানার বিদ্যুতের সব সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পৌর শহরের কেওয়া পূর্বখণ্ড গ্রামের নির্মাণাধীন আরমাদা-২ কারখানায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, শিল্পপুলিশ ও থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। কারখানার ভেতরে বালুর স্তূপ থেকে তিন মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশ বলছে, মরদেহগুলো লুকানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। ঘটনার পর থেকেই নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের লোকজন পলাতক রয়েছে।
ওই তিন শ্রমিক হলেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কোছপিয়া গ্রামের পিয়াস মিয়া (২০), পাভেল সওদাগর (২৩) ও জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার বগারচর এলাকায় মনোয়ার হোসেন মিয়া (২৫)। তারা ওই কারখানায় ভবন নির্মাণের দায়িত্ব পালনকারী প্রতিষ্ঠান আলিফ এন্টারপ্রাইজের মজুরিভিত্তিক শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিকরা জানান, নির্মাণাধীন ছয়তলা ভবনের তৃতীয়তলায় সকাল থেকে বেশ কিছু শ্রমিক কাজ করছিলেন। নিচতলা থেকে রড তৃতীয়তলায় তুলছিলেন দুই শ্রমিক। তখন অসাবধানবশত কারখানার পাশঘেঁষে চলে যাওয়া উচ্চ ভোল্টের একটি বিদ্যুৎ লাইনে ওই রডের স্পর্শ লাগে। এতে মুহূর্তের মধ্যেই বিদ্যুতায়িত হন তিনজন। এদিকে শ্রমিকদের মরদেহ লুকানোর খবরে কারখানার সামনে মানুষের ভিড় জমে। স্থানীয় বাসিন্দা ও শ্রমিকরা এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে। পরে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা বলেন, মরদেহগুলো লুকানোর জন্য কারখানার ভেতরে বালুর স্তূপে চাপা দেওয়া চরম অন্যায়। পরে সেখান থেকে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা মরদেহগুলো উদ্ধার করেন।
শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার ইফতেখার রায়হান চৌধুরী বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বালুর স্তূপে চাপা দেওয়া অবস্থায় তিনজনের মরদেহ দেখতে পেয়েছি।
ময়মনসিংহ পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-২-এর (মাওনা জোনাল অফিস) (ডিজিএম) আহম্মদ শাহ আল জাবেদ বলেন, ১১ কেভি ভোল্টের বিদ্যুৎ লাইনের পাশে কাজ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তারা চাইলে আমরা শাটডাউন দিয়ে সহযোগিতা করতে পারতাম। এটা তাদের গাফিলতি ছিল।
এ ব্যাপারে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান আলিফ এন্টারপ্রাইজের কাউকে পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকে তারা লাপাত্তা।
গাজীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (কালিয়াকৈর সার্কেল) আজমীর হোসেন বলেন, ‘আমরা কারখানার ভেতর থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছি। মরদেহগুলো বালির স্তূপের নিচে ছিল। শ্রমিকদের অভিযোগ, লাশ লুকানোর চেষ্টা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।’