যে কারণে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে দুষছে বাফুফে

নারী ফুটবলের দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। তাদের সামনে সুযোগ ছিল প্যারিসে অনুষ্ঠিতব্য অলিম্পিকে অংশগ্রহণের। তবে তার আগে অবশ্যই পাড়ি দিতে হত বাছাইপর্বের পথ। যা হবে মিয়ানমারে। তবে ‘টাকার অভাবে’ সেখানে দল পাঠাতে পারছে না বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন।

মাত্র সাত মাস আগেই নেপালের মাটিতে স্বাগতিকদের হারিয়ে প্রথমবার সাফ জিতেছিলেন সাবিনা খাতুনরা। সেই জয় পুরো দেশকে ভাসিয়েছিল উৎসবে। সেই আনন্দে অনেক প্রতিষ্ঠান অর্থ পুরস্কার দিয়েছিল। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী এবং সেনাবাহিনীর থেকেও অর্থ পুরস্কার পেয়েছিলেন সানজিদা আক্তাররা।

অথচ কয়েক মাসের ব্যবধানে অর্থ সংকটের কারণে গুরুত্বপূর্ণ একটা টুর্নামেন্টে মেয়েদের না পাঠানোর সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকে। ফুটবলারদের জন্য হতাশার এই সময়ে নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকারের চেয়ে বাফুফে উল্টো দায় চাপাচ্ছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ওপর।

টুর্নামেন্টে দল পাঠাতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছে কেন আর্থিক সহায়তা চাইতে হবে বাফুফেকে? মেয়েদের ফুটবলে তো স্পনসর আছেই! গত ২৬ জানুয়ারি ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ৩ বছরের জন্য বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলকে পৃষ্ঠপোষকতা করার ঘোষণা দেয় বসুন্ধরা গ্রুপ।

তবে বাফুফের নারী ফুটবলের প্রধান মাহফুজা আক্তারের ব্যাখ্যা, চুক্তি অনুযায়ী নাকি পৃষ্ঠপোষকদের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার খরচ দেওয়ার কথা নয়, ‘চুক্তিটা হলো বাফুফে ভবনে মেয়েদের থাকা-খাওয়ার খরচে তারা কিছু অবদান রাখবে। আর মেয়েদের লিগটা স্পনসর করবে। আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার জন্য তারা টাকা দেবে না।’

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি বাফুফে এই সফরের জন্য অর্থসহায়তা চেয়েছিল বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) কাছেও। সেখান থেকেও ‘না’ শুনতে হয়েছে।

এ বিষয়ে বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন বলেছেন, ‘বিওএ বলেছে, টাকা না থাকলে দল যাবে না। মন্ত্রণালয় বলেছে, দিতে পারবে না। টাকা পেলে যাবে, না হয় যাবে না। আমি কোথা থেকে টাকা আনব?’

বিওএর মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজার সঙ্গে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেছেন, ‘বাফুফে বিওএকে কোনো চিঠি দেয়নি। মন্ত্রণালয়কে যে চিঠি দিয়েছে সেটার কপি দিয়েছে শুধু আমাদের। বিওএর কাছে কোনো আর্থিক সহায়তার আবেদন তারা করেনি। করলেও এত টাকা আমরা কোথা থেকে দিতাম?’

এ বিষয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে গত বুধবার তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বাফুফের চিঠি পেয়েছেন তিনি। তবে সরকারি টাকা এত দ্রুত পাওয়া সম্ভব হয় না। সেটা জেনেও পেশাদারিত্বের অভাব দেখিয়েছে দেশের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।